এড. মুহাম্মদ নূরুল আমীন এক বরেণ্য সমাজসেবক ও বহুমূখী প্রতিভার নাম

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৩:২৪ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০২০

-জিয়া হাবীব আহসান, এডভোকেট

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও সাবেক সিন্ডিকেট সদস্য, হাটহাজারী উপজেলার সাবেক নির্বাচিত চেয়ারম্যান, বি.এন.সি.সির সাবেক প্রফেসর ইনচার্জ, সাবেক ছাত্রনেতা, বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও শিক্ষাবিদ এড. জনাব মুহাম্মদ নূরুল আমীন এক অনন্য সাধারন সমাজসেবক ও বহুমূখী প্রতিভার নাম ।

জনাব নূরুল আমীন উত্তর চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার দক্ষিন গুমানমর্দ্দন গ্রামে, ০৮ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ সালে এক ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন । তিনি হাটহাজারী সদরের প্রখ্যাত ব্যবসায়ী ও নির্লোভ রাজনিতিক মরহুম আলহাজ্ব মুহাম্মদ ইলিয়াছ সওদাগর এর জৈষ্ঠ্য পুত্র ।

মানবিকতায়, সততায়, সাহসে, ব্যক্তিত্বে একজন সুপুরুষ । তিনি একজন নির্ভিক, নিরলস সমাজ কর্মী হিসেবে একেবারে গ্রাম থেকে উঠে এসে সমাজে নিজের দৃঢ় অবস্থান গডে তুলেন । শিক্ষা বিস্তার ও সমাজ উন্নয়নে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য । ছোট বেলা থেকে কাছ থেকে দেখে এই বহুমূখী প্রতিভাকে নিয়ে লিখার প্রয়োজন অনুভব করছিলাম দীর্ঘদিন । তিনি নাঙ্গল মোড়া সামছুল উলুম সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা ও স্থানীয় ঈদগাঁহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন করেন । পরবর্তীতে ঐতিহ্যবাহী হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৬ সালে কৃতিত্বের সাথে এস.এস.সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে, ১৯৬৭ – ৬৮ শিক্ষাবর্ষে নাজিরহাট কলেজ ও চট্টগ্রাম সিটি কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হন ।পরবর্তীতে উক্ত কলেজ থেকে তিনি বাণিজ্য বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন এবং ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম আইন কলেজ থেকে এলএল.বি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যাল এর ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে এম.কম ডিগ্রি অর্জন করেন । এরপর তিনি হাটহাজারী কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগে শিক্ষক হিসেবে কর্ম জীবন শুরু করেন এবং দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।

জনাব মুহাম্মদ নূরুল আমিন ১৯৬৬ সনের ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত হন । ৬৯ এর ছাত্র আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান ও ভূমিকা প্রনিধানযোগ্য । তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ হাটহাজারী থানার সংগঠক ও হাটহাজারী থানা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তিনি ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন । তিনি ’৬৯ এর গণ অভূয়্যত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ’৭০ এর এম.এন.এ. ও এম.পি.এ নির্বাচনে তাঁর সফল সাংগঠনিক নেতৃত্বের বিকাশ ঘঠে । স্বাধীনতা সংগ্রামের ঊষালগ্নে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন, প্রতিরোধ আন্দোলন সহ ৭১ এর মুক্তি সংগ্রামে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করে নেতৃত্বের পরিপূর্ণতা অর্জন করেন । স্বাধীনতাত্ত্বোর ’৭২ সালে ছাত্র রাজনীতি হতে অব্যাহতি নিয়ে ’৭৩ সালে মরহুম মেজর (অবঃ) এম.এ.জলিল ও তৎকালীন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা আ স ম রবের নেতৃত্বে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠিত হলে – চট্টগ্রাম শাখার প্রথম আহবায়ক কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ।

১৯৭৪-৭৫’ সনে হাটহাজারী কলেজে অধ্যাপনায় যোগদান করার কারণে তিনি রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান, শিক্ষকতার মহান পেশাকে সমুন্নত রেখে তিনি কলেজের বর্তমান বি.এন.সি.সি (সাবেক ইউ ও টি সি) হাটহাজারী কলেজ শাখা প্রতিষ্ঠা করে প্রথম অফিসার কমান্ডিং হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন । ১৯৭৬ সালে সফল অধ্যাপনা জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এডভোকেটশীপ সনদ প্রাপ্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম জেলা বার এ আইন পেশা শুরু করে অতি অল্প সময়ে আইন পেশায় প্রতিষ্ঠা লাভ করেন এবং ১৯৭৮ সালে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের সনদ প্রপ্তিতে দ্রুত উন্নতির শিখড়ে পৌছঁতে সক্ষম হন । তিনি আমার মরহুম পিতা চট্টগ্রামের বিশিষ্ট আইনজীবী, মুক্তিযুদ্ধের স্বর্ণপদক প্রাপ্ত সংগঠক, বৃহত্তর গুমানমর্দন ইউনিয়নের কাউন্সিলর সাবেক চেয়ারম্যান, এদেশের সমবায় ও গ্রাম উন্নয়নের অন্যতম প্রবক্তা এ.এম.য়্যাহ্‌য়্যার স্নেহধন্য জুনিয়র ছিলেন । তার উৎসাহে আইন পেশা শুরু করেন । আইন পেশায় তিনি অত্যন্ত কৃতিত্ব, সুনাম ও সাফল্যের পরিচয় দিতে থাকেন ।

জনাব আমীন সাহেব তখন থানা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সফল সংগঠক হওয়ার কারনে স্থানীয়ভাবে তাঁর প্রভাব ছিল অসাধারণ । স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে আমার বাবার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য রাখা আগ্নেয়াস্ত্র রিভলবার থানায় জমা করা হয়, যা বিভিন্ন হাত বদল হয়ে জনৈক ক্ষমতাবান ব্যক্তির হাতে চলে যায় । আমার বাবা তাকে বিষয়টি জানালে তিনি তা উদ্ধার করে আমাদের বাসায় গিয়ে রিভলবারটি আমার বাবার কাছে নিজ দায়িত্বে হস্তান্তর করেন । আমার বাবা তাঁর সখের জিনিসটা পেয়ে খুব খুশি হন । আব্বার সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত হৃদয়ে হৃদয় । তাঁর পিতা মরহুম ইলিয়াস সওদাগরকে আমার আব্বা ইউনিয়ন কাউন্সিলের উপদেষ্টার মর্যাদা দিতেন এবং পরামর্শ নিতেন । অনুন্নত গ্রামের রাস্তাঘাট ও কৃষি উন্নয়নে আমার পিতার সহযোদ্ধা ছিলেন মরহুম ইলিয়াস সওদাগর । তাঁর বাবা মরহুম ইলিয়াস সওদাগরকে আমার বাবা পিতৃবৎ শ্রদ্ধা করতেন । সেই সুবাদে তিনি এবং নূরুল আমীন চাচা আমাদের বাসায় মাঝে মধ্যে আসতেন । প্রথমে পাথরঘাটা নজুমিয়া লেইন ও পরবর্তীতে হোটেল ইন্টারন্যাশনাল এর পেছনের দোতলায় আমাদের চেম্বার ছিল । আমীন চাচা অধ্যাপনা ছেড়ে আইন পেশায় যোগ দেওয়ার জন্য মনস্থির করেন । কিন্তু আইন পেশা রপ্ত করতে একজন সিনিয়রের প্রয়োজন হয় । তাই তিনি প্রথমে পরিচিত সিনিয়র উকিলদের পরামর্শ নিতে যান । কিন্তু সবাই তাকে হতাশ করে বলতেন যে, “এখানে আদালতে কিছুই নেই, চাকরিই উত্তম । কারন চাকরিতে একটি নির্দিষ্ট আয় রোজগার আছে” । এই ভাবে হতাশ হয়ে সর্বশেষ তিনি তাঁর প্রিয় ব্যক্তিত্ব এডভোকেট এ.এম. য়্যাহ্য়্যার কাছে গেলে তিনি তাঁকে বলেন যে , “এক মূহূর্ত বিলম্ব ওকালতি জীবনে অনেক ক্ষতি করে, এক মূহূর্ত আগে আসা মানে এক কদম এগিয়ে যাওয়া “। তাঁর এই কথা শুনে তিনি সাথে সাথে অধ্যাপনা ছেড়ে ১৯৭৬ সালে আইন পেশায় যোগ দেন ।

আমার মরহুম বাবা তাঁকে নিজ ভ্রাতাতুল্য স্নেহ করতেন । জনাব আমীন সাহেবের ওকালতি জীবনের প্রথমে ফৌজদারীতে প্রবেশ মরহুম আলহাজ্ব এডভোকেট বদিউল আলম সাহেবের সান্নিধ্যে এসে । মেজর জিয়াউর রহমানের মার্শাল’ল এর শেষের দিকে তিনি অতি সহসা ফৌজদারী প্রাকটিস সম্পর্কিত কলাকৌশল রপ্ত করতে সমর্থ হন । তাঁর ছাত্র রাজনৈতিক জীবনের ভূমিকার কারণে প্রচুর মক্কেল তার শরণাপন্ন হতে থাকতো । তৎমধ্য ছিলেন আমার পিতার ঘনিষ্ট জন দৈনিক আজাদীর সম্পাদক তাঁর পিতৃবৎ শ্রদ্ধা ভাজন ব্যক্তিত্ব মরহুম প্রফেসর আলহাজ্ব মোহাম্মদ খালেদ সাহেব । কিংবদন্তী দৈনিক আজাদীর সম্পাদককে তিনি তাঁর সিনিয়র জনাব য়্যাহ্য়্যার কারণে মক্কেল হিসেবে পেয়েছেন । ১৯৭০ এর নির্বাচনে প্রফেসর খালেদের নির্বাচনী ফর্মে প্রস্তাবক ছিলেন আমার আব্বা মরহুম এডভোকেট এ.এম.য়্যাহ্য়্যা । ৮/১০ বছর ফৌজদারী প্রাকটিস করার পর আমীন চাচা আমার বাবার চেম্বারে যোগ দেন । আমার বাবা তাঁকে পিতৃতুল্য ভরসা দিতেন । দেওয়ানী বিষয়ে আমার আব্বা একজন দক্ষ আইনজ্ঞ ছিলেন। বাণিজ্যক ও অর্থঋণ আদালতে অদ্বিতীয় সাফল্য অর্জন করেন, সম্ভবত তিনিই প্রথম চট্টগ্রামে অর্থঋণ আদালতে বাংলা আর্জি ও জবাব লিখেন । আমার বাবা প্রায় ডজন খানেক ব্যাংক বীমার আইন উপদেষ্টা ছিলেন । তিনি আমার আব্বার হাতে ব্যাংকিং লাইনের ওকালতি শিখেছেন । তিনি আমার বাবাকে পায়ে ধরে সালাম করতেন এবং আমার মা’কে মাতৃবৎ শ্রদ্ধা করতেন।

আমাদের একই গ্রামের সন্তান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ তদানীন্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁকে হাটহাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আহবান জানালে তিনি তাঁর সিনিয়র জনাব য়্যাহ্য়্যার মতামত চান । জনাব য়্যাহ্য়্যা তাঁকে বলেন যে, “তুমি এখনো যুবক, সৎ থাকলে তুমি যেকোন দুঃস্থ মানুষের ঘরে এক বান্ডিল টিন হলেও তোমার ইচ্ছামত পৌঁছাতে পারবে । কাজেই তুমি সৎ নিয়্যতে মন্ত্রী সাহেবের আহ্বানে সাড়া দাও । আমি তোমাকে দোয়া করছি” । এরপর থেকে জনাব আমীন সাহেব আমাদের পরিবারের সদস্য হিসেবে আব্বার পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন । আমরা ভাই, বোন ও বোন জামাইরা তাকে পিতৃবৎ শ্রদ্ধাকরি । আমার পরিবারের সাথে তাঁর সম্পর্ক এক সময় একাত্ম হয়ে যায় । কারন এক পর্যায়ে তিনি তাঁর ভাতিজা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্টার সামশুল আলমের সহিত আমার চাচাতো বোন লাভলী ইয়াছমিন বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ডেপুটি কন্ট্রোলার এর সাথে বৈবাহিক সম্পর্কের সূত্রপাত করেন । ফলে তিনি আরো ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হয়ে যান ।

১৯৮১ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সিনেটর নির্বাচনে সিনেট সদস্য নির্বাচিত হন, এবং ’৮৬ সালের দ্বিতীয় সিনেট নির্বাচনেও তিনি পুনরায় নির্বাচিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মত মহান বিদ্যাপীঠে বিরল সম্মানের অধিকারী হন । আরও গৌরবের বিষয় যে, তিনি সিনেট থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য নির্বচিত হয়ে সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বাঙ্গীন কর্মকান্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।তিনি স্থানীয় বহু লোকজনকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন । এছাড়াও তিনি যুগ্ম সম্পাদক, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র মৈত্রী সমিতি, চট্টগ্রাম শাখা; সদস্য চট্টগ্রাম আইন কলেজ পরিচালনা পরিষদ; সদস্য হাটহাজারী কলেজ পরিচালনা পরিষদ; সদস্য জাগৃতি সমাজ, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠনের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন ।

এছাড়াও তিনি কার্যকরি কমিটির সদস্য এবং সহ-সম্পাদক, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমতি; সভাপতি, “জাগৃতি” সাহিত্য ও বার্ষীকী সম্পাদক, চট্টগ্রাম সিটি কলেজ ছাত্র সংসদ (৬৮-৬৯); সদস্য, নাটাব; সহ-সভাপতি, চট্টগ্রাম সাংস্কৃতিক পরিষদ; সদস্য, ঈদ্গাহ পরিচালনা পরিষদ; সদস্য, উপদেষ্টা পরিষদ, বিজয় মেলা উদ্‌যাপন কমিটি, চট্টগ্রাম স্মরণিকা উপ-পরিষদ, চট্টগ্রাম হাইকোর্ট উদ্বোধনী কমিটি; উপদেষ্টা ও অনেক সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত থেকে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন । ১৯৯৯ ইং সনে তিনি হঠাৎ মস্তিষ্কের টিউমারে আক্রান্ত হয়ে ভারতের চেন্নাই এর এপোলো হাসপাতালে চিকিৎসা নেন । সেখানে ১৯৯৯ সালের মার্চ ও জুলাই মাসে ২ বার তাঁর ব্রেইনে টিউমার অপারেশন হয় । সেই থেকে তিনি আগের মত সামাজিক কর্মকান্ডে ব্যাপক অবদান রাখতে না পারলেও, সবার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন । কোভিড-১৯ বৈশ্বিক করোনা কালীন সময়ে তিনি ২/৩ বার ফোন করে আমাদের খোঁজ খবর নেন । এমন পিতৃস্নেহের ঋণ কখনো শোধ করার মতো নয় । তিনি তাঁর ভাগিনার পুত্র অর্থাৎ নাতি শিক্ষানবীস আইনজীবী মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন আরমানকে আমার চেম্বারে কাজ শিখাতে আমার হাতে তুলে দেন । অত্যন্ত সজ্জন, বন্ধুবৎসল, পরোপকারী মানুষটি আমাদের জন্য বটবৃক্ষ তুল্য সম্পদ ।

জনাব মুহাম্মদ নূরুল আমিনের সহধর্মীনি প্রফেসর শিরিণ আখতার বি.এ.(অনার্স), এম.এ । তিনি চট্টগ্রাম এনায়েত বাজার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ হতে অবসর প্রাপ্ত একজন শিক্ষিকা । সদালাপী, হাস্যোজ্যল, বিনয়ী, ধর্মভীরু ও সৎ চরিত্রের অধিকারী জনাব আলহাজ্ব মুহাম্মদ নূরুল আমীন ব্যক্তিগত জীবনে চার পুত্র সন্তানের জনক যতাক্রমে ১।গোলাম মোস্তফা তারেক, বি.এসসি. ইন সিভিল ইন্জিনিয়ারিং (বুয়েট), এম.আই.এস.(অষ্ট্রেলিয়া), অষ্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজ্য সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত। তাঁর স্ত্রী- আদিতি তারেক, বি.এসসি. ইন সিভিল ইন্জিনিয়ারিং (কুয়েট), এম.আই.এস.(অষ্ট্রেলিয়া), ভিক্টোরিয়া রাজ্য সরকারের সড়ক বিভাগে কর্মরত । ২।গোলাম সরোয়ার ইরফান, বি.এসসি. ইন কম্পিউটার সায়েন্স ইন্জিনিয়ারিং (বুয়েট), অষ্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে একটি বেসরকারী কোম্পানীতে সফটওয়্যার ইন্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত। তাঁর স্ত্রী- ফারহানা সাবরিনা, বি.এসসি. ইন ইলেক্ট্রিক্যাল ইন্জিনিয়ারিং (চুয়েট), অষ্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে একটি বেসরকারী আইটি কোম্পানীতে কর্মরত । ৩।গোলাম ইলিয়াস রায়হান ৪। তৌসিফ আমীন, এলএল.বি, এলএল.এম, শিক্ষানবীস আইনজীবী, চট্টগ্রাম জজ আদালত । পারিবারিক ও কর্মজীবনে একজন সুখী ও সফল ব্যক্তিত্ব । আমি তাঁর সুস্থ জীবন, হায়াতে তায়বা এবং উভয় জাহানের সাফল্য কমনা করি ।

লেখকঃ আইনজীবী,মানবাধিকার ও সুশাসন কর্মী