আলেমদের কর্মক্ষেত্র ছড়িয়ে পড়ুক সর্বত্র

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ২:২২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০২০

রফিকুল ইসলাম জসিম
বিশেষ প্রতিবেদন

করোনা পরিস্থিতি ভেঙে দিয়েছে দেশের আর্থসামাজিক শৃঙ্খলা। পাল্টে দিয়েছে মানুষের জীবনযাত্রার গতি ও ছন্দ। অসংখ্য আলেম ও দীনদার পরহেজগার মানুষের মধ্যে এক ধরনের বিচলন দেখা গেছে। এই সময়ের মাঝে তরুন আলেম মোহাম্মদ হাসান প্রতিষ্ঠিত ও সম্মান জনক ফার্মেসী ব্যবসার দিকে নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন৷ এ ব্যবসায় কম পুঁজি বিনিয়োগ করে সহজেই লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেজার আদমপুর বাজার দক্ষিণ চৌমুহনী কান্দি গাঁও রোড, আদমপুর ডায়াগনস্টিক সেন্টার সংলগ্ন ‘সাদ ফার্মেসীর স্বত্বাধিকারী মাওলানা মোহাম্মদ হাসান। তিনি বলেন ফার্মেসি দিতে চাইলে বিভিন্ন ওষুধ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকতে হবে। শুধু ওষুধের নাম জানলেই হবে না। কোন ওষুধ কী কাজে লাগে সে সম্পর্কেও জানতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আল্লাহ তায়ালা ব্যবসাকে হালাল এবং বরকতময় করেছেন। বৈধ সব পেশাকে সম্মানিত করেছেন। আর নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা উত্তম জীবিকা হলো সেটি, মানুষ যা তার নিজ হাতে উপার্জন করে।

মানুষের মানবতাবোধ জাগ্রত করা, সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা এবং রাসূল (সা.)-এর আদর্শ অনুযায়ী নিজে চলা ও সমাজকে পরিচালনার শিক্ষাই দেয়া হয় মাদ্রাসাগুলোতে। সে হিসেবে সমাজের প্রতিটি সেক্টরই আলেমদের কর্মক্ষেত্র। মসজিদ বা মাদ্রাসার চার দেয়ালই শেষ গন্তব্য নয়। মাদ্রাসার পড়াশোনা শেষে নিজ কর্মপ্রতিভা ছড়িয়ে দিচ্ছে সমাজে। এমনই মেধাবী এক আলেম মাওলানা
মোহাম্মদ হাসান, মসজিদে ইমামের পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞানের জগতেও বিচরণ করেছেন। এখন শিক্ষকতা করছেন জেনারেল বিদ্যাপীঠ পদ্মা মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে।

মাওলানা মোহাম্মদ হাসানের মতো উদ্যমী অনেক তরুণ সমাজের মূল ধারায় যুক্ত হচ্ছেন নিজ উদ্যোগে। কিন্তু তাদের এ পথচলাটা খুব মসৃণ নয়। সামাজিক ও বিভিন্নভাবে অনেক প্রতিকূল পরিবেশ মাড়িয়েই জয় করতে হয় তাদের কাক্সিক্ষত স্বপ্নকে। এ প্রতিকূলতার ভয়েও অনেকেই ভিন্ন কিছু করতে আগ্রহী হয় না।

মাওলানা মোহাম্মদ হাসান বলেন, অপ্রিয় হলেও সত্য, আমাদের দেশে সাধারণ শিক্ষিত ও মাদ্রাসা পড়ুয়াদের মাঝে একটি দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। এ দূরত্বের ফলে নবীন ছাত্ররা এক ধরনের হীনমন্যতায় ভোগে। কোনো আলেম যদি মাদ্রাসা-মসজিদের বাইরে ভিন্ন কিছু করতে চায়, তাহলে সামাজিকভাবে তাকে নিরুৎসাহিত করা হয়। এজন্য সবাইকে বলব, দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করে আলেমদের কাজের সুযোগ দিন। আর আলেমদেরও বলব, আমরা যদি আমাদের যোগ্যতার পাশাপাশি মেধাবী ও সুন্দর আচরণ করতে পারি, তাহলে যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি আমাদের অনুকূল হয়ে যাবে। আসলে সবার বোঝা উচিত, মাদ্রাসা পড়ুয়ারা জীবন ও সমাজের বাইরের কেউ নন। এ কথাগুলো শুধু মোহাম্মদ হাসানের নয়। এ প্রজন্মের মাদ্রাসার ছাত্ররা এগিয়ে যেতে চায় জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতিটি ধারায়। কিন্তু সঠিক দিকনির্দেশনা ও সামাজিক অবস্থার কারণে ফুটিয়ে তুলতে পারছে না সুপ্তপ্রতিভাগুলো।

মাওলানা মোহাম্মদ হাসানের কাছে জানতে চেয়েছি, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তার কর্মজীবনের শুরুর দিককার কথা। উদ্যমী এ আলেম বললেন, পদ্মা মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে যখন আমি জয়েন করি, সহকর্মীরা সম্মানের সঙ্গেই আমাকে গ্রহণ করেছিল। প্রথমদিকে দুই-একজন এমনভাব করত যে, হুজুর মানুষ আর কি পড়াবে। ধৈর্য ধারণ করে কাজ করেছি, আমার যোগ্যতা ও আচরণই তাদের আমার প্রতি মুগ্ধ করেছে।

শুক্রবারে জুমা পড়ান বন্দর গাঁও জামে মসজিদে। সব মিলিয়ে কর্মব্যস্তময় সুন্দর এক জীবনের অধিকারী তরুণ ও আলেম। নিজে স্বপ্ন দেখেন স্বপ্ন দেখাতেও শেখান। তাছাড়া তরুণ ছাত্রদের তিনি স্বপ্ন দেখান, আগামীর উজ্জ্বল এক সোনালি বাংলাদেশের। যেখানে আলেম সমাজ নিজস্ব স্বকীয়তায় মুখরিত করবে প্রতিটি কর্মক্ষেত্রকে। ধর্ম ও কর্মের মাঝে সমন্বয় করে চলবে প্রতিটি মুসলমান। শান্তি, সম্প্রীতি ও উদারতার এক মডেল হবে বাংলাদেশ। এ জন্য প্রয়োজন মাদ্রাসা শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানেও বুৎপত্তি অর্জন। তখন মাদ্রাসা ছাত্রদের প্রতিভা শুধু মাদ্রাসা-মসজিদেই নয়, ছড়িয়ে পড়বে সর্বত্র।