করোনার লাল চোখ; মানছেনা লকডাউন

নিউজ নিউজ

ভিশন ৭১

প্রকাশিত: ১০:২৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০২০

চীনে যখন করোনা নামক ভাইরাসের আক্রমণের খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয় তখন সবাই মনে করেছিল বাংলাদেশে ভাইরাসটি আসবেনা। চীনের পর ইতালী, স্পেন, ফ্রান্স, আমিরকায় ভাইরাসটি তান্ডব চালাতে শুরু করে। দেখতে দেখতে বিদেশ ফেরতদের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। যা বর্তমানে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলছে। ইতিমধ্যে করোনার চোখ লাল বর্ণ ধারণ করে তান্ডব চালাচ্ছে দেশের বেশ ক’টি জেলায়। গত ২৪ ঘন্টায় সারাদেশে ১৮২ জনের করোনা ভাইরাসটি ধরা পড়েছে। আগামীতে এ করোনা আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে যা অনেকটা সুনিশ্চিত।

বিশ্বের প্রথম শ্রেণীতে থাকা শক্তিধর দেশ গুলো করোনার তান্ডবে আজ অসহায়। সে তুলনায় বাংলাদেশ নামক দেশটি কিছুই না। এই ঘনবসতিপূর্ণ দেশে করোনা ভাইরাসের শুরু হওয়া এই তান্ডব তীব্র আকার ধারণ করলে রাস্তার ধারে লাশের মিছিল পড়ে থাকবে। যা আক্রান্ত দেশের দিকে তাকালে বুঝতে পারছি আমরা। গবেষকগণ করোনা প্রতিরোধী ভ্যাকসিন/প্রতিষেধক তৈরীর জন্য দিনরাত পরিশ্রম করলেও ফলাফল আজ অবধি শূণ্যের কোটায়। তবে প্রথম আক্রান্ত দেশ চীন আজ অনেকটা করোনা ভাইরাস ঝুঁকিমুক্ত। তারা তাদের এলাকা সমূহ লকডাউন করে ভাইরাস ছড়ানো প্রতিরোধ করে। কিন্তু এই লকডাউন বা অবরোদ্ধ থাকার প্রক্রিয়াটি আমরা মানছিনা। কেন মানছিনা? এই প্রশ্নের উত্তর কারো জানা নেই। অথচ এটিই করোনা ভাইরাস ছড়ানো থেকে মুক্তির একমাত্র পথ বলে জানা গেছে।

আজ সারাদিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখলাম- পথে-ঘাটে, বাজারে, অলি-গলিতে, গ্রামের ঝুপড়ি দোকান সহ বিভিন্ন স্থানে মানুষের জনসমাগম। অনেকটা উদ্দেশ্যে ছাড়াই যে যার যার মত আড্ডা দিচ্ছেন। ব্যক্তি জীবনে এই আড্ডার কতটুকু প্রয়োজনীয়তা আছে তা নিজেরাই জানেনা। অথচ এই আড্ডাই তাদের ও পরিবারের মৃত্যু ঝুঁকি বাড়াচ্ছে প্রতিমুহুর্তে।

মাঠে ক্রিকেট খেলায় মগ্ন এলাকার উঠতি বয়সী ছেলেদের খেলা না করতে বারণ করারও সুযোগ নেই এখন। তাদের তাৎক্ষণিক উত্তর রেডি থাকে। তারা সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ব্যাটিং ও ফিল্ডিং করছেন বলে জানায়। আর কেউ কেউ করোনা ভাইরাসকে গুজব বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। এদের তালিকায় বৃদ্ধদের সংখ্যায় বেশি। সবমিলিয়ে এদেশের মানুষ লকডাউন পুরোপুরি মানছেন না। তবে সিভিল প্রশাসন, ডাক্তার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিকদের ভূমিকা প্রশংসনীয়। অবাধ্য নাগরিকদের করোনা থেকে বাঁচাতে তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারপরেও দেশের বেশির ভাগ নাগরিক এই লকডাউন প্রক্রিয়া মেনে চলছেনা। যে দেশে পুলিশের তাড়া খেয়ে দৌঁড় প্রতিযোগীতায় প্রথম হয়েছি বলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়, সে দেশে লক ডাউন প্রক্রিয়া কতটুকু সফল তা বুঝা যায়।

করোনার ভয়াবহ তান্ডব যখন শুরু হবে তখন হুশ হবে এই বাঙালীর। তখন করণীয় কিছু থাকবেনা। চারিদিকে পড়ে থাকবে লাশ আর লাশ। নিকট আত্মীয়রাও লাশের দাফনে এগিয়ে আসবেননা। তখন প্রশাসনকেই লাশ দাফনের প্রক্রিয়া চালাতে হবে। এখনো সময় আছে। নিজে সচেতন হোন, আশপাশ সচেতন করুন আর পরিবারকে বাঁচান।

লেখক- এস. এম. রুবেল
Email- robelbd.004@outlook.com