ঢাকা১৬ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঈদগাঁওতে ইরি-বোরো চাষে ব্যস্ত কৃষক

প্রতিবেদক
নিউজ ভিশন

ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২১ ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আমির হোসেন, ঈদগাঁও::
কক্সবাজার সদর ঈদগাঁওতে ইরি-বোরো রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। শীত উপেক্ষা করে এখন দিন-রাত জমিতে সেচ দেয়া, জমিতে চাষ দেয়া, বীজতলা থেকে চারা তোলাসহ বোরো ধান চাষের নানা কাজে এখন দারুণ ব্যস্ত তারা। মাঠে ব্যস্ততা দেখে ও তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে চাষাবাদ করে বাম্পার ফলনের মধ্য দিয়ে তারা বিগত সময়ের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চান। এদিকে কয়েক বছর ধরে ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় অনেক কৃষক অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকছেন বলেও সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়ন গজালিয়া গ্রামের নুর আলম, ঈদগাঁও ইউনিয়ন ভোমরিয়া ঘোনা গ্রামের লিয়াকতসহ অনেক চাষি জানান, গত ২ বছর যাবত ধানের মূল্য না পাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে ভুট্টা, শাক-সবজিসহ অন্যান্য ফসল চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। কৃষকরা আরও জানিয়েছেন, গত বছর রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ ও শৈত্য প্রবাহের কারণে বীজতলা নষ্ট হওয়ায় তাদের চড়া দামে চারা কিনতে হয়েছিল।

তবে বর্তমানে চারা থেকে শুরু করে ডিজেল ও সারের সঙ্কট না থাকায় বিভিন্ন মাঠে বোরো ধানের চারা রোপণের কাজ অনেকে ইতোমধ্যেই শেষ করে ফেলেছেন আবার কেউ কেউ শুরু করছেন।

কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের কৃষক আবুল হাশেম, আহমদ হোসেন, আতাউল করিম ও শফি আলম এমন মন্তব্য করে জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর অনেক কৃষক তাদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করেও চারা বিক্রয় করতে পারবেন। এ বছর বোরো ধান চাষে খরচ অন্যান্য বছরের চেয়ে কিছুটা কম বলে খানিকটা উজ্জীবিত কৃষকদের আশঙ্কা শুধু ধান-চালের ন্যায্য মূল্য নিয়ে।

ইসলামাবাদ ইউনিয়নের গজালিয়া গ্রামের রশিদ মিয়া জানান, তিনি ৩ বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপণ করবেন বলে সব প্রস্তুতিই প্রায় সম্পন্ন করেছেন। এরই মধ্যে প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ধানের চারা বাবদ ৪৫০ টাকা, জমি চাষ করা বাবদ ৭৫০ টাকা, দিনমজুর বাবদ ১০০০ টাকা, সার কেনা বাবদ ১৩০০ টাকা। এছাড়া ৩ মাস পানি সেচ বাবদ ২০০০টাকা, নিড়ানী ও কিটনাশকসহ নানা ওষুধ বাবদ আরও প্রায় ১০০০ টাকাসহ ধান কাটা-মাড়াইসহ আরও প্রয়োজন ২০০০টাকা। এ নিয়ে প্রতি বিঘা জমিতে চাষাবাদ বাবদ সর্বমোট খরচ হবে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা।

ফলন ভালো হওয়াসহ দাম ভালো পাওয়া গেলে এই খরচ আর পরিশ্রম দুই সার্থক হবে। কৃষক রশিদ এর মত একই কথা বলেন অন্যান্য কৃষকরাও। উৎপাদিত ধান-চালের ন্যায্য মূল্য পাবে বলে আশাবাদী চাষিরা।

সম্পর্কিত পোস্ট