কাটা হচ্ছে ধলঘাটার হাঁসের চরের ঝাউগাছ

নিউজ নিউজ

ভিশন ৭১

প্রকাশিত: ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০২০

এস. এম. রুবেল, মহেশখালীঃ উপকূলীয় অঞ্চলকে প্রাকৃতির দুর্যোগ থেকে রক্ষায় প্যারাবনের সাথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালণ করছে ঝাউবাগান। বেরিবাঁধের পাশাপাশি এই প্যারাবন ও ঝাউবাগানের কারণে দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী পূর্বে বিভিন্ন প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

মহেশখালী দ্বীপের উত্তর-পশ্চিমে মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা দ্বীপ ইউনিয়ন দুটি সাগর ঘেষে গড়ে উঠায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। প্রতি বর্ষা মৌসুমে বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় বেশির ভাগ গ্রাম। মোটামোটি সাগরের সাথে যুদ্ধ করেই কাটছে এখানকার মানুষের জীবন।

জানা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষায় ধলঘাটা ইউনিয়নের পশ্চিমে হাসের চর নামক স্থানে গত ২০১৪-১৫ সালে ঝাউবাগান সৃজন করে বিশ্বব্যাংক। স্থানীয়দের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে পরিবেশ উন্নয়ন ও সংরক্ষাণার্থে বন বিভাগের সাথে স্থানীয়দের অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সৃজিত ঝাউবাগান দেখাশোনার দায়িত্ব দেয়া হয়। এই ঝাউবাগানের কিছু অংশ সরকারীভাবে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য অধিগ্রহণ করা হয় এবং অধিগ্রহণকৃত জমিতে থাকা ঝাউগাছ গুলো উপকারভোগীদের ক্ষতিপূরণ দিয়েই কর্তন করা হয়। অপরদিকে অধিগ্রহণ বহির্ভূত ঝাউবাগান থেকেও রাতের অন্ধকারে গাছ কর্তন করা হয়েছে।

এই বিষয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, অর্থনৈতিক জোন স্থাপনের চলমান কাজের টিকাদারী প্রতিষ্ঠান টিকে গ্রুফ মাটি ভরাটের কাজ সহ অন্যান্য সুবিধার্থে এসব ঝাউবাগান কাটার কাজে স্থানীয়দের ইন্দন দিচ্ছে। এতে করে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সৃজিত ঝাউবাগানটি কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। স্থানীয়রা আরো জানান, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমাতে ঝাউবাগানটি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছে। ঝাউবাগান সৃজনের আগে গ্রামে বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রতিবছর।

স্থানীয় উপকারভোগী কাসেম হিরু, মমতাজ সহ কয়েকজন জানান, হাসের চরে সবমিলিয়ে প্রায় ৫/৬ হাজার ঝাউগাছ কর্তন করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখন চরটি মরুভূমির ন্যায় দাড়িয়ে আছে। চারিদিকে কর্তনকৃত ঝাউবাগানের গোড়া দেখা যায়। মূলত প্রভাবশালী মহলের ইন্দনে এ গাছ গুলো কর্তন করা হয়েছে বলে জানান তারা। মহলটি রাজনৈতিক আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে থাকায় গ্রামবাসীরা প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়।

বিষয়টি নিয়ে ধলঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, করোনাকালীন সময়ে অফিসিয়াল ও ব্যক্তিগত কাজে তিনি এলাকায় না থাকার সময়ই হাসের চর থেকে ঝাউগাছ গুলো কর্তন করা হয়। বিষয়টি জানার পর ঝাউবাগানটি পাহারায় তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন। বর্তমানে গাছকাটা রোধ করা হয়েছে। মুলত স্থানীয়রা কারা গাছ কর্তন করেছে সেই বিষয়ে তথ্য না দেয়ায় এবং বন বিভাগ থেকে বাগান পাহারায় কোন লোক নিয়োজিত না থাকায় ঝাউবাগানটি রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। মুলত এলাকার কিছু অসাধু চক্র পুরো ঝাউবাগান অধিগ্রহণে পড়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে গাছ কর্তনে ভূমিকা রেখেছে। চক্রটি চিহ্নিত করার পাশাপাশি ঝাউবাগান রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এই ব্যাপারে মহেশখালী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা সুলতান উল আলম চৌধুরীকে বার বার ফোন দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।