ইউসিবিএল পথেরহাট শাখার ভল্ট ডাকাতির মামলায় আসামীদের ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১:১৮ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২, ২০১৯

আদালত প্রতিবেদক,চট্টগ্র্রাম :

ইউসিবিএল পথেরহাট শাখার ভল্ট থেকে ডাকাতির মাধ্যমে টাকা লুটের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আজ চট্টগ্রামের বিজ্ঞ ৪র্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ মোসলেহ্ উদ্দিন এর আদালত। ইউনাইটেড কমার্স ব্যাংক লিঃ, পথের হাট শাখার পক্ষে তৎকালীন ম্যানেজার জাফরুল হক বাদী হয়ে স্থানীয় রাউজান থানায় বিগত ১৩/০৯/২০০৯ইং তারিখে আসামীদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহার পর্যালোচনায় জানা যায়, ইউসিবিএল রাউজান নোয়াপাড়া পথেরহাট শাখার ভল্ট থেকে ৩৪ লাখ ৫২ হাজার টাকা খোয়া যায়। ১২/০৯/২০০৯ইং (শুক্রবার) দুপুর ২.০০ টা থেকে শনিবার সকালের মধ্যে যেকোন সময় ব্যাংকের স্ট্রং রুমের তালা ভেঙ্গে এ টাকা চুরির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ব্যাংকের নিরাপত্তা প্রহরী আবু সাইদকে আসামী করে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামীর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মোঃ আবুল হাশেম,মোঃ শামসুল আলম ও মোঃ হোসেন বাদশাকে অত্র মামলায় গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার আসামীদের নিকট থেকে ব্যাংকের চুরি যাওয়া ৫,৪৭,২০০/- টাকা উদ্ধার করে জব্দ করেন। মামলা তদন্ত করে তদন্তকারী কর্মকর্তা ২৩/১২২০০৯ইং তারিখে আসামীর বিরুদ্ধে দ: বি: ৩৮২/৪১১/১১৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দালিখ করেন। অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বিজ্ঞ আদালত বিগত ১৬/০৮/২০১১ইং তারিখে আসামীদের বিরুদ্ধে ৩৯২/৪১১ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন। পরবর্তী পর্যায়ে মামলার বাদী/সংবাদদাতা, তদন্তকারী কর্মকর্তা, জব্দ তালিকার সাক্ষী এবং আসামীদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণকারী বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট জনাব মোঃ আজিজুর রহমান সহ মোট ১২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, জেরা, জব্দ তালিকা পর্যালোচনা, আসামীদের স্বীকারোক্তি পর্যালোচনা করে যুক্তিতর্ক শুনানীর জন্য দিন ধার্য্য করেন। পরবর্তীতে বাদী/সংবাদদাতা পক্ষে এবং আসামী পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানী শেষে আজ আসামীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতিত ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামী আবুল হাশেম কে দ:বি: ৪১১ ধারায় ৩ বছরের কারাদন্ড এবং ৩০০০ টাকা অর্থ দন্ড অনাদায়ে আরও ১মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড, আসামী মোঃ দিদারুল আলম এবং মোঃ হোসেন বাদশার বিরুদ্ধে দ: বি: ৩৯২ ধারায় ১০বছরের করাদন্ড এবং ১০০০০ টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ৪মাসের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, মামলা তদন্ত চলাকালীন সময়ে আসামী মোঃ সাঈদ মৃত্যুবরণ করায় তাকে অত্র মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলার রায় প্রচারের সময় আসামী আবুল হাশেম বিজ্ঞ আদালতে হাজির ছিলেন। তার জামিন বাতিল করে সাজা পরোয়ানা মূলে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। অপর আসামী মোঃ দিদারুল আলম এবং মোঃ হোসেন জামিনে গিয়ে পলাতক থাকায় বিজ্ঞ আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন- এডভোকেট এ.এম জিয়া হাবীব আহসান, এডভোকেট মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন, এডভোকেট এ.এইচ.এম জসিম উদ্দিন, এডভোকেট প্রদীপ আইচ দীপু, এডভোকেট দেওয়ান ফিরোজ আহমদ, এডভোকেট সাইফুদ্দিন খালেদ,এডভোকেট মোঃ হাসান আলী,এডভোকেট মোঃ বদরুল হাসান প্রমুখ। রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডিশনাল পিপি এডভোকেট মোঃ নাসির উদ্দিন।