ঢাকা১৮ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আর কত বয়স হলে বয়স্ক ভাতার আওতায় আসবে বিনু বালা শীল

প্রতিবেদক
নিউজ ভিশন

মার্চ ১, ২০২১ ২:০১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সাত্তার সিকদার, নিজস্ব প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম:

বিনু বালা শীল বয়স ১শ ছুঁই ছুঁই ,বয়সের ভারে যেন নুয়ে পড়ছে। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলার চেষ্টা করলো বয়স্ক বা বিধবা ভাতার কথা আরকি বলবো। কোন সময় উপর ওয়ালার ডাক আসে কি জানি । ক্ষোভের সাথে বললো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার দেওয়া বয়স্ক ভাতা কিংবা বিধবা ভাতার তালিকায় আমার নাম এখনো অন্তর্ভুক্ত করার সময় হয়নি। বৃদ্ধা বিনু বালা শীলের প্রশ্ন আর হত বয়স অইলে ভাতার কাড পাইয়ুম? (আর কত বয়স হলে বয়স্ক বা বিধবা ভাতার কার্ড পাবো?)।
জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তাঁর জন্মতারিখ ১৯২২ সালের ১ মার্চ। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বয়স্ক ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে নারীর বয়স সর্বনিম্ন ৬২, আর পুরুষের বয়স সর্বনিম্ন ৬৫ বছর। সে অনুযায়ী বিনু বালা শীল বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতা পাওয়ার যোগ্য হলেও এত দিনেও কেউ তাঁর সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি। খেয়ে পরে বেঁচে থাকার জন্য শুধু একটা বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতার কার্ড চান তিনি।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজানে বিনু বালা শীল (৯৯) নামের এক মহিলা এখনো বয়স্ক ভাতার আওতায় আসেনি। বিনু বালা শীল (৯৯) পশ্চিম কলাউজান শীল পাড়া (৫নং ওয়ার্ড) মৃত জোগেন্দ্র শীলের স্ত্রী। বিনু বালা শীলের দুইছেলে সাধন শীল ও বাবুল চন্দ্র শীল দুই ছেলে সেলুনের দোকানে কাজ করেন। স্বামী মারা গেছেন ৩২ বছর আগে। বার্ধক্যজনিত কারণে নানা রোগে-শোকে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন তিনি। স্বামী মারা যাওয়ার পর বাবুল চন্দ্র শীল দেখভাল করেন তার মাকে। সেলুনের দোকানে কাজ করে মা ও পরিবার পরিজন নিয়ে কোন রকম অভাবের সংসার চলে তাদের। একদিকে অভাবের সংসার অন্যদিকে বয়সের ভারে অনেক আগেই কর্মশক্তি হারিয়েছেন তিনি। তাই অনেকটা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটে এই বৃদ্ধার পরিবারের সদস্যদের। অথচ এখনও তার কপালে জোটেনি বয়স্ক ভাতা কিংবা বিধবা ভাতার কার্ড।

এ ব্যাপারে স্থানীয়রা জানান, বিনু বালা শীলের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে মেয়ে মারা গেছেন। বয়স্ক ভাতা কিংবা বিধবা ভাতার কার্ড হলেও অন্তত কিছুটা চলতে পারতো বিনু বালা শীল।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবীব জিতু বলেন, কলাউজানে ৯৯ বছর বয়স্ক মহিলা বিধবা ভাতা কিংবা বয়স্ক ভাতার আওতায় আসেনি এটা দু:খের বিষয়। ওই বিধবা লোহাগাড়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসে আবেদন করলে তাঁর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত পোস্ট