ঢাকাবুধবার , ২৪ এপ্রিল ২০২৪
  1. সর্বশেষ
  2. সারা বাংলা

মহেশখালীতে জুনিয়র শিক্ষক আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ

প্রতিবেদক
নিউজ ডেস্ক
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮:৪২ অপরাহ্ণ

Link Copied!

ফারুক আজম :-

মহেশখালীর শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শাপলাপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার এডহক কমিটির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল খালেক চৌধুরী জুনিয়র শিক্ষক’কে আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়ার এমন অভিযোগ উঠেছে।

প্রাপ্ততথ্যে জানা যায়, গত ০১/০২/২২ ইং তারিখে উক্ত মাদ্রাসার প্রধানের পদ শূন্য হলে ওই সময়ের এডহক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল খালেক চৌধুরী মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ আজিজুল হককে ১৬ জুলাই ২৩ ইং তারিখে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেন। গত ৯ জানুয়ারী/২৪ ইং তারিখে এডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। পুনরায় ১০ জানুয়ারী /২৪ ইং তারিখে এডহক কমিটি হলে তাতে ইউএনও মহেশখালী কে কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।

এই বিষয়টি জানাজানি হলে সাবেক সভাপতি পূর্বের(১৪/১২/২৩ইং) তারিখে একটি রেজুলেশন করে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি প্রদান করেন বলে অভিযোগ উঠেছে । ষড়যন্ত্র মূলকভাবে নিয়মবহির্ভূত অব্যহতি প্রদানের বিরুদ্ধে ১০ ফেব্রুয়ারী/২৪ইং তারিখে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ষড়যন্ত্রের শিকার মোহাম্মদ আজিজুল হক। অভিযোগ পত্রে উল্লেখিত তথ্যে দেখা যায়, গত ২০ ডিসেম্বর /২৩ ইং তারিখের একটা রেজুলেশনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে দায়িত্ব অবহেলার কারণে অব্যহতি প্রদান করে নতুনভাবে দায়িত্ব দিয়েছেন এবতেদায়ী শাখার জুনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম কে। অফিসে সংরক্ষিত তথ্য ও অফিস সহকারী শাহীন আক্তার এর সাথে যোগাযোগ করে করলে তিনি জানান গত ১৪ জানুয়ারী /২৪ ইং তারিখে তিনি রেজুলেশন রিসিভ করেন জুনিয়র শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম এর কাছ থেকে।

গত ২০ ডিসেম্বর /২৩ ইং তারিখের চিঠি একমাস পরে কেন অফিসে রিসিভ করতে হচ্ছে এমন প্রশ্ন করলে তিনি অনেকটা চাপের মুখে রিসিভ করেন বলে জানান । তবে ওই রেজুলেশনেও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আজিজুল হক। এ বিষয়ে বর্তমান অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) এবতেদায়ী শাখার জুনিয়র শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান -যোগ্য ও অভিজ্ঞ মনে করে কমিটির সভাপতি তাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়েছেন। জুনিয়র শিক্ষক হলেও তাকে দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন ইউএনও মহেশখালী ও মাদ্রসা এডহক কমিটির বর্তমান সভাপতি মীকি মারমা’ এমন টাই দাবি করেন তিনি। তবে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ০৮ নভেম্বর ২৩ ইং তারিখের মহাপরিচালক হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত পরিপত্রে দেখা যায়, কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান /সহকারী প্রধানের পদ শূন্য হলে ওই প্রতিষ্ঠানের জৈষ্ঠ শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন।

বিষয়টি সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকা সত্বেও কি কারণে এডহক কমিটির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল খালেক চৌধুরী তা উপেক্ষা করলেন এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সচেতন মহলে। একজন আইনের সেবক হয়ে কিভাবে নিয়মনীতি লঙ্ঘন করলেন? একটি আলিম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আরো ছয়জন সিনিয়র শিক্ষক থাকা সত্বেও কি কারণে এবতেদায়ী শাখার জুনিয়র শিক্ষক কে আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিলেন। এর পিছনের কারণ কি রহস্যময়? নবম গ্রেড এর শিক্ষক মোহাম্মদ আজিজুল হককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দিয়ে পনেরো গ্রেড এর এবতেদায়ী শাখার জুনিয়র শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম কে কি কারণে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে শিক্ষক প্রতিনিধি মোঃ বদিউল আলম জানান – ওই কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল খালেক চৌধুরী’ তার কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ছিলেন, পরবর্তী সেই কাগজ টাতে রেজুলেশন লিখে অন্যায়ভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কে অব্যহতি ও নতুনভাবে নিয়োগ প্রদান করেন।

এ বিষয়টি ৫ ফেব্রয়ারী এডহক কমিটির সভাপতি ও ইউএনও মহেশখালী কে সরাসরি বললেও তিনি কোন সিদ্ধান্ত দেননি বলেও জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে জানতে অ্যাডভোকেট আবদুল খালেক চৌধুরী’র সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান -ইতিপূর্বে যাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়েছিলেন তিনি ও অবৈধ বর্তমানে যাকে দায়িত্ব দিয়েছেন তিনিও অবৈধ। আইনত অযোগ্য বা অবৈধ কাউকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া যায় কিনা এমন প্রশ্ন করলে তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করবেন বলেন,কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন এমনটাই জানান সাবেক সভাপতি। মহেশখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান জানান -শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইউএনও মহেশখালী তাকে অবগত না করার কারণে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে কোন কিছু করতে পারছেনা।

এবতেদায়ী শাখার জুনিয়র শিক্ষককে আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া বিষয়ে জানতে চাইলে এডহক কমিটির সভাপতি ইউএনও মীকি মারমা জানান -পূর্বের কমিটির সভাপতি তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন, স্বাভাবিকভাবেই তিনি তাকে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিষয়কে কেন্দ্র করে অভিযোগ উঠেছিল সেটার তদন্ত প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করেছেন। এ-র প্রেক্ষিতে কোন সিদ্ধান্ত আসলে সেভাবেই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবেন বলে জানান তিনি। তবে আলিম মাদ্রাসায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবতেদায়ী শাখার জুনিয়র শিক্ষক এটি নজিরবিহীন বলে জানান সচেতন মহল।

1,315 Views

আরও পড়ুন