‘করোনা’ এইস এসসি পরিক্ষার্থীদের জন্য এক অভিশাপ।

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১:৪১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

এস বি আব্দুল কাদের
————————————————–
একরাশ স্বপ্ন আর দৃঢ় আত্মবিশ্বাস নিয়েই যথাযথভাবে পরিক্ষার প্রস্তুতি নিয়েই আসছিলো এইস এসসি ও সমমান শিক্ষার্থীরা।শিক্ষাক্ষেত্রের এ গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পেরিয়ে পরবর্তিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করবে।যখনি তারা এমন স্বপ্নের বীজ বুনছিল আপন মনে ঠিক তখনই বিশ্ব মহামারি করোনা ভাইরাসের করাল গ্রাসে থমকে গেল পরিক্ষার্থীদের এ স্বপ্ন।চলতি বছরের ১লা এপ্রিল এইস এসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিলো।এ পরিক্ষায় অংশ নিবে ১১টি শিক্ষাবোর্ডের (৯ টি সাধারণ, একটি মাদ্রাসা ও একটি কারিগরি)অধীনে ৯ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৩ লাক্ষ শিক্ষার্থী।সেই লক্ষ্যেই পরিক্ষার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি নিচ্ছিল টপারদের থেকে শুরু করে ক্লাশের ব্যাকবেঞ্চাররা।ধারাবাহিকতা চলছিল তাদের অধ্যয়ন। কিন্তু সে আর হলো কই,করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল আজও।

চলতি বছরের মার্চের ৮ তারিখে বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ায় পরবর্তি ১৬ মার্চে এক মন্ত্রী সভার বৈঠকে ১৭ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত স্কুল কলেজসহ দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন কোচিং সেন্টার বন্ধের ঘোষনা দেওয়া হয়।এর পর থেকে একে একে সাধারণ ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধির সাথে সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটির মেয়াদও বাড়ানো হয়।তবে দেশের বিভিন্ন কলকারখানা সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান চালু হলেও এইস এসসি সমমান পরিক্ষার্থীদের চেয়ে থাকতে হচ্ছে উপর মহলের ঘোষনার দিকে।একদিকে পরিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতির দিক বিবেচনা করে পাকাপোক্ত কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারছেনা শিক্ষাবোর্ড।

বিশ্ব প্রাণঘাতী এ মহামারির কবলে পরিক্ষার্থীদের পরিক্ষা থেমে থাকলেও থেমে নেই সময়ের চাকা।এইস এসসি পরিক্ষা হব হব অবস্থায় এভাবেই বিষণ্ণতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়ে গেল প্রায় অর্ধবছর। অন্যদের উপর করোনার প্রভাব খুব বেশি না পড়লেও এর থেকে একটুও ছাড় পাচ্ছেনা এইস এসসি ও সমমান পরিক্ষার্থীরা।যেখানে পঞ্চম ও অস্টম শ্রেণির পরিক্ষার্থীদের পরিক্ষা বাতিল ও অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্য অটো পাশ সহ অনলাইন ক্লাশের ব্যবস্থা থাকলেও সেই সুযোগটা পাচ্ছেনা এইস এসসি ও সমমান শিক্ষার্থীরা।এভাবেই হতাশা আর বিষণ্ণতার মধ্য দিয়ে পাড়ি দিতে হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের জীবন। এমনকি অভিভাবকরাও হয়ে যাচ্ছে চিন্তা ও হতাশাগ্রস্থ।

এ মহামারিতে শুধুমাত্র আটকে নেই তাদের পরিক্ষা।আটকে আছে তাদের জীবনস্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির কার্যক্রম।সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক একটি সিট যেন তাদের কাছে এক একটি স্বর্ণের হরিণ।একদিকে ক্লাশের পড়ালেখার চাপ না থাকা আর অপরদিকে কোচিং সেন্টার গুলোও বন্ধ থাকায় যেন পড়ালেখার মন মানসিকতা হারিয়ে ফেলছে শিক্ষার্থরা।এমনকি এ বিষণ্ণতার কবলে পড়ে অনেকেই আসক্ত হয়ে সময় পার করছে অনলাইন গেম,ফেইসবুক ও ম্যাসেন্জারের মধ্য দিয়েই।হারিয়ে ফেলছে স্বস্তির ছাঁয়া।অনেকেই পারিবারিক অসচ্ছলতা আর প্রয়োজোনের তাড়নায় পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন কর্মসংস্থানে যোগ দিচ্ছে। পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে অনেক ছাত্রী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে।করোনার জন্য বিসর্জন দিতে হচ্ছে তাদের শিক্ষাজীবন। সময়মত পরিক্ষা না দিতে পারায় পরিক্ষার প্রস্তুতিও হারাচ্ছে অনেকেই।সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে ক্লাশের টপাররাও আত্মবিশ্বাস হারিয়ে এক অনিশ্চিয়তার মধ্য দিয়ে সময় পার করছে।পার করছে বিষণ্ণতা ও মনস্তাত্ত্বিক অস্থিরতার ভিতর দিয়ে।

এদিকে স্থগিত হওয়া এইস এসসি সমমান পরিক্ষা কবে ও কীভাবে নেওয়া হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বৈঠক ডেকেছে বাংলাদেশ আত্ম:শিক্ষাবোর্ড।আন্ত:শিক্ষাবোর্ড সমন্বয়ে সাব কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে সকল শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলে আসছেন, যেদিন থেকেই এইস এসসি ও সমমান পরিক্ষা নেওয়া হোকনা কেন পরিক্ষার অন্ততো ১৫ দিন পূর্বে পরিক্ষার দিন ও তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে।সকল জল্পনা কল্পনার মধ্য দিয়েই এইস এসসি ও সমমান পরিক্ষার্থীরা এখন চেয়ে আছে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের সিদ্ধান্তের দিকে।এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কি তারা শুনতে পাবে কোন আশার বাণী, না পূর্বের তুলনায় আবারো অপেক্ষায় থাকতে হবে পরবর্তি কোন সিদ্ধান্তের পথচেয়ে ।

এস বি আব্দুল কাদের
শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ইতিহাস বিভাগ
সদস্য: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তরুণ কলাম
ফোরাম