কিছু হতাশ মানুষের উদ্দেশ্যে : পারবো, পারবো এবং পারবো !!

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১:০২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২০

————————-
জীবন যেন হঠাৎই থমকে গেছে। যাচ্ছে তাই এক অবস্থা। সময় মুহূর্ত গুনে গুনে পেরুচ্ছে। বুঝতে পারছি সময় আমার প্রতি বিষণ্ণ, বিমুখ। আমি নিজেও, নিজের প্রতি। চারদিক থেকে কলরব আসে, আমি পর্যন্ত যেন পৌঁছায় না। মনের মধ্যে কিছু একটা অমানুষিক নির্যাতন চলছে, তার আওয়াজ ছাড়া কিছু শোনা যায় না। অনেকে মাঝেমাঝে আমার খোঁজ নিত। কিছুদিন হলো তাও বন্ধ হয়েছে। খোঁজ বলতে কেমন আছি? আড্ডা গল্পে দেখা যায় না কেন? এইসব, এই পর্যন্তই। তারা কখনই আমার এ পরিবর্তন খেয়াল করে নি। পরিবার খেয়াল করেছিল, এখন সে সময়,সে অবস্থা পেরিয়েছে। তাঁদের কাছে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে সব। কিন্তু আমি কেন যেন পারছি না। বাইরে বের হতে ইচ্ছা করে না আর, সবসময় ইচ্ছা হয় নিজেকে বন্দী করে রাখি চার দেয়ালের কোনো এক কোণে। করিও তাই। মাঝেমাঝে পরিবারের কথায় একটু বের হতে হয়, অনিচ্ছাকৃত বলা চলে। কিন্তু পায়ে শক্তি পাই না। একটু হাঁটতেই হাঁপিয়ে উঠি। একে তো মন চায় না, তারপর মনে হয় কে যেন হঠাৎ দেখে ফেলে, ডাকে আমায়। আমি শুনতে চাই না কারো ডাক।

Advertisement

ভাবনাগুলো কেমন যেন ভোঁতা হয়ে গেছে। দিনদিন চিন্তাশক্তি হারাচ্ছি। ভালো কিছু মাথায় আসতে চায় না, আসে না। গোপনে আমাকে নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলে, হাসাহাসি করে এও জানি। কিন্তু, আমার কিছু করার নেই, করতে পারি না। দিনগুলো এলোমেলো ভাবেই কেটে যাচ্ছে। নিজের যত্ন নেওয়া হয় না, চাই ও না খুব একটা আর। ঠিকমতো খাওয়া হয় না, ইচ্ছা করে না খেতে। মুখ তেতো হয়ে ওঠে কেন যেন। হয়তো কিছু কথা ভেবে। ছন্নছাড়া হয়েছি নিজে। দিন পেরিয়ে যখন রাত আসে, খুব কান্না পায়, ভিষন রকম কান্না পায়। মনের মাঝে আঘাতের সেই কষাঘাত যেন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। যেন প্রশ্নসব বেড়িয়ে এসে আমার সামনে আর্তনাদ করতে থাকে। অন্ধকারে আমাকে কেউ দেখে না। দেয়ালের ওপাশে আমার আর্তনাদ, হাহাকার যেতে পারে না।সারাদিন জমা হওয়া কষ্টগুলো রাত হলে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না, প্রচণ্ড মাথাব্যথা করে, দেহ ছটফট করে আমার। তারপর সকাল হয়, দিনের আলো, রাতের কথার নাগাল পায় না। কেউই পায়না। আবার একটা দিন যায়, রাত আসে………. জীবনটা মূল্যহীন হয়ে পড়েছে। জীবন আমার থেকে মুখ ফিরিয়েছে, আমিও ফেরাতে চাই জীবন থেকে নিজেকে। হারিয়ে যেতে চাই সব ছেড়ে। মাঝেমাঝে মনে হয় সুইসাইড করে ফেলি, কি হবে আমার এ জীবন রেখে। পরিবারটার কথা ভেবেই সেটাতে ভাঁটা পড়েছে। এখন শুধু নিষ্প্রাণ দেহের মতো নিজেকে বহন করে চলেছি, এভাবেই চলতে হবে। কারণ,
আমি পারি নি। যা চেয়েছিলাম, তা পেলাম না। স্বপ্ন দেখেছিলাম, পুরণ হলো না। অনেক ইচ্ছা ছিলো, কিন্তু ওই যে, জীবন আমার থেকে মুখ ফিরিয়েছে যে! তাই আজ, প্রতিটা মুহূর্ত আমি না পাওয়ার অসুখে অসুস্থ। অনেকে এটার কি যেন একটা নাম দিয়েছে, হ্যা, হতাসা, ডিপ্রেশন। হ্যা, আমি হতাস, ভিষণ রকম। আমার থেকে হতাস মানুষ এই পৃথিবীতে দ্বিতীয়জন নেই। আমার সময় চলতে চায় না, জীবন এগোতে চায় না, দেহ নিষ্প্রাণ হওয়ার উপক্রম। আমার কথা কেউ বুঝবে না, আমার কষ্ট কেউ দেখবে না। কারণ, আমি যা চেয়েছিলাম, তা পাই নি। না পাওয়ার কষ্টের তীব্রতা কেউ বুঝবে না, কেউ না।
জি, আমি জানি আপনি আপনার প্রিয় কিছু পান নি, হয়তো আর কখনো তা পাবেন না। আপনার দেখা স্বপ্ন গুলো সব ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। আপনি আজ স্বপ্ন পূরণে অসফল একজন মানুষ। কিন্তু, পৃথিবীতে কি আপনি একাই একজন মানুষ, যে অসফল হয়েছে তার স্বপ্ন পূরণে?
না, অনেকেই হয়েছে, অসংখ্য মানুষ জীবনে অসফলতার সাধ গ্রহণ করেছে। কিন্তু তারা পরবর্তীতে পৃথিবীর বুকে তাদের সফলতার ছাপ নির্দিষ্ট করে গেছে। তাদের মধ্যে থেকে কয়েকজন সম্পর্কে কিছু তথ্য উপস্থাপন করলাম।
★ আব্রাহাম লিংকনঃ
১৮০৯ সালে জন্ম নেয়া এই মানুষটি আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্ট। আমেরিকার সর্বকালের সেরা প্রেসিডেন্ট হিসেবে ধরা হয় তাঁকে। আমেরিকায় দাসদের স্বাধীনতা লাভের পেছনে তাঁর অবদানই সবচেয়ে বেশি। রাজনীতি ও খ্যাতির দিক দিয়ে তিনি নি:সন্দেহে পৃথিবীর ইতিহাসের সফলতম মানুষদের একজন। কিন্তু তাঁর শুরুটা কিন্তু ব্যর্থতার গল্প দিয়েই।

২৩ বছর বয়সে তাঁর চাকরি চলে যায়। সেই সময়ে তিনিতাঁর প্রথম নির্বাচনেও হারেন। ২৯ বছর বয়সে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ এর সদস্য হওয়ার জন্য নির্বাচন করে হারেন।

১৮৪৮ সালে, ৩৯ বছর বয়সী লিংকন ওয়াশিংটনের জেনারেল ল্যান্ড অফিসের কমিশনার হওয়ার জন্য নির্বাচন করে পরাজিত হন। ৪৯ বছর বয়সে সিনেটর হওয়ার জন্য নির্বাচনে দাঁড়িয়ে শোচনীয় ভাবে পরাজিত হন। এত ব্যর্থতার পরও তিনি রাজনীতি না ছেড়ে চেষ্টা করে যান। অবশেষে ১৮৬১ সালে, ৫২ বছর বয়সে তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগের প্রায় পুরোটাই ছিল ব্যর্থতার গল্প। কিন্তু এরপর তিনি ইতিহাস বদলে দেন।

★ আলবার্ট আইনস্টাইনঃ
পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত ও সফল বিজ্ঞানীদের একজন তিনি। তিনি এতটাই সফল যে, ‘বিজ্ঞানী’ শব্দটা মাথায় আসলেই বেশিরভাগ মানুষ তাঁর কথা ভাবেন। পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম সেরা মেধাবী বলা হয় তাঁকে। কিন্তু ১৮৭৯ সালে জন্ম নেয়া এই জার্মান জিনিয়াসকে একটা সময় পর্যন্ত গর্ধভ মনে করা হত। কিছুতেই তিনি ভালো ছিলেন না। কথা বলা শিখতেই তাঁর ৪ বছর লেগেছিলো। পড়াশুনায় ছিলেন একদম কাঁচা। ১৬ বছর বয়সে জুরিখের সুইস ফেডারেল পলিটেকনিক স্কুলের ভর্তি পরীক্ষায় শোচনীয় ভাবে ফেল করেন।

ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময়ে প্রতিটি বিষয়ে তিনি এতই বাজে রেজাল্ট করতেন যে, একাধিক বার পড়াশুনা বাদ দেয়ার চিন্তা করতে হয়েছিল। মারা যাওয়ার সময়ে তাঁর বাবার একমাত্র দুঃখ ছিল যে এই গর্ধভ ছেলে জীবনে কিছুই করতে পারবে না। বাবার এই কথায় আইনস্টাইন বহুদিন ধরে মনে কষ্ট চেপে রেখেছিলেন।

কোনও কাজ না পেয়ে তিনি বাধ্য হয়ে ইন্সুরেন্স সেলস ম্যানের কাজ নেন। কোনও কাজ না পারলে মানুষ এই ধরনের চাকরি করতো। ২ বছর পর তিনি পেটেন্ট অফিসে কাজ পান। যেখানে নতুন ডিভাইস পেটেন্ট করার আগে পরীক্ষা করা হতো।

কিন্তু একটা সময়ে এই মানুষটাই পৃথিবীর চেহারা পাল্টে দিয়েছেন। তাঁর সেই ‘ডাল ব্রেন’ নিয়ে তিনি পদার্থ বিজ্ঞানের বেশ কয়েকটি মূল সূত্র সৃষ্টি করে গেছেন। বিজ্ঞানে অবদানের জন্য নোবেল প্রাইজ জিতেছেন। প্রমাণ করেছেন যে চেষ্টা করলে সবাইকে দিয়েই সবকিছু সম্ভব।

★ বিল গেটসঃ
যদিও এখন পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি আমাজনের জেফ বেজোস, কিন্তু এখনও অনেকে মনে করেন যে বিল গেটসই পৃথিবীর ধনীতম মানুষ। কারণ, এতদিন ধরে তিনি বিশ্বের এক নম্বর ধনী ছিলেন যে, অন্য কেউ তাঁর জায়গা দখল করেছে – এটাই অনেকে জানে না।

আজকের বিশ্বের কম্পিউটারের বিপ্লবের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান যাদের, তাঁদের অন্যতম হলেন তিনি। এইযে লেখাটি পড়ছেন, এটিও লেখা হয়েছে তাঁর বানানো অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ কম্পিউটারে, তাঁর বানানো মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ব্যবহার করে। পৃথিবীর বেশিরভাগ কম্পিউটার এখনও তাঁর কোম্পানীর সফটঅয়্যারে চলে।

কিন্তু আপনি কি জানেন, বিল গেটসের প্রথম প্রজেক্ট অপমানজনক ভাবে ব্যর্থ হয়েছিল? মাইক্রোসফট এর কো-ফাউন্ডার এবং বাল্যবন্ধু পল এ্যালেন আর বিল গেটস মিলে “Traf-O-Data” নামে একটি মেশিন তৈরী করেছিলেন যেটি ট্রাফিক কাউন্টার গুলো থেকে ডাটা সংগ্রহ করে সরকারি ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারদের তা গুছিয়ে সরবরাহ করবে। এমনিতে কাজটি হাতে করতে হতো।

এই যন্ত্রটির ওপেনিং এ স্বয়ং শিয়াটলের ট্রাফিক সুপারভাইজার এসেছিলেন। কিন্তু যন্ত্রটি চালু করার পর কোনওভাবেই কাজ করছিলো না। এমন লজ্জা আর অপমান গেটসের জীবনে আর আসেনি। কিন্তু তাঁরা থেমে যাননি। এই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়েই বিল আর পল মিলে পরে মাইক্রোসফটকে সফল করেন
★ চার্লি চ্যাপলিনঃ
১৮৮৯ সালে জন্ম নেয়া বিশ্ব বিখ্যাত অভিনেতা ও পরিচালক চার্লি চ্যাপলিনকে তো সবাই চেনে। সিনেমার শুরুর সময় থেকে আজ পর্যন্ত সব সিনেমা পাগল তাঁকে ভালোবাসে ও শ্রদ্ধা করে। পৃথিবীর সফলতম অভিনেতা ও পরিচালকদের একজন তিনি। কমেডির রাজা বলা হয় তাঁকে। – এসব কথাও সবাই জানে। কিন্তু কিছু কথা অনেকেই জানে না।
চ্যাপলিনের বাবা ছিলেন একজন পাঁড় মাতাল। কোনও কাজ করতেন না, দিন-রাত মদ খেয়ে পড়ে থাকতেন। চ্যাপলিনের ২ বছর বয়সে তাঁর বাবা বাড়ি ছেড়ে চলে যান। মা নামেমাত্র একটি কাজ করতেন যাতে সংসারের খরচ কোনওভাবেই মিটতো না।

৭ বছর বয়সে চার্লি “ওয়ার্কহাউজ” এ যেতে বাধ্য হন। সেই সময়ে বৃটেনে গরিবদের জন্য একটি ব্যবস্থা চালু ছিল, যেখানে পরিশ্রমের বিনিময়ে খাবার ও শোয়ার জায়গা দেয়া হত।

কিছুদিন পর আবার চার্লি সেখান থেকে ফিরে আসেন এবং আবার তাঁর ৯ বছর বয়সে তাঁর মা পাগল হয়ে যান, এবং তাকে মানসিক হাসপাতালে যেতে হয়। মায়ের মানসিক হাসপাতালে যাওয়ার কারণে চ্যাপলিনকে আবারও ওয়ার্কহাউজে ফিরে যেতে হয়। কিছুদিন পর তাঁর বাবা লিভার নষ্ট হয়ে মারা যান।

এরপর তাঁর মায়ের পাগলামি এতই বেড়ে যায় যে তাকে সব সময়ের জন্য পাগলা গারদে বন্দী করে রাখার প্রয়োজন পড়ে। চ্যাপলিন ও তাঁর ভাই সিডনি একদম পথে বসে পড়েন। দিনের পর দিন না খেয়ে রাস্তায় ঘুরে কাটান।

এভাবে চলতে চলতেই এক সময়ে তিনি মঞ্চে কাজ নেন। বিভিন্ন মঞ্চ নাটকে অভিনয় করতে করতে নিজের কমেডি প্রতিভাকে শক্তিশালী করেন। পরে হলিউডে পাড়ি জমিয়ে সর্বকালের সেরা নির্বাক অভিনেতা হয়ে ওঠেন।

★ কনোনেল স্যান্ডার্সঃ
কেএফসির লোগো নিশ্চই দেখেছেন। লোগোর ফ্রেঞ্চকাট দাড়িওয়ালা হাসিমুখের লোকটিই কনোনেল স্যান্ডার্স। তিনি কেএফসি নামক বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইনের প্রতিষ্ঠাতা। আপনি যদি আপনার এলাকায় কেএফসির একটি শাখা খুলতে চান, তবে আপনাকে শুধু তাদের ফ্রেঞ্চাইজি ব্যবহারের জন্য ৪৫ হাজার ডলার বা প্রায় ৩৮ লাখ টাকা দিতে হবে। এতবড় কোম্পানী যাঁর রেসিপি থেকে শুরু, সেই রেসিপি বিক্রী করতে তাঁকে ১০০৯ বার ব্যর্থ হতে হয়েছিল।

৫ বছর বয়সে বাবা হারানোর পর থেকে তাঁর সংগ্রাম শুরু হয়েছিল। নিজের রান্নার দক্ষতার কারণে কাজ পেতে কখনও অসুবিধা হয়নি। কিন্তু যখনই নিজে কিছু করতে গেছেন – তখনই ব্যর্থ হয়েছেন। ১৯৩৯ সালে ৪৯ বছর বয়সে অনেক কষ্টে একটি মোটেল শুরু করেন। মোটেলটি৪ মাস চলার পরই আগুন ধরে ধ্বংস হয়ে যায়। ৫০ বছর বয়সে তিনি তাঁর সিক্রেট চিকেন ফ্রাই রেসিপি নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন।

১৯৫৫ সালে তাঁর আরও একটি উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। তিনি একটি চার রাস্তার মোড়ে রেস্টুরেন্ট খুলেছিলেন। ভালোই চলছিল সেটি। কিন্তু নতুন রাস্তা হওয়ার ফলে সেই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলা বন্ধ হয়ে যায়, ফলে রেস্টুরেন্টও বন্ধ করতে হয়। সেই বছর ৬৫ বছর বয়সী কনোনেলের হাতে মাত্র ১৬৫ ডলার ছিল। এরপর তিনি তাঁর চিকেন রেসিপি বিক্রী করার চেষ্টা করেন। ১০০৯টি রেস্টুরেন্ট তাঁকে ফিরিয়ে দেয়ার পর একটি রেস্টুরেন্ট তাঁর রেসিপি নিয়ে কাজ করতে রাজি হয়। বাকিটা তো বুঝতেই পারছেন।

★ টমাস আলভা এডিসনঃ
আজকের পৃথিবীতে এমন কোনও শিক্ষিত মানুষ নেই যেটমাস আলভা এডিসন এর নাম জানে না। বৈদ্যুতিক বাতি, চলচ্চিত্র, অডিও রেকর্ডিং, এনক্রিপটেড টেলিগ্রাফ সিস্টেম, আধুনিক ব্যাটারী – এধরনের হাজারের ওপর আবিষ্কার করে তিনি পৃথিবীকে ঋণী করে গেছেন।

১৮৪৭ সালে আমেরিকার ওহাইওতে জন্ম নেয়া এই জিনিয়াসের ছোটবেলায় ‘স্কারলেট ফিভার’ নামে একটি জটিল অসুখ হয়, যার ফলে তিনি কানে প্রায় শুনতেনই না।তাঁর স্কুল জীবন ছিল মাত্র ১২ সপ্তাহের। কারণ তাঁর পড়াশুনার পারফরমেন্স এতই খারাপ ছিল যে স্কুলে আর তাঁকে রাখতে চাইছিল না। স্কুল থেকে দেয়া চিঠিতে লেখা ছিল যে টমাস পড়াশুনায় খুবই অমনযোগী ও তার মেধাও ভালো নয়, এই ধরনের দুর্বল ছাত্রকে স্কুলে রাখা যাবে না। কিন্তু টমাসের মা চিঠি খুলে ছেলেকে শুনিয়ে পড়েছিলেন যে, টমাসের মেধা সাধারণ ছাত্রদের চেয়ে অনেক বেশি, এত বেশি মেধাবী ছাত্রকে পড়ানোর ক্ষমতা সাধারণ স্কুলের নেই। কাজেই তাকে যেন বাসায় রেখে পড়ানো হয়। মায়ের থেকে পাওয়া এই আত্মবিশ্বাস থেকেই টমাস পরেজটিল জটিল সব বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করতে থাকেন। এবং এই আত্মবিশ্বাসের কারণেই তিনি কোনও কিছুতেই ব্যর্থতাকে মেনে নিতেন না। বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কারের সময়ে ১০ হাজার বার তাঁর এক্সপেরিমেন্ট ব্যর্থ হয়েছিল। কিন্তু তিনি তবুও চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। কারণ ছোটবেলায় তাঁর মা তাঁর মনে এই বিশ্বাস ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন যে, কিছুই অসম্ভব নয়।

কটু ভাষায় লেখা সেই চিঠিটি এডিসন অনেক বছর পরে খুঁজে পেয়েছিলেন, তাঁর মা সেটি লুকিয়ে রেখেছিলেন। ততদিনে মা মারা গেছেন। টমাস হয়ে উঠেছেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও ধনী উদ্যোক্তা। চিঠিটি পড়ে টমাস সব বুঝতে পারেন। এবং নিজের ডায়েরীতে লেখেন, “টমাস আলভা এডিসন ছিল একজন এক মেধাহীন শিশু। একজন অসাধারণ মায়ের প্রেরণায় সে হয়ে উঠে যুগের সেরা মেধাবী।“

★ উইনস্টন চার্চিলঃ
হয়তো আপনি জানেন না যে এই লোকটি কে – কিন্তু নাম একবার না একবার অবশ্যই শুনেছেন। উইনস্টন চার্চিলের নাম শোনেনি – এমন মানুষ আধুনিক জগতে খুব কমই আছেন। তিনি আসলে বৃটেনের ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত রাজনীতিবিদদের একজন। ১৮৭৪ সালে জন্ম নেয়া চার্চিল ১৯৫১ থেকে ১৯৫৫ পর্যন্ত বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ব্যর্থতা ও সাফল্য নিয়ে তাঁর অনেকগুলো বানী পৃথিবীর সেরা বানীগুলোর মধ্যে জায়গা পেয়েছে। ব্যর্থতা নিয়ে তাঁর বিখ্যাত উক্তি, “ব্যর্থতা মানেই সব শেষ নয়; ব্যর্থতার পরও এগিয়ে যাওয়ার সাহস রাখতে হবে” বা“সাফল্য মানে উ‌ৎসাহ না হারিয়ে এক ব্যর্থতা থেকে আরেক ব্যর্থতায় যাওয়ার যাত্রা” – এগুলো নিশ্চই আপনার শোনা। ব্যর্থতা নিয়ে করা সেরা উক্তিগুলোর বেশ কয়েকটি তাঁর কাছথেকে আসার কারণ, তিনি ব্যর্থতাকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। এই সফল মানুষটির জীবনের অনেকটা জুড়েই আছে ব্যর্থতার গল্প।

রয়্যাল মিলিটারি কলেজে দুইবার ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে তিনি ফেল করেন। ৩য় বার যখন সুযোগ পান, তখন তাঁকে অনেক নিচের একটি ডিভিশন বেছে নিতে হয়েছিল। যদিও তারপর তিনি নিজের চেষ্টা দিয়ে অনেক ওপরে ওঠেন।

রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ৫টি নির্বাচনে হারেন বৃটেনের ইতিহাসের অন্যতম এই রাজনীতিবিদ।

জানলে অবাক হবেন, ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই বক্তার কথা বলতেই সমস্যা হত। বহুদিন তিনি ডিপ্রেশনে ভুগেছেন। ভাষণ দেয়ার পর সমস্যা হওয়ার কারণে, তাঁর জন্য বিশেষ ওষুধও বানাতে হয়েছিল। কিন্তু এর কিছুই তাঁর চেষ্টা করা থামাতে পারেনি।
(তথ্যসমূহ সংগৃহীত)
আপনি বলবেন আমার জীবনটা এঁদের মতো নয়। আসলেই তাই, এঁদের জীবনের মতো আপনার বা আমার জীবন নয়, জীবনে পরাজয় কে ডিঙ্গিয়েও সফল হওয়া যায় এতটুকু বোঝানোর জন্য তাঁদের কথা বলা।
এঁদের কথা পড়লে আপনার কতটুকু নিজের প্রতি খেয়াল জাগবে জানি না। এদের কথা নাহয় বাদই দিলাম। আপনার কথা বলছি, শুনুন। আপনি নিজেই ব্যর্থতা কাটিয়ে সফলতায় আসা এক জলজ্যান্ত উদাহরণ। আপনিই যখন হাঁটতে গিয়ে হাজারবার পড়ে গিয়েও উঠে দাড়িয়ে আবার হাঁটার স্বপ্ন দেখে পা বাড়ালেন, তবেই না আপনি হাঁটা শিখলেন। একটু বড় হওয়ার পর সাঁতার শিখতে গিয়েও বেহাল দষা আপনার। একবারেই সাঁতার শেখেন নি আপনি, জলে ডুবে পানি খেতে খেতেও সাঁতার শেখার স্বপ্ন আপনার মাঝে বেঁচে ছিলো বলেই আপনি সাঁতার শিখতে পেরেছেন। যখন আরো বড় হলেন, সাইকেল চালানো শিখতে গিয়ে কতবার পড়ে গেলেন সাইকেল সহ। হাত পা জখম হলো, ছিড়ে গেল হাত পায়ের চামড়া। ভিষণ ব্যথা আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারে নি। স্বপ্নের জোড়েই আঘাত কে উপেক্ষা করে চালানো শিখে গেলেন আপনি। এরকম জীবনের প্রতি ক্ষেত্রেই আপনি যখনই আপনার স্বপ্নকে প্রাধান্য দিয়েছেন, সেটা পূরণ হয়েছে।
তবে আজ কেন আপনি ব্যর্থ? কখনো ভেবেছেন, তথন সফল হয়েছিলেন তবে আজ কেনো ব্যর্থ? ভাবেন নি হয়তো। ভাবেননি হয়তো যে আপনার দৃঢ় প্রত্যয় এখানে আপনি ব্যবহার করতে পারেননি। ছোটবেলার সেই সফলতার পিছনে আপনি যেভাবে দৃঢ় প্রত্যয়ী ছিলেন এখন হয়তো সেই প্রত্যয় ধরে রাখা আপনার পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে নি। ব্যর্থতার একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ স্বপ্নের সঠিক মূল্যায়ন না করা। আমরা স্বপ্ন দেখি ঠিকই, কিন্তু আমরা স্বপ্ন পূরণের জন্য কাজ করতে খুব একটা আগ্রহী নই। আমরা নিতান্তই ভাগ্য নির্ভর হয়ে পড়েছি। কিন্তু এটা আমরা বুঝতে পারি না যে, রংপুরের বাসে উঠে ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে ঢাকায় যাওয়া কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। আবার এমন হয়, আমরা স্বপ্ন পূরণে ব্যর্থ হওয়ার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক কিছু ঘটনা প্রবাহ কে দায়ী করি। কিন্তু আসলে দেখা যায় যে পূর্বেই আমাদের কিছু ভুল ছিলো।অর্থাৎ আমরা প্রথম দিকেই এমন কিছু ভুল করেছিলাম, যা আমাদের বর্তমান চেষ্টার ওপর জল ঢেলে দিয়েছে। মূলত সফল হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটা পদক্ষেপই যে আমাদের জীবনে প্রভাব বিস্তার করে এটা আমরা বুঝতে চাই না। ব্যর্থ হওয়ার আরেকটা কারণ হতে পারে সময়ের সঠিক মূল্যায়ন না করা। আমরা সময়ের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে অজ্ঞ। এ জন্য আমরা বারংবারই ভুল করে চলি।
আসলে একটা কথা আপনি কতটা বিশ্বাস করবেন জানি না, তবে ব্যর্থ হলে আপনি আশেপাশের বা প্রকৃতির এমন এমন কিছু রূপের সাথে পরিচিত হবেন, যেটা আপনি ব্যর্থ না হলে কখনোই বুঝবেন না। প্রকৃতি যে সবসময় আপনার পক্ষে নয়, এটা খুব ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। আপনার থেকে প্রকৃতি মুখ ফিরিয়ে নেবে। আশেপাশে প্রিয় মুখ গুলো অচিরেই পাল্টে ফেলবে চিরচেনা স্বভাব। যাদের সঙ্গ না পেলে মনে হতো জীবনে বুঝি চলাই সম্ভব নয়, দেখবেন তারা দিব্যি আপনাকে ছেড়ে কেটে পড়েছে। জীবনের সাথে আপনাকে ছাড়াই মানিয়ে নিয়েছে। আপনার দিকে ঘুরে তাকানোর সময় বা ইচ্ছে কোনোটাই তাদের নেই। তারা যেন ভিষণ ব্যস্ত নিজের জীবন নিয়ে। আপনার কোনো অস্তিত্ব তাদের কাছে আদোও ছিলো কি না এ নিয়ে আপনি সন্দেহে ভুগবেন তাদের আচরণ দেখে। আপনি ঠিক কেমন আছেন এটা জিজ্ঞেস করার মানুষ ও চোখে পড়বে না। ব্যর্থ হয়ে দেখুন, দুঃসময়ে আপনার পাশে দাঁড়ানোর থেকে আপনার সমালোচনা করা বা আপনাকে নিয়ে উপহাস করাই বেশি প্রাধান্য পাবে অনেকের কাছে। আপনি জীবনে কিছুই পারেন নি, আপনি একটা অকালকুষ্মাণ্ড, গর্ধব, ইত্যাদি ইত্যাদি। আপনার ব্যর্থতার সময় আপনার পাশে থেকে, আপনাকে সান্ত্বনা দেওয়া বা হতাশা দুর করে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে সাহায্য করার পক্ষে গুটিকয়েক মানুষ ছাড়া কাউকেই পাবেন না আপনি। বাস্তবতা যে ভিষণ কঠিন, এটা আপনি হারে হারে টের পেয়ে যাবেন।
তবে আমি আপনার ব্যর্থ হওয়ার কিছু ভালো দিকও দেখাতে পাড়ি। এর সবথেকে বড় উপকার হলো, আপনি আপনার দূর্বলতা গুলো উপলব্ধি করতে পারবেন। কেন ব্যর্থ হলেন, এটা খুঁজে বের করা খুবই জরুরী। নাহলে যতবারই আপনি চেষ্টা করুন না কেন, সফল হতে পারবেন না। আপনি যখন ভুল গুলো বের করতে পারবেন, তখনই তা সংশোধন করে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন। একটা কথা আছে, হারলেন তো কিছু শিখলেন। তবে যদি আপনি হার থেকে কিছু শিখতে না পারেন, তবে আপনার জন্য তা খুব ভয়াবহ পরিণাম ডেকে আনবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত থাকুন। ব্যর্থ হওয়ার আরেকটি ভালো দিক হলো আপনি সফলতা কে মূল্যায়ন করতে পারবেন। ব্যর্থ না হলে কেউই আসলে সফলতার মানে বুঝতে পারে না। মানুষ খুব সহজে যেটা পায়, সেটার মূল্য তার কাছে নিতান্তই কম এটা বিশ্বাস করুন। এর অহরহ প্রমাণ আপনার চারপাশে চেয়ে দেখলেই বুঝতে পারবেন। তারপরও ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই, একটা স্বাভাবিক পরিবারে থাকা,বাবা মায়ের ভালোবাসায় মানুষ হওয়া একটা ছোট্ট ছেলে বা মেয়ে জীবন টা কে যেভাবে পায়, রাস্তায় রাস্তায় ঘুড়ে ময়লার ড্রেনে থাকা ময়লা কুড়িয়ে বিক্রি করে করা বা ফুটপাতে বা বস্তিতে কোনোরকমে জীবনের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকা বাচ্চা সেই জীবন পায় না। আদরে থাকা ওই বড়লোক পরিবারের ছোট্ট ছেলেটি বা মেয়েটি বাহারি খাবার যত সহজে পায়, রাস্তার ওই ছোট্ট ছেলেটি বা মেয়েটি কিন্তু তা পায় না। ফলস্বরুপ, বড়লোকের সন্তান তার খাবারের উচ্ছিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলে দেয়, আর রাস্তায় বড় হওয়া সন্তানটি অনেক আনন্দে সেগুলো খায়। এটাই পার্থক্য। সে যাই হোক, আমি আজ সে বিষয়ে যেতে চাই না, আপনাকে শুধু সফলতার মূল্য বোঝাতে চাই। ব্যর্থ হলে আপনি সফলতার মূল্য বুঝতে পারবেন। এইজন্যই, জেফ বেজস বলেছিলো ‘fail first’। আমরা যেমন, অন্ধকার না থাকলে আলোর মূল্য বুঝতে পারতাম না, বা কদর্যতা না থাকলে সৌন্দর্য কে বুঝতে পারতাম না, তেমনি ব্যর্থতা না থাকলে সফলতা কে মূল্যান করতে পারতাম না। ব্যর্থতা আপনাকে সফলতার মূল্য বোঝাবে, দৃঢ় প্রত্যয়ে পুণরায় লড়ার শক্তিও যোগাবে।
আর, যদি আপনি ব্যর্থতাকে ধরে রাখতে চান, তাহলে শুনুন,আপনার জন্য খুব ভয়াবহ পরিণাম অপেক্ষা করছে। ব্যর্থতার চিন্তা আপনর মনোবল কে একেবারে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
নিজের ব্যর্থতা কে নিয়ে যত ভাববেন, ততোই মনে হবে যে আপনি কিছু করার সক্ষমতাও হারিয়ে ফেলছেন। আপনার সব প্রাপ্তি এক নিমেষেই উধাও হয়ে যেতে চাইবে। ঘুরেফিরে বারবার না পাওয়াই আপনার মাথায় গেঁথে যাবে। তখন, আপনি শুধু হারকেই বড় করে দেখবেন, দেখবেন না এমন হাজারো পরাজয় কে উপেক্ষা করে আপনি সফল হতে পারেন। আপনি সফল হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। জীবনের একটি স্তরের পরাজয় যে বাকি জীবনের পরাজয় নয়, বাকি জীবনে এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন যা পাননি পরবর্তীতে তার থেকে অনেক ভালো কিছু পাওয়ার সামর্থ্য আপনি রাখেন এই মনোবল ভেঙ্গে খানখান হয়ে যাবে আপনার। শুধুমাত্র ‘পারিনি’ নামক এই নেতিবাচক মনোভাবের কারণে। এর সাথে আপনি অবমূল্যায়ন করতে থাকবেন আপনার সময়ের, বর্তমান ও ভবিষ্যতের। ব্যর্থতার দুশ্চিন্তা আপনার সবকিছু এলোমেলো করে ছাড়বে। অতিতকে আপনি সংশোধন করতে পারবেন না এটা আপনার মাথা থেকে উবে যাবে আর আপনার কাছে বর্তমান হয়ে যাবে অসহনীয়, মূল্যহীন। আপনি অতিতের জন্য বর্তমানের প্রতিটা সেকেন্ডে, প্রতিটা মিনিট অবহেলায় অপচয় করে ফেলবেন,নষ্ট করে ফেলবেন প্রতিটা মুহূর্ত ও প্রতিটা মুহূর্তের কার্যকারিতা। তখন আপনার মাথায় একবারো এই চিন্তা আসবে না অতিতে কিছু না পাওয়ার জন্য আপনি যে বর্তমান কে নষ্ট করে দিচ্ছেন, এই বর্তমান কে কাজে লাগালে আপনি অতিতে না পাওয়া সেই জিনিষটার থেকে শতগুনে ভালো কিছু পেতে পারেন যেটার তুলনায় না পাওয়া ওই জিনিষটা একদমই মূল্যহীন! অতিতের ব্যর্থতার চিন্তা আপনার বর্তমান কেই যে শুধু নষ্ট করবে তা নয়। এজন্য আপনার ভবিষ্যৎ ও হুমকির মুখে পড়বে। কারণ, বর্তমানই ভবিষ্যতের ভিত্তি। আর, বর্তমান কে কাজে না লাগাতে পারলে ভবিষ্যৎ কখনোই সুখকর হবেনা জেনে রাখুন।
ব্যর্থতার অধিচিন্তা আপনার জীবন সম্পর্কে বিতৃষ্ণার সৃষ্টি করবে। ব্যর্থতার মানসিকতা আপনার নিজের সক্ষমতা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করবে। আপনি এক সময় মেনেই নেবেন যে আপনাকে দ্বারা আর কিছুই সম্ভব নয়। এই মানসিকতা আপনার সকল উদ্যমী চিন্তা চেতনা কে নষ্ট করে দেবে। আপনার জীবন কে মূল্যহীন করে তুলবে। যার ফলাফল কেমন হবে সেটা আন্দাজ করলেই আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
তবে, তবে আমি কি করবো? কিভাবে পারবো?? প্রশ্ন উঠতে পারে আপনার মনে। এর উত্তর হলো, আপনিও পারবেন, আপনি চাইলেই পারেন। মানুষ চাইলে কি না পারে? (শুধু আল্লাহ যেগুলো কে সবার জন্যই অসম্ভব রেখেছেন সেগুলো ছাড়া)। তবে তার জন্য আপনাকে খুবই প্রথমে পারার মানসিকতা তৈরী করতে হবে। এই মানসিকতা কেউ আপনাকে তৈরী করে দেবে না, আপনার নিজেকে তৈরী করে নিতে হবে। আপনি নিজেকে যতটা দূর্বল ভাববেন, আপনি ঠিক ততোটাই দূর্বল হয়ে পরবেন। কিন্তু যখন দূর্বলতা কে উপেক্ষা করে পারার মানসিকতা গড়ে তুলবেন, তখনই আপনি পারবেন, তার আগে নয়। এই মানসিকতা তৈরী করতে হলে প্রথমেই আপনাকে বলতে হবে আমি পারবো, আমিও পারবো। আপনি হয়তো জানেন না, মাঝে মাঝে নিজেকে এই অনুপ্রেরণা যোগানো একটি কথাই, আপনাকে মানসিকভাবে কতটা শক্তিসালী করে তুলতে পাড়ে। আপনি যখন নিজেকে উৎসাহিত করতে ‘আমি পারবো, আমিও পারবো’ এই এতটুকু কথা বলবেন, দেখবেন আপনার না পারার মানসিকতা পরিবর্তিত হচ্ছে। যতক্ষণ নেতিবাচক চিন্তা করবেন, ততক্ষণ হতাশা আপনার পিছু ছাড়বে না, কোনোমতেই ছাড়বে না। এই নেতিবাচক চিন্তাগুলোই – আমি পারবো না, আমাকে দিয়ে সম্ভব নয়, আমি আর কখনোই সফল হতে পারবো না ; এই চিন্তাগুলোই আপনাকে আরো বেশি আক্রান্ত করে তোলে। কিন্তু যখনই আপনি নিজেকে নিজের পারার কথা জানাবেন, তখনই আপনার মনে হবে হ্যা, আমি আসলেই পারি। আপনার মন আপনাকে প্রতিক্রিয়া জানাবে ইতিবাচক ভাবে। এভাবে প্রতিদিন নিজেকে নেতিবাচক চিন্তা থেকে বের করে আনতে চেষ্টা করুন, দেখবেন একটা সময় আমি পারি না, পারবো না শব্দগুলো আর খুঁজেই পাবেন না। সফল হওয়ার ক্ষেত্রে মানসিকতা পরিবর্তন করা খুবই জরুরী। টমাস আলভা এডিসনের কথা মনে আছে? তাঁর মেধাহীনতার জন্য তাঁকে স্কুলে রাখা সম্ভব হয়নি। কিন্তু, তার মা তাকে অনুপ্রাণিত করেছিলে, সে পারে। এই অনুপ্রেরণাই তাকে জটিল জটিল সব বই পড়তে সাহায্য করেছিলো। সাহায্য করেছিলো ১০ হাজার বার ব্যর্থ হওয়ার পর ও হার না মানার, সাহায্য করছিলো তারপরও সফল হবার মানসিকতা তৈরী করতে। তবে আপনি কেন পারবেন না? তাই, নেতিবাচক মানসিকতা থেকে বেড়িয়ে আসুন। এটা বিশ্বাস করতে শিখুন আপনি পারেন এবং আপনিও পারেন। আত্মপ্রত্যয় বলতে একটা কথা আছে। সহজভাবে এটা কে আপনি বলতে পারেন, নিজের সফলতার সম্পর্কে ইতিবাচক বিশ্বাস। আব্রাহাম লিংকন সেই ২৩ বছর থেকে হারতে শুরু করেন। এবং শেষে ১৮৬১ সালে ৫২ বছর বয়সে জয়ের স্বাদ পান। ৪-৫ বছর নির্বাচনে হারার পর ও তিনি প্রত্যয়ী ছিলেন জয়ের ব্যাপারে। এই প্রত্যয়ই তাকে এতগুলো ব্যর্থতার পরেও, সফলতায় পোঁছে দিয়েছিলো।তবে আপনি কেনো পারবেন না? ইতিবাচক চিন্তার সাথে, নিজের প্রত্যয় কে বাড়াতে চেষ্টা করুন। তাহলে সফল হওয়ার মানসিকতা তৈরী করা সম্ভব।
একটা কথা আছে, আমি হারি না, বরং শিখি। হ্যা, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়া খুবই জরুরী। আপনি কেনো পারেন না বা পারেননি তা জানুন। আপনার ভুল কি ছিলো তা যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি চিহ্নিত না করতে পারবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি যতবারই চেষ্টা করুন না কেনো, সফল হতে পারবেন না। নিজেকে নিয়ে একটু ভাবুন, বুঝতে চেষ্টা করুন, কেনো আমি পারলাম না। আমার দূর্বলতা, ভুল কোথায় ছিলো যার জন্য আমাকে ব্যর্থ হতে হলো। সক্রেটিস সেটাই বলে গিয়েছে কয়েকশ বছর আগে। ‘Know thyself ‘ কথাটি দ্বারা আপনাকে সেই ইঙ্গিতই বারবার দেওয়া হয়েছে। আমরা নিজের ভুল ত্রুটি সম্পর্কে খুবই অসচেতন। আমরা নিজের ভুল কে গুরুত্ব দিতে চাই না। ব্যর্থ হওয়ার দায়ভার সব নিয়তির ওপর চাপিয়ে দেই আমরা। আচ্ছা একটু নিজেই চিন্তা করে দেখুন তো আপনি যদি জ্বরের জন্য জ্বরের ঔষধ না খেয়ে ব্যথার ঔষধ খান তাহলে কি জ্বর ভালো হবে? এতে আপনি নিয়তি কে দোষ দিয়ে শুধু নিজের ভুল কে ঢাকার চেষ্টা করছেন। নিজের থেকে নিজেকে লুকানোর এই বৃথা চেষ্টা আপনার জীবনে কোনোভাবেই ভালো ফলাফল বয়ে আনতে পারবে না। ইতিবাচক মানসিকতা থাকার পর ও যদি আপনি সঠিক পদক্ষেপ নিতে না পারেন, ভুল গুলো কে ধরে রেখেই সামনে এগোতে চান, তাহলে ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠে সফল হওয়াটা আসলেই কষ্টকর। ভুল গুলো খুঁজে বের করলে আপনি তা সমাধান করতে পারবেন যেন পরবর্তীতে এই ভুল গুলো না হয়।
ব্যর্থতার জন্য হওয়া ভুল গুলো জানার পাশাপাশি নিজের দূর্বল দিক গুলো জানা ও সেগুলো সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। তাই, নিজের ব্যর্থতার কারণ জানা ও সেই ভুল গুলো শুধরাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করুন, এতে পরবর্তী পদক্ষেপে আপনার জন্য ভালো ফলাফল বয়ে আনা সম্ভব।
আর, আমরা ব্যর্থতাকে ধরে রেখে বর্তমানের যে পরিমাণ ক্ষতি করে(পূর্বেই আলোচনা করেছি) চলেছি তা অকল্পনীয়। আমাদের কেউই এটা বুঝতে পারে না বা বুঝতে চায় না যে আমরা অতিতের ব্যর্থতাকে পরিবর্তন করার সামর্থ্য রাখি না। আমরা কোনোমতেই অতিতে ফিরে গিয়ে নতুন করে চেষ্টা করে দেখতে বা সফল হতে পারি না। তাহলে কেনো আমরা অতিত নিয়েই পরে আছি? অতিত ব্যর্থতা শুধু হতাশাই বাড়াতে পারবে, আপনাকে নতুন করে সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখাতে পারবে না। এর জন্য যে শুধু আপনি বর্তমানকে অবহেলা করছেন তাই যথেষ্ট নয়, আপনি আপনার ভবিষ্যৎকে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তায় ঠেলে দিচ্ছেন। কিন্তু আপনি যদি এমন টা না করে ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভুল গুলো শুধরাতেন ও বর্তমানকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারতেন, তাহলে আপনার ভবিষ্যৎ সফলতার মুখ দেখতো যা আপনার অতিত ব্যর্থতাকে ছাড়িয়ে যেত। তাই নয় কি?? তবে আপনি কেনো এতটুকু বুঝতে পারছেন না জীবন অতিতের ব্যর্থতার মাঝে নিজেকে বন্দি রেখে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার জন্য নয়, জীবন অতিতের ব্যর্থতাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে নতুন করে সফলতার স্বপ্ন দেখার জন্য, আমিও পারি তা দেখিয়ে দেওয়ার জন্য, সফলতা দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য। বুঝতে পেরেছেন? তাই অতিতকে আর ভেবে ভেবে কষ্ট পাবেন না। বর্তমান কে গুরুত্ব দিন।বর্তমানের প্রতিটা পদক্ষেপে সতর্ক হোন, কারণ এই পদক্ষেপের ওপরই আপনার ভবিষ্যৎ নির্ভর করে আছে। বর্তমান খুবই গুরুত্ব রাখে আপনার বা আমার জীবনে। কিন্তু আমরা এর মূল্যায়ন করতে চাই না। এর জন্য আমরা আশানুরূপ ফল ও পাই না। বর্তমানে থেকে অতিতের ব্যর্থতার হতাশা কে সরিয়ে ফেলুন, বর্তমান কে সঠিক মূল্যায়নের পাশাপাশি সঠিকভাবে ব্যবহার করুন। তাহলেই সফলতা অর্জনের পথ সুগম হবে।
একটা ব্যাপার হলো, সফল হওয়ার আগে সফলতার স্বপ্ন দেখা প্রয়োজন। কিন্তু যখন আপনি না পাওয়া সেই বিষয়কেই আপনার ধ্যানধারণার পুঁজি বানিয়ে ফেলবেন তখন আপনার সফলতার স্বপ্নই চোখে আসবে না। সবমসময় মস্তিষ্কে আমি ব্যর্থ, আমি পারবো না এই চিন্তাভাবনা ঘুরপাক খেলে আপনার মস্তিষ্ক ও এটাতেই অভ্যস্ত হয়ে যাবে। তখন আর আপনার মস্তিষ্ক আপনাকে সফলতার স্বপ্ন দেখাবে না। আপনার বাকি জীবনটাও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। কিন্তু আপনি যখনই মস্তিষ্ক কে সফলতাকে নিয়ে ভাবার সুযোগ দেবেন, তখন আপনাকে আপনার মস্তিষ্ক সফলতার স্বপ্ন দেখাবে, সঙ্গে বলে দেবে সফল হওয়ার প্রয়োজনীয় উপায়গুলো। তাই, ব্যর্থতা কাটিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শিখুন।
আমাদের লক্ষ্যগুলো মূলত অনেক গুলো ধাপের ওপর নির্ভর করে। প্রতিটা ধাপই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমরা মাঝে মাঝে লক্ষ্যে পৌঁছানোর একটি পদক্ষেপে সফল না হতে পেরে মনে করি আমাদের লক্ষ্যই বুঝি আর আমরা পূরণ করতে পারলাম না। আসলে এটা মনে হওয়ার কারণেই আমরা আরো বেশি হতাশায় ভুগি। আমরা মনে করি লক্ষ্যে পৌঁছানোর হয়তো এই একটাই পথ। আর এ পথে এগুতে পারি নি, তাই আমার আর স্বপ্ন পূরণ হবে না। এই বিশ্বাসে আমরা আর দ্বিতীয় কোনো পথ খুঁজতে চেষ্টা করি না। কিন্তু আমি আপনাকে এমনটা কখনোই করতে বলবো না। লক্ষ্যে পৌঁছানোর এক রাস্তা ভেঙেছে তো কি হয়েছে? নতুন রাস্তা তৈরী করুন। নতুন করে পরিকল্পনা করুন। নতুন করে মনোবল গড়ে তুলুন। নিজেকে আবার নতুন করে লক্ষ্য পানে ছুড়ে দিন। হ্যা, হয়তো হতে পারে পূর্বের থেকে এ পথ একটু কষ্টকর। কিন্তু আপনাকে নিজের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস ধরে রাখতেই হবে। আপনাকে মনে রাখতেই হবে “Life is not a bed of roses “।
ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকার্বার্গের একটা উক্তি হলো, ” জীবনে একটা স্বপ্ন থাকতে হয়, এবং সেই স্বপ্নকে ভালোও বাসতে হয় “। আসলে, স্বপ্ন আমরা দেখি ঠিকই। কিন্তু আমরা তাকে ভালোবাসতে পারি না। এই ভালোবাসা বলতে স্বপ্ন পূরণে কাজ করাকে বোঝানো হয়। আমরা স্বপ্ন দেখলেও তা বাস্তবায়নে ভিষণ অনীহার প্রমাণ দেই। লক্ষ্যে ব্যর্থ হওয়ার এটা অনেক বড় একটি কারণ। আমরা কেমন যেন সবকিছু ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়ে বসে থাকি। অনেকটা পুকুরে পড়ে গিয়ে সাঁতার না কেটে ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে থাকার মতোন যে আমি পাঁড়ে পৌঁছাবো, অথবা দুরে আম গাছে আম দেখে জানালা দিয়ে চেয়ে চেয়ে ভাবার মতোন যে আম আমার কাছে ভাগ্যর মাধ্যমে আসবে। ব্যাপারটা হাস্যকর, তাই না? কিন্তু আমরা এই হাস্যকর চিন্তাগুলোই নিজের স্বপ্ন পূরণেও ভেবে থাকি। আমরা বুঝতে চাই না যে আমাদের শুধু ভাগ্যের ওপর নির্ভর করা কোনোমতেই উচিৎ নয়। আমাদের কে স্বপ্নকে ভালোবেসে স্বপ্ন পূরণের জন্য কাজ ও করতে হবে। আমরা অধ্যবসায়ী নই, আমরা সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে জানি না। তবে কোন আশায় আমরা শুধু ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে বসে আছি? স্বপ্নকে ভালোবাসলে স্বপ্ন পূরণ করতে চাইলে পরিশ্রম, চেষ্টা ও অধ্যবসায় প্রয়োজন। প্রয়োজন সময়ের সঠিক ব্যবহার করা। নাহলে স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে, আর আপনি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবেন।
অনেক সময় দেখা যায়, আমরা মাঝেমাঝে মোটিভেটেড হই, কিছুদিন ভালোভাবে এগোতে থাকি লক্ষ্য পানে, তারপর আবার হঠাৎই ইচ্ছাশক্তি হারিয়ে ফেলি। এতে করে আমাদের ইতিবাচক মানসিকতা নষ্ট হয়ে যেতে থাকে। এই সাময়িক উদ্দীপনা নিয়ে সফলতার পিছু ছুটলে সাফল্য অনিশ্চিত হয়ে পরে। আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত এই অনিয়ম থেকে নিজেদেরকে বের করে এনে নিজেকে উদ্দীপ্ত করতে না পারবো , লক্ষ্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে নিয়মিত না হবো ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা ব্যর্থ হতে থাকবো। পৃথিবীতে যারাই সফল, তারা সবাই তাদের লক্ষ্যে স্থির ছিলো এবং নিয়মিতভাবে লক্ষ্য পূরণে কাজ করে গেছে। তাহলে আপনার ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম হবে কেন বলুন?
ছিটকে পড়া আমাদের খুবই স্বাভাবিক স্বভাব। আমরা সহজেই ছিটকে পড়তে চাই যেকোনো কাজ থেকে। ভিষণ অধৈর্য হয়ে পড়ি। নিয়মিতভাবে আমাদের মনযোগ দিয়ে কিছু করার আগ্রহ থাকে না। এসবই আপনার নেতিবাচক মানসিকতার কারণে ঘটে। তবে আপনার এটাও জেনে রাখা দরকার, ছেড়ে দিলেন তো হেরে গেলেন। ছিটকে পরবেন না, লেগে থাকুন। লেগে থাকার মানসিকতা তৈরী করুন। প্রতিদিন এই মানসিকতা ধারালো থেকে ধারালো করবে আপনার মনোবল। প্রতিদিন স্বপ্ন দেখুন, আর স্বপ্নে দেখা সেই শ্রেষ্ঠ জায়গায় নিজেকে কল্পনা করুন, কল্পনা করতে শিখুন। এভাবে নিজেকে শক্তিসালী করে তুলুন, গড়ে তুলুন নিজেকে, নিজের লেগে থাকার ইচ্ছাকে বাড়াতে থাকুন। লেগে থাকুন, সকল বাঁধা কে উপেক্ষা করেই লেগে থাকতে হবে আপনাকে। সকল অপ্রয়োজনীয় চিন্তা,কাজ কে ছুরে ফেলুন। এগুলো আপনার সময় ও মানসিকতা নষ্ট করে দেয়। লক্ষ্য কেন্দ্রিক হোন। সর্বোচ্চ চেষ্টায় ত্রুটি রাখবেন না। কারো কথায় মনোবল হারিয়ে ফেলবেন না। মনে রাখবেন, আপনার বিশ্বাস আপনার নিজের ওপর, কারো কথার ওপর নয়। সময় বলে দেবে, সফলতাই বলে দেবে কোনটা বেশি গ্রহণযোগ্যতা রাখে, কারো কটু কথা নাকি আপনার সফলতা। তাই আপনাকে লেগে থাকতেই হবে। বিরক্তি আসতেই পারে, কিন্তু তখন আপনার নিজেকে বুঝাতে হবে আপনি এসকল বিরক্তি কে উপেক্ষা করে সফলতা অর্জনের জন্যই লড়ছেন। এসব বিরক্তি, কারো কটুবাক্য আপনাকে টলাতে পারে না। মনে রাখবেন বারবার আপনি সুযোগ পাবেন না, জীবনে কিছু করে দেখানোর সুযোগকে তাই এসব ছোট ছোট বিষয়ের জন্য হারিয়ে ফেলা কখনোই সমীচীন নয়। লেগে থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টাই পারে আপনাকে সফল মানুষ বানাতে।
আপনার প্রশ্ন এমন হওয়া উচিৎ নয় “আমি কি পারবো?” বরং এমন হওয়া উচিৎ “আমি কেনো পারবো না?” আশা হারিয়ে ফেলবেন না। অন্ধকার সরে গিয়ে নতুন করে সূর্যের আলো যেমন সব আলোকিত করে দেয়, তেমনি আপনার জীবনেও হতাশা কে কাটিয়ে সফলতার সূর্য উঠবে, উঠবেই। এতটুকুই বিশ্বাস রাখুন। মনে রাখবেন অন্ধকার যত গভীর হয়, আলো তার সন্নিকটে। আমি আপনাকে নিয়ে আশাবাদী। আমি জানি আপনিও সফল হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। আপনিও চাইলে হতাশার কালো আগ্রাসন থেকে নিজেকে আশার আলোয় আলোকিত করতে পারেন। ব্যর্থতার গ্লানির চেয়ে সফলতার উল্লাস আপনার কাছে অবশ্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি জানেন, ব্যর্থতা কে উপেক্ষা করে সফল হওয়া সম্ভব। আপনি জানেন, সম্ভাবনার আলো আপনার মাঝেও জ্বলছে। সে আলো কে বাড়িয়ে তুলুন। ফেটে পড়ুক সে আলো হতাশার অন্ধকার কে চূর্ণবিচূর্ণ করে। আপনার মাঝে আছে দৃঢ় প্রত্যয়, আছে জয়ের অঙ্গীকার, আছে তীব্র প্রাণশক্তি। আমি বিশ্বাস করি সেই প্রাণশক্তির ওপর। সেদিন হয়তো খুব বেশি দুরে নয়, যেদিন আপনিও জয়ের হাসি হাসবেন। চিৎকার করে উল্লাসিত কন্ঠে পৃথিবীকে জানাবেন আপনিও পেরেছেন, হ্যা, সত্যই পেরেছেন আপনি। আমি জানি আপনি সেদিনের জন্য খুব আগ্রহ নিয়ে ছুটে চলতে সক্ষম। সক্ষম বিজয়ের সেই রঙিন পতাকে
হাতে নিয়ে উল্লাস করতে। আমি সেই বিজয়েই আপনাকে চাই। আমি জানি, আমি অবশ্যই সেই বিজয়ে আপনাকে দেখবো।
দেখা হবে বিজয়ে।

———————
কলামেঃ মোঃ জনী সরকার
ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ১ম বর্ষ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়