আল কুর’আন ও সমুদ্রবিজ্ঞান

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০২০

হাবিবুন নাহার মিমি

আল কুরআন সত্যিই এক বিজ্ঞানময় মহাবিস্ময়। যে বিস্ময়কর প্রাকৃতিক বিষয়সমূহ বিজ্ঞানীরা মাত্র কিছুদিন আগে আবিস্কার করেছেন, আল কুরআনে তা বলা হয়েছে হাজার বছর আগেই। আল কুরআন এক বিজ্ঞানময় গ্রন্থ। বিজ্ঞানের এমন কোনো শাখা নেই যা সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলা হয়নি।
সমুদ্রবিজ্ঞান বা Oceanography -র কথাই ধরা যাক। এক সাগরের পানি আরেক সাগরের পানির সাথে না মেশা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে কিছুদিন আগ পর্যন্ত চলেছে অনেক জল্পনা-কল্পনা। দুটি সাগর বয়ে যাচ্ছে পাশাপাশি, অথচ এক সাগরের পানি মিশছে না আরেক সাগরের পানির সাথে! বিস্ময়করই বটে। সম্পতি বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে বের করেছেন যে পৃথিবীর প্রতিটি সাগর-উপসাগরের পানির ঘনত্ব, লবণের পরিমাণ, ও বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতির পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন। এজন্য এক সাগরের পানি অন্য সাগরের পানির সাথে মেশে না। বয়ে যায় সমান্তরালে অথবা উপর-নিচে।
অথচ পবিত্র আল কুর’আনে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বহু আগেই বলে রেখেছেন:

“তিনি দুই সমুদ্রকে প্রবাহিত করেন, যারা পরস্পর মিলিত হয়। উভয়ের মাঝখানে রয়েছে এক আড়াল, যা তারা অতিক্রম করতে পারে না। অতএব (হে মানব ও দানব) তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোনো নিয়ামতকে অস্বীকার করবে? (সূরা আর-রাহমান, ৫৫ : ১৯- ২১)

তিনি আরো বলেছেন,

“আল্লাহ তাআলা দু’টি সমুদ্রকে প্রবাহিত করেছেন এবং সেখানে দুই সাগরের মাঝখানে রয়েছে একটি অদৃশ্য দেয়াল বা আড়াল।’’

যে রহস্য সম্পর্কে কিছুদিন আগ পর্যন্ত তাবৎ পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা ছিলো বেখবর, আল কুরআনে তা বলা হয়েছে প্রায় পনেরোশ বছর আগে। সুবহানআল্লাহ!
পবিত্র কুরআনের বরেক জায়গায় বল্লাহ ইরশাদ করেন,

“তিনি পাশাপাশি দুই দরিয়া প্রবাহিত করেছেন। উভয়ের মাঝখানে রয়েছে এক অন্তরায়, যা তারা অতিক্রম করে না।” (সূরা রাহমান ১৯-২০)

চলুন একটি ছোট্ট গল্প শুনি।
Marine Biology-র একজন প্রসিদ্ধ বিজ্ঞানী Jack V Costa । তিনি সমুদ্রের পানি নিয়ে গবেষণা করছেন কয়েক যুগ ধরে। বিভিন্ন গবেষনার মধ্যে অন্যতম প্রধান রিসার্চ ছিল-
কি কারণে দুই সমুদ্রের পানির পরস্পর সম্মিলন ঘটে না, এক সমুদ্রের পানি এক রঙ্গের এবং এক স্বাদের অপর সমুদ্রের পানি আরেক রঙ্গের এবং আরেক স্বাদের।

পানি সম্পর্কে গবেষণায় নিজের জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছেন তিনি। তারঁ গবেষনালব্ধ ফলাফল আমরা জানি যাকে বলা হয়- COSTA Theory ।একটা সময় পর তার সঙ্গে একজন মুসলমান বিজ্ঞানীর সাক্ষাৎ হল, আলোচনাকালে কোষ্টা যখন তার মতবাদ উপস্থাপন করল তখন তিনি বললেন-‘‘আপনি তো এখন গবেষণা করেছেন। আমি আপনাকে শত শত বছর আগের গবেষণা দেখাতে পারব। যখন মুসলিম বিজ্ঞানী তাকে কুরআনের আয়াত দেখালো-

055.019 مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ يَلْتَقِيَانِ

055.020 بَيْنَهُمَا بَرْزَخٌ لا يَبْغِيَانِ

055.021 فَبِأَيِّ آلاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

“তিনি দুই সমুদ্রকে প্রবাহিত করেন, যারা পরস্পর মিলিত হয়। উভয়ের মাঝখানে রয়েছে এক আড়াল, যা তারা অতিক্রম করতে পারে না। অতএব (হে মানব ও দানব) তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোনো নিয়ামতকে অস্বীকার করবে? (৫৫ : ১৯- ২১), তখন কোষ্টা স্তম্ভিত হয়ে গেল এবং সে ইসলাম গ্রহণ করলো।

উদাহরণ হিসেবে আমরা আলাস্কা উপসাগরের কথা চিন্তা করতে পারি। আলাস্কা উপসাগরের ভেতর দিয়ে বয়ে চলেছে দুই ধরনের পানির স্রোতরেখা। এক স্রোতরেখার পানির সঙ্গে আরেক পানি মেশে না। একসাথে দুই রঙের উজ্জল ও নয়নাভিরাম দৃশ্য চোখে পড়ে খুব কমই। তাই স্থানটি পরিণত হয়েছে একটি নান্দনিক পর্যটনকেন্দ্রে।
আবার ধরা যাক লোহিত সাগরের কথা। লোহিত সাগরের পানি কিন্তু শুধু লাল-ই না, সাথে রয়েছে নীল। কিন্তু লাল পানি ও নীল পানি কখনো মিশ্রিত হয়না। ঢেউয়ের সময় এক রঙের পানি আরেক রঙের পানির উপরে চলে গেলেও ঢেউয়ের ধাক্কা চলে যেতেই আবার নিজ নিজ জায়গার ফিরে যায় লাল-নীল পানি।
মহান আল্লাহর এতো বিস্ময়কর নিদর্শন দেখার পরও আমরা ইসলাম সম্পর্কে বেখেয়াল আছি কি করে? কিসে আমাদের আল্লাহকে ভুলিয়ে দিলো? দু’দিনের মুসাফিরখানা এই দুনিয়া? চলুন ফিরে যাই আল্লাহর পথে, ইসলামের পথে।