আমি আসবো ভেবে তাঁরা ঘুমিয়ে পড়ে!!

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ২:৫৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২০

জাহেদুর রহমান সোহাগ, স্টাফ রিপোর্টার,চট্টগ্রাম:

যা সন্দেহ করেছিলাম সেটাই আমার উপর ভর করল। করোনা আমাকেও ছাড়েনি। “যখন আমি করোনা পজিটিভ” এমন ফেজবুক স্ট্যাটাসে অসুস্থতার গল্প লিখলেন চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দৈনিক প্রথম আলোর রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি আব্বাস হোসাইন আফতাব।

তিনি লিখেন, ১১ জুলাই থেকে করোনার সব উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরিবারের সদস্যদের কথা চিন্তা করে ১৬ই জুলাই নমুনা দিই। ১৭ই জুলাই রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মেডিক্যাল অফিসার ও করোনা বিষয়ক ফোকাল পারসন ছোট ভাই প্রিয় ফোরকান উদ্দিন সিকদার ফোনে জানান আমার করোনা পজিটিভ। কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম। আমার স্ত্রী সাহস দেন, আমাকে ঘরোয়া যা করা দরকার সব করে যান। উচ্চ মাত্রার ডায়াবেটিস থাকায় চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালেই যেতেই হলো আমাকে।

করোনা ১ম পর্বে সন্দেহ হওয়ায় আমি পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যায়।সময়টা খুবই মর্মান্তিক। আমার দুই অবুঝ শিশু কন্যা মুসকান ও মেহরিন(নাজাত) মন খারাপ করে। বাবা আলাদা কেন? তাঁরা বুঝতে পারেনা কেন দূরে সরে গেছে। রাতে আমি ছাড়া তাঁদের ঘুম আসেনা। আমার স্ত্রী প্রতিরাতে ঘুমানোর সময় আমার বালিশটা খালি রেখে দেন। যাতে ওরা মনে করে আমি আসবো ওদের পাশে ঘুমুতে । আমি আসবো ভেবে তাঁরা ঘুমিয়ে পড়ে।নিজে হতাশ হতাম।
গত ২২ জুলাই আবারো দুঃসংবাদ শুনি, আমার স্ত্রীর করোনা নেগেটিভ আসলেও আমার মায়ের পজিটিভ। কিছুটা চিন্তিত হয়ে পড়ি। আল্লাহর উপর ভরসা করি।বরাবরের মতো তাও চিকিৎসা চালিয়ে যান প্রিয় ফোরকান। পরিবারের সবার আস্থা তাঁর প্রতি। তাঁর পরামর্শে চলছে মায়ের চিকিৎসা।
চট্টগ্রাম ফিল্ড হসপিটালের চিকিকৎসা সেবার ভ’য়সী প্রশংসা করে আব্বাস হোসাইন বলেন; তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। জীবন বাজি রেখে করোনা আক্রান্ত রোগীদের পরিবারের মতো সেবা দিচ্ছে।উন্নতমানের সেবা নিশ্চিত করে ও তাদের আন্তরিকতা রোগীদের দ্রুত সময়ে সুস্থ করে তোলে।হাসপাতালের প্রধান উদ্যোক্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বিদ্যুৎ বড়ুয়াকে মানবিক ডাক্তার উপাধি দেন তিনি ।
সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনা থেকে মুক্ত থাকা যায়। মনোবল শক্ত রেখে চিকিৎসা চালালে করোনা জয় অসম্ভব কিছু নয় বলে জানান রাঙ্গুনিয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও দৈনিক প্রথম আলোর রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি আব্বাস হোসাইন আফতাব।