করোনাকালে পারিবারিক মেলবন্ধন!!

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১:০৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

তাসমিদা মাহমুদ :

সারাবিশ্ব এখনো করোনা মহামারি থেকে পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত হতে পারেনি। এখনো অনেক পরিবার তার প্রিয়জন হারানোর শোক ভুলতে পারেনি। ঠিক এই সময়ের একটি ইতিবাচক দিক হলো, পরিবারগুলো খুঁজে পাচ্ছে হারিয়ে যাওয়া সেই পুরাতন ঐতিহ্য। সবার মাঝে তৈরি হচ্ছে ভালোবাসার মেলবন্ধন। বাড়ছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা। পরিবারের সদস্যরা যার যার দায়িত্ব-কর্তব্যের ব্যাপারে হচ্ছে আরো সচেতন। সমাজের প্রতি বাড়ছে সকলের দায়বদ্ধতা।

এইতো বছরের শুরুর দিকে ব্যস্ত শহরে সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত ছিল।
কারো জন্য কারো যেন একবিন্দু সময় দেবার উপায় নেই। চাকরি, ব্যবসা, স্কুল,
কলেজ, ভার্সিটি, কোচিং, পড়াশোনা, টিউশন, আজ সিটি পরীক্ষা তো কাল ফাইনাল, বন্ধু- বান্ধব এইসবের মাঝে মা-বাবার জন্য হয়তো সামন্য সময় বরাদ্দ ছিল। কয়জনইবা আছি মা-বাবার জন্য আলাদা করে দিনের কিছুটা সময় রাখতাম? দিন কেমন কাটলো; কখনো কি তাদের কাছে জিজ্ঞেস করার সময় হয়েছিল কি? এরকম শতশত প্রশ্ন ও সমস্যার সমাধান করোনার অবসর সময়ই সম্ভবপর করেছে।

করোনা আর লকডাউনের সুবাদে প্রায় প্রতিটি সন্তান অনেকটা সময় কাটাতে পারছে মা-বাবার সাথে। যেই বাবার মুখ দেখা হতো দিন ও রাতে একবার করে, সেই বাবাকে সারাদিন কাছে পাওয়াও যেন সন্তানের কাছে অনেকটা স্বপ্নের মত ব্যাপার। বাবা-মায়েরা এই ঘরবন্দী অবসর সময়ে তাদের সন্তানদের আগের থেকে অনেক বেশি সময় দিতে পারছেন। আর সন্তানেরা পরিবারের সিনিয়র সদস্যদের সাথে গল্প-আড্ডাসহ প্রাচীন ইতিহাস-ঐতিহ্য জানার সুযোগ লাভ করছে। এছাড়া কিছু মায়ের কাছে এ যেন এক অন্যরকম সময় । সন্তানেরা যে সারাক্ষণ মায়ের চোখের সামনেই আছে। মায়েদের দুনিয়াটা জুড়েই তো সন্তানেরা। এই সন্তানদেরকেই যে কতকাল এত কাছে পাওয়া হয় নাহ! এখন আগের থেকে মায়েদের কাজের ভার অনেকটা লাঘব হয়েছে। সবাই একসাথে ঘরের কাজকর্ম সমাধা করছে। পরিবারের প্রতিটি সদস্য যার যার মত করে একেকটি কাজ ভাগ করে নিচ্ছে। যেই সন্তান জীবনে কখনো বাসার কাজ করেনি, সেও আজ মায়ের সাথে রান্নাসহ সব কাজে হয়ে উঠেছে পটু। মায়েরা সন্তানদের কাছে এর থেকে বেশি আর কিবা চায়! সন্তানের এইটুকু সহযোগীতায় একজন মা যতটুকু খুশি ও আনন্দিত হয়; তা নিয়ে হয়তো একজন মা জীবনও পার করে দিতে পারে।

এতকিছু পর্যবেক্ষণ করে শুধু একটি কথাই বলব, করোনা মহামারীর এতসব নেতিবাচকতার ছড়াছড়ির মাঝেও সুখী, সুন্দর ও সুদৃড় পারিবারিক বন্ধন সৃষ্টি হবার মত এমন ইতিবাচক বিষয়টিও কম শক্তিশালী নয়।

শিক্ষার্থী,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়