কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের পক্ষ নিলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি পাকিস্তানি মন্ত্রীর

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক :

পাকিস্তানের কাশ্মীর, গিলগিট–বালতিস্তানবিষয়ক মন্ত্রী আলী আমিন গান্দাপুর বলেছেন, কাশ্মীর ইস্যুতে কোনো দেশ ভারতকে সমর্থন করলে পাকিস্তান তাকে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে উড়িয়ে দেবে এবং দেশটি ইসলামাবাদের ‘শত্রু’ বলে বিবেচিত হবে। গতকাল মঙ্গলবার এই মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দেন আলী আমিন।

আলী আমিন বলেন, ‘কাশ্মীর নিয়ে ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়লে পাকিস্তান যুদ্ধ করতে বাধ্য হবে। কাশ্মীরের ব্যাপারে যেসব দেশ পাকিস্তানের বদলে ভারতকে সমর্থন করছে, তারা আমাদের শত্রু বলে গণ্য হবে। ভারত ও ভারতকে সমর্থনকারী দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হবে।’

পাকিস্তানভিত্তিক সাংবাদিক নায়লা ইনায়েত ভিডিওটির একটি অংশ টুইট করেছেন যাতে মন্ত্রীকে বিতর্কিত মন্তব্য করতে দেখা যায়।

বিশ্বনেতাদের কাছে কাশ্মীর বিষয়ে সহযোগিতা চাইছে পাকিস্তান। ভারত সরকার জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকে ইসলামাবাদ একতরফাভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক হ্রাস করেছে।

ভারতের দাবি, কাশ্মীরের সিদ্ধান্তটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাদের এ অবস্থানে সার্কভুক্ত দেশ এবং আরব বিশ্বসহ বেশ কয়েকটি দেশ সমর্থন জানিয়েছে।

সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ৫০ মিনিটের ভাষণটি তিনি কাশ্মীরের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন। এ সময় তিনি ভারতবিরোধী বক্তব্যও দেন। সেই বক্তব্যে তিনি ভারতের সঙ্গে পারমাণবিক যুদ্ধের ফলে বিশ্বের কী মারাত্মক পরিণতি হতে পারে, তা–ও জানিয়েছেন।

ইমরান খান বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে যেকোনো কিছু হতে পারে। প্রতিবেশী দেশের চেয়ে সাত গুণ ছোট একটি দেশ কী করতে পারে, বিশ্ব তা দেখবে। পাকিস্তান হয় আত্মসমর্পণ করবে, না হয় কাশ্মীরের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করবে। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, আমরা লড়াই করব। আর যখন পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ দুটি দেশ প্রাণপণ লড়াই করবে, তখন এর পরিণতি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে যাবে। আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি। এটি হুমকি নয়, আমরা পরিণতি নিয়ে চিন্তিত। এমন কিছু হলে ভালো কিছুর আশা করলেও জঘন্য কিছুর জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী ইমরান স্বীকার করেছেন, কাশ্মীর ইস্যুটিকে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরার চেষ্টায় পাকিস্তান ব্যর্থ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের ভূমিকায় তিনি হতাশা ব্যক্ত করেছেন।