একদিনের ব্যবধানে হিলি স্থলবন্দরের খুচরা বাজারে পেঁয়াজের কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৭:০৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০

মোস্তাকিম হোসেন,হিলি স্থলবন্দর সংবাদদাতা:

ভারতের রপ্তানি বন্ধ করার সংবাদে অস্থির হয়ে উঠেছে হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজের বাজার। একদিনের ব্যবধানে দাম বেড়ে পেঁয়াজের কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে।

গতকাল সোমবার হুট করে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। এরপর ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই বাজারে পেঁয়াজের এমন দাম বাড়ল।

গত বছরও সেপ্টেম্বর মাসে ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এতে হু হু করে দাম বেড়ে পেঁয়াজের কেজি ৩০০ টাকা পর্যন্ত ওঠে।

এবারও সেই সেপ্টেম্বরেই ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিল। এতে পেঁয়াজের দাম আবারও অস্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে এমন আশঙ্কায় কেউ কেউ বাড়তি পেঁয়াজ কেনা শুরু করে দিয়েছেন এমন দৃশ্য দেখাও গেছে।

আজ মঙ্গলবার হিলি স্থলবন্দরের খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। আমদানিকরা ভারতের পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। অথচ গতকাল দেশি পেঁয়াজের কেজি ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি ছিল ৪০ থেকে ৪২টাকা।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, হঠাৎ করেই পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। তবে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পাইকারদের অভিযোগ বেশি দামের আশায় অনেক পেঁয়াজ আড়তদার তাদের আড়ত বন্ধ রেখেছেন।

হিলি বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মিঠু মিয়া বলেন, পেঁয়াজের কারসাজি আর ভাল লাগছে না। প্রতি ঘন্টায় দাম বাড়ছে। গতকাল সোমবার সকালে বিক্রি করেছি ৪০ টাকা, আর সন্ধ্যায় ৫০ টাকা, আজ সকালে সেই পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। ক্রেতারা দাম শুনে মাথায় হাত দিয়ে বাজারে দাম যাচাই-বাছাই করে বেড়াচ্ছে।

হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে হিলি বাজারের পাইকারী পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলাম বলেন, পেঁয়াজ আমদানিকারকদের নিকট পেঁয়াজ চাচ্ছি, তারা বলছে পেঁয়াজ নেই।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক সাইফুল ইসলাম বলেন,পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ। আমার নিকট কোন রকম পেঁয়াজ নেই।

এদিকে হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন জানান, গতকাল সোমবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। তবে এতে করে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে আমদানি-কারকরা।আমাদের কয়েক হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজের এলসি দেওয়া আছে। সেই পণ্যগুলো পাইপ লাইনে রয়েছে। সেই পণ্যগুলি এখন আমরা কি করব। আমাদের পন্যগুলো কিছুটা পঁচে যাবে। যেহেতু আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। বাজারে কম দামে বিক্রি করতে হবে আসলে সব দিক দিয়ে আমদানি-কারকদের সমস্যা। দাম বাড়লেও আমদানি-কারকদেরই সমস্যা। এখন বন্ধ করে দিলো এখানেও আমদানি-কারকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আমরা পোর্টে খুব বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করি না।তবে হিলিতে বা পোর্টগুলিতে মজুত করার কোন সুযোগ নেই। আমরা ভারতীয় পেঁয়াজ কোন রকম মজুদ করতে পারি না। আর পোর্টে যেগুলো পন্য ঢুকেছিলো ইতিমধ্যে সব পণ্য চলে গেছে।