করোনা সংকটে নিলামে উঠছে মুশফিকের ব্যাট

নিউজ নিউজ

ভিশন ৭১

প্রকাশিত: ৬:৪৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০২০

মুহা. ইকবাল আজাদ, ক্রীড়া প্রতিবেদক।
টেস্টে বাংলাদেশের অভিষেকের দুই দশক পূর্ণ হয়েছে। দীর্ঘ ২০ বছরে প্রাপ্তির চেয়ে আক্ষেপের সুরটা বেশি বাজে দেশের টেস্ট ইতিহাসে। এতদিনেও দলের ১৫০টি ম্যাচ খেলা হয়নি। দলে ব্যক্তিগত দ্বিশতক এসেছে একযুগ অন্তে। ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার গলে দেশের হয়ে প্রথম দ্বিশতক করার কীর্তি গড়েন উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। কুলাসেকারার বলে ২০০ রান করেই সেদিন মাঠ ছাড়েন মুশি। পরবর্তীতে মুশফিক আরও দুইবার ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি অর্জন করেন। তবে মুশফিকের কাছে প্রথম ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ ক্রিকেটীয় জীবনের বিশেষ গল্প। ইতিহাস রাঙানো সেই বিশেষ গল্পের ব্যাট এবার নিলামে তুলতে যাচ্ছেন মিস্টার ফিফটিন। ব্যাটের অর্থ প্রদান করবেন করোনা সংকট মোকাবিলা তহবিলে।

গত শুক্রবার সাকিব আল হাসান ফেসবুকে লাইভে এসে ক্রিকেটীয় কিছু স্মারক নিলামে তোলার কথা জানিয়েছিল। উদ্দেশ্য, স্মারক বিক্রির অর্থ দিয়ে করোনা সংকট তহবিলে সাহায্য করা। সাকিবের এই আহবানের পরে মুশফিকের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করা ব্যাটটি নিলামে তোলার কথা আসে। অবশ্য, সাকিবের আহবানের আগেই নাকি মুশফিক এসব নিলামে তোলার ব্যাপারে কাজ করছিলেন। সূত্র অনুযায়ী, প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির ব্যাট ছাড়াও মুশফিক কয়েকটি আলোচিত ম্যাচের গ্লাভস, প্যাড এবং গত বিশ্বকাপের একটি ব্যাট নিলামে তুলবেন।

পূর্বে বাংলাদেশে অনলাইনে এমন নিলামের ঘটনা কখনোই ঘটেনি। ফলে ক্রিকেটীয় সামগ্রী নিলামে তোলার প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে একটি স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট। নিলামে শুরুতে একটা দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হবে কিনা, বিদেশ থেকে কেউ বিড করতে পারবে কিনা, সময়সীমা কেমন নির্ধারণ হবে ইত্যাদি বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিলামের প্রক্রিয়া পরিষ্কার হলে আরও কিছু তরুণ ক্রিকেটারকেও দেখা যাবে মুশফিকের কাতারে।

করোনা নামক মহামারি মোকাবিলায় শুরু থেকেই আর্থিক সহায়তায় সক্রিয় দেশী ক্রিকেটাররা। ওয়ানডে অধিনায়ক তামিমের নেতৃত্বে কিছুদিন আগে জাতীয় দলের ২৭ ক্রিকেটার তাদের বেতনের অর্ধেক প্রদান করে। প্রথম শ্রেণির বেতনভুক্ত ৯১ ক্রিকেটার তাদের বেতনের অর্ধেক টাকা দান করে। তাছাড়া সদ্য যুব বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেটাররা সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ প্রদান করে কোয়াবের তহবিলে। ব্যক্তিগতভাবে সহয়তা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন একাধিক ক্রিকেটার। কিছুদিন আগে মুশফিক নিজ জেলা বগুড়াতে ২০০ পিপিই, ২০০ মাস্ক এবং ২০০ গ্লাভস প্রদান করেন। করোনা সংকটে সবার এমন মহানুভবতা কিংবা আর্থিক সহায়তা কিছুটা হলেও প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে।