সোমবার ২৯শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
আমাদের সম্পর্কে
যোগাযোগ

কবি মজিবর রহমানের গল্প গুচ্ছ

সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১
প্রিন্ট
নিউজ ভিশন

পর্দা :

বহু নারীবাদী লেখিকারা ই লিখেন-পুরুষের কি পর্দার প্রয়োজন নাই?পুরুষ দেহ দেখিয়ে সাধারণ কাজ কর্ম করলে নারীর কী যৌন লিপ্সা হতে পারে না?সহমতে বলতে হয় পুরুষের পর্দার প্রয়োজন আছে।মনের পর্দা চোখের পর্দা সহ দেহ শরীয়া মোতাবেক ঢেকে কাপড় চোপড় পরিধান করা এবং কঠোর কঠিন কাজের সময় সম্ভবপর পরিধান করা।
নারীদের পর্দা ধর্মমতে চারি দেয়ালের মাঝে, এ ডিজিটাল যুগে বলাই বাহুল্য। তবে মনের পর্দা চোখের পর্দা ওড়না, হিজাব,রুমাল দিয়ে মাথা বাঁধা ও বোরকা যতটুকু ধর্মমতে না করলেই নয় ততটুকু মানা উচিৎ।
সবচেয়ে বড় কথা, বয়সভেদে পর্দার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করলে অধিক ক্ষেত্রেই দেখা যায় চতুর্দশী হতে চল্লিশ বয়স পর্যন্ত নারী পর্দার গুরুত্ব দেয় না।
চল্লিশোর্ধ এমন কি বৃদ্ধা হলে পর্দা পরে বা করে।তখন কিছু বেয়ারা পুরুষ পর্দার ভেতর নারী যৌবনা নাকি বৃদ্ধা কৌতুহল নেত্রে বারবার তাকায়।যখন একবার দেখে বৃদ্ধা আর দ্বিতীয়বার তাকায় না।ধর্মমতে নিরুপায় হয়ে তো একবার তাকানোই জায়েজ।তা হলে আর বৃদ্ধার পর্দার প্রয়োজন কি? এ ক্ষেত্রে ও পর্দার বিরুদ্ধাচারণ করছি না বরং যৌবনাদের পর্দার অধিক গুরুত্বারোপ করছি।
অধুনা অধিকাংশ যৌবনারা পর্দা পরে দেহের কোথায় কি বিদ্যমান অর্থাৎ প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ শনাক্তের সতর্কতা না রেখে ই পর্দা পড়ে।এমন কি হাটা চলায় দেহের ভাজে কাজে ওভাবে না পরে নরমাল ড্রেস পরলেও মানুষ তার দেহ দেলানো দেখত না।কাজেই পর্দা করতে হবে মন থেকে যাতে এমন ঢিলে ঢালা না হোক ই কালা যাতে অঙ্গ পত্যঙ্গ সম্ভবপর রেখে যায় ঢাকা।কিছু নারী ভাশুর দেবরের সাথে আড়াল করে বহু ভগ্নিপতিদের সাথে চুকিয়ে কথা বলে- এটি ব্যাখা করলে বুঝা যায় ভিন পুরুষের ঘরে নিজ বোন তো নিজের সাথে কিছু টা জিনেটিক কারনেই দেখতে স্বাদৃশ্যপূর্ন হওয়া স্বাভাবিক তাদের স্বামীর আত্মীয় বিয়োগে বিয়াত্মীয়করন মাত্র।মানলে ধর্ম মতে মানাই বাঞ্জনীয়।

ছোট গল্প
“মানুষ সহজে বদলায় না “

মজিদ ও আসমা এক সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শুনা করে।মজিদ ছিপছিপে হালকা পাতলা গঠনের লম্বা,আসমা মাঝারি লম্বা ফর্সা সুন্দরী। মজিদের আসমাকে ভালো লাগে আসমা মজিদের কোমল হৃদয়ের সংস্পর্শে যেয়ে ভালোবাসবে কি বাসবে না দোদুল্যমানতায় ভোগে,তবে চাকরির বিভিন্ন পরিক্ষা সহ একজন ছেলে বন্ধু থাকা প্রয়োজন তাই বাম হাতে ধরে রাখে ডান হাতে অধিকতর ভালো ছেলে খুঁজতে থাকে।মজিদ বুঝে তবে প্রেমে অন্ধ ফেরার পথ বন্ধ মনে করে আবেগে সাথে চলে সরওয়ারর্দী উদ্যান বাংলা এ্যাকাডেমী প্রাঙ্গন কার্জন হল রমনা পার্ক সহ ঢাকা শহরের অধিকাংশ সিনেমা হলে বিনোদন করে।আসমার শ্যমকালাচাঁনকে মনের অজান্তেই ভালো লাগে,কিন্তু বিয়ের পরে একত্রে হাটলে সম লম্বা হলে দেখতে কত সুন্দর যুগল হত এ বাসনা ও মনে পোষন করে।
এম এ পরিক্ষার সময় ই ভালো একটি কোম্পানিতে মজিদের চাকরি হয়ে যায়,মজিদ আসমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়,এবার আসমার আসল রূপ বেরিয়ে আসে, সে মজিদ আসমার যুগল ছবি সহ প্রমান ধ্বংসে ব্যস্ত থাকে।মজিদ বুঝে নিজ এলাকার স্বনামধন্য পরিবারের এক সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করে চাকরি করতে থাকে।
আসমা একটি সরকারী চাকরি পায় কিন্তু প্রেমের চোখে মজিদের কাছে সুন্দরী হলেও প্রকৃত সুন্দরী না।কোন ভালো ছেলে জুটে না বেশ ক’য়েক বছর পর প্রঢ গৌড় বর্নের এক ইঞ্জিনিয়ার ছেলে সম লম্বা দেখে বিয়ে করে একটি ছেলে ও হয়।কিন্তু স্বামী হারিজ দুরারোগ্য ডাইবেটিসে ভুগে রতি ক্রিয়া হতে বিরত হয়।একাই ভুয়াপুর জীবন কাটায় আত্মীয় স্বজনের অনেক সহায়তা করে তারা তার সেবা যত্ন করে।
আসমা মনের কষ্টে ছেলে নিয়ে ফরিদপুর শহরেই জীবন কাটিয়ে দেয় ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হয়।
মেধাবী মজিদ চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা সফল হয় ছেলে মেয়েরা ডাক্তার ইঞ্জিয়ার হয়।
আসমা মজিদকে খুব অনুরোধে দাওয়াত দেয় এবং টি এস সি তে নিয়ে সব খুলে বলে তার জীবন গেল জলে।এখন যদি মজিদ তাকে বিয়ে করে তবে বাকী জীবন স্বামী কে ডিভোর্স দিয়ে কাটাবে সুখে শান্তিতে মিলে।
মজিদ তার ছেলের কথা নিজের ছেলে মেয়ের কথা মাথায় রাখার পরামর্শ দিয়ে আপাতত সেদিন বিদায় দেয়।
নিজে নিজে ভাবে নতুন কোন প্রতারনা কিনা পরিক্ষা করা প্রয়োজন। একদিন আসমা ফোন করে ফোন মজিদ রিসিভ করে তার সাথে কথা না বলে এক আশি বছরের বয়রা বৃদ্ধাকে পাশে বসিয়ে বলতে থাকে,কী হবে আমার? আমার ব্যবসায় যে ধ্বস নামলো চাকরির বেতনে সংসার চলে না।
এ পর্যন্ত শুনে সত্য মনে করে আসমা ফোন কেটে দেয়।আর কখনো মজিদের খবর নেয় না।মজিদ শতকোটি বার আসমাকে ফোন দেয় ফোন রিসিভ করে না।পরে জানতে পারে বৃদ্ধ স্বামী ইঞ্জিনিয়ার হারিজচৌধুরীকে নিয়ে ই রতি ক্রিয়ার কথা বাদ দিয়ে ছেলের বিয়ে দিয়ে লোক দেখনোর জন্য ছেলের স্বার্থে সংসার ধর্ম পালন করতে থাকে।
আসলে কিছু স্বার্থপর মানুষ অন্যকে ঠকাতে চেয়ে নিজে ই ঠকে এবং স্বার্থের বেলায় কখনো বদলায় না।

লেখক মোঃ মজিবর রহমান
লেখক ও কলামিষ্ট

সংগ্রহে -সাংবাদিক মফিজুল ইসলাম সৌরভ
মাদারীপুর জেলার প্রতিনিধি!

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
logo

নিউজ ভিশন বাংলাদেশের একটি পাঠক প্রিয় অনলাইন সংবাদপত্র। আমরা নিরপেক্ষ, পেশাদারিত্ব তথ্যনির্ভর, নৈতিক সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী।

সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম

ঢাকা অফিস: ইকুরিয়া বাজার,হাসনাবাদ,দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ,ঢাকা-১৩১০।

চট্টগ্রাম অফিস: একে টাওয়ার,শাহ আমানত সংযোগ সেতু রোড,বাকলিয়া,চট্টগ্রাম |

সিলেট অফিস: বরকতিয়া মার্কেট,আম্বরখানা,সিলেট | রংপুর অফিস : সাকিন ভিলা, শাপলা চত্ত্বর, রংপুর |

+8801789372328, +8801829934487 newsvision71@gmail.com, https://newsvisionbd.com
Copyright@ 2021 নিউজ ভিশন |
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ‌্য মন্ত্রণালয়ে আবেদিত ।