কারিগরি শিক্ষাই পারে দেশকে টেঁকসই ও মজবুত উন্নয়নের দ্বার প্রান্তে পৌঁছাতে

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১:৪১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৯

মোঃ আব্দুল মুয়ামি হুজায়ফা

কারিগরি শিক্ষার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, “কারিগরি শিক্ষা নিলে, দেশ বিদেশে চাকরি মিলে”। বহির্বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলোকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এটা স্পষ্ট প্রতিয়মান হয় যে, কারিগরি শিক্ষার কল্যাণেই আজ তারা উন্নত ও সমৃদ্ধ। কারিগরি শিক্ষা অর্জন করলে বর্তমান বিশ্বে তথা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিশ্বে আপনি হবেন একজন দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য কারিগর।

আমাদের বাংলাদেশ বহির্বিশ্বের থেকে কিছুটা বিলম্বে হলেও এখন তারা বুজতে সক্ষম হয়েছে, কারিগরি শিক্ষাই পারে দেশকে সম্ভাবনাময় ও টেকসই, মজবুত উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে। আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্র চীনের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, কারিগরি শিক্ষা আজ তাদেরকে বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনৈতিক ক্ষমতাধর রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছে। স্থাপত্য শিল্পকলা থেকে শুরু করে মোবাইল, কম্পিউটার, হাত ঘড়ি, প্লাস্টিকের কারুকাজ সহ এমন কোন স্তর নেই যেখানে চায়না কোম্পানির অবদান নেই। আর এই সর্বত্র এমন প্রভাব বিস্তারের কারনটা কিন্তু করিগরি শিক্ষার সুমিষ্ট ফল স্বরুপ। মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে, কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টিপাত ও আকাশে মেঘ জমানো চীনা জাতির মেধা ও প্রজ্ঞাকে আবার নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে বিশ্ববাসীর কাছে। আজকের পদ্মাসেতু সহ বিভিন্ন সেতু, টানেল, ভেরী বাঁধের কাজ কিন্তু বাঙালী জাতি করতে একধরনের মুখ থুবড়ে পড়ার মত অবস্থা। এখানেও কিন্তু চীনা জাতি সহ বিভিন্ন বিদেশি প্রকল্পের সাহায্য নিতে হচ্ছে। আর একমাত্র কারণ হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্হার চর্চা আমাদের দেশে নেই বললেই চলে। যদিও এখন বাংলাদেশের সরকার সহ সচেতন মানুষরা বুজতে সক্ষম হয়েছে।

অনুরূপভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশে আধিপত্য, রাশিয়া ও ইসরায়েলের অাধুনিক অস্ত্রভান্ডার এর নেপথ্যে কিন্তু কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্হাই। কৃষি, মৎস্য, স্হাপনা, পরমাণু গবেষণা, আধুনিক যন্ত্রপাতি আবিষ্কার ও তার সঠিক ব্যবহার শিখতে হলে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্হার উপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীন উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিশ্বে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্হাকে দেশের উন্নয়নের মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ব্যাপক গবেষণা করার সরঞ্জামাদির ব্যবস্হা করে দিতে হবে। কারিগরি শিক্ষা অর্জন করলে বেকারত্বের অভিশাপ আপনি নিজেই মুছে ফেলতে পারবেন। ঘরে বসেই উপার্জন করতে পারবেন আপনার চাহিদা পূরণের থেকেও বেশি পরিমাণে।

তাই আসুন! বিলম্ব না করে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্হার উপর দেশের চালকের আসনে সমাসীন নেতৃস্থানীয় লোক ও বুদ্ধিজীবীদের সুদৃষ্টি কামনা করি। দেশকে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি দেই। বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দেই বিশ্ববাসীর কাছে নতুন টেকসই ও মজবুত সম্ভাবনাময় উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে।

—————

শিক্ষার্থী,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।