বুধবার ২৭শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
আমাদের সম্পর্কে
যোগাযোগ

আমার বটবৃক্ষের ছায়া হারিয়ে ফেলেছি !

অক্টোবর ১২, ২০২১
প্রিন্ট
নিউজ ভিশন

আমার বাবা’-এই শব্দের মধ্যে নিহিত আছে বাবার জন্য আমার বলা না-বলা যত আবেগ, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, গর্ব; তাঁকে হারানোর কষ্ট আর অশ্রু। বাবা আমাদের কাউকে কিছু না বলে,কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে, কাউকে কিছু করার কোনো সুযোগ না দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন। আর কখনো বাবা সঙ্গে দেখা হবে না, কথা হবে না এটি আমার কাছে দুঃস্বপ্নের মতো মনে হয়। জীবন বহমান। সকল হারানো কিংবা শোক-তাপের ঊর্ধ্বেও জীবন স্বীয় গতিতে চলবে। এটাই চিরন্তন সত্য।

স্মৃতি শুধুই স্মৃতি। কিছু স্মৃতি বড়ই বেদনাদায়ক। কিন্তু স্মৃতিকে যেমন ভুলে থাকা যায় না, তেমনি অস্বীকারও করা যায় না। আমি জানি না, আমি আমার বাবাকে কতটা ভালোবাসি। কিন্তু আজ আমার সেই ভালোবাসা আমি কাকে প্রদর্শন করব? কাকে আমি সেই বাবা বলে ডাকব? আমার ভাগ্যবিড়ম্বিত এই আক্ষেপ অন্তরের। এই জ্বালা কি কোনো দিন নিভবে?আজ একটা সৃতি বার -বার তাড়া দিচ্ছে গরমের রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে, আমার বিছানায় এসে পাকা নিয়ে বাতাস করতেন যতক্ষণ পর্যন্ত ঘুম না আসে আর চিন্তা করতে হাইরে আজ আমার ছেলের ঘুম আসবে না।

আহ! দেখতে দেখতে আর হোচঠ খেতে খেতে আজ ৪ দিন পার করে ফেলেছি, আমি বাবাহীন অসহায়।
বাবা তোমার মতো আমাকে আপন করে আর কেউ ভালোবাসে না। না খেয়ে কেউ রেখে দিবে না, আমার খাওয়া নিয়ে কেউ অপেক্ষা করবে না,বড় মাছের মাথাটা আর কেউ বলবে না আমার ছেলের জন্য রেখে দে আমি খাব না। কেউ আর বাবার মতো নিঃস্বার্থ ভালোবাসে না। বাবা কখনও তুমিত তো কিছুই নিতে চাও নি, শুধু দিতে চাইতে। পৃথিবীতে এমন কোনো ভাষা নেই আমার মনের এ ক্ষতকে প্রকাশ করতে পারব। আমার বাবা নেই। আমার বটবৃক্ষ নেই। যে আমার জন্ম থেকে তার শীতল ছায়া দিয়ে বড় করেছে। এখন গ্রীষ্মের দাবদাহে আমার গা পুড়ে ছারখার হলেও। কেউ আর বটবৃক্ষের ছায়া নিয়ে আমার পাশে দাঁড়াবে না কেউ।

আমার বাবা ছিল একজন ভালো ও নীতি–আদর্শবান ছিলেন।মৃত্যুর খবর শুনে একজনের ফেইসবুক একটা পোষ্ট হুবহু তুলে ধরলাম,
সকাল ৮টার দিকে একসাথে পাশাপাশি বসে চা খেয়েছি। কথা বলেছি। কথায় কেমন যেন জড়তা লক্ষ্য করলাম, যে রকম আমার বাবার ক্ষেত্রেও দেখেছিলাম।
পান দোকানির কাছ থেকে কী নিয়েছেন খেয়াল করিনি। তবে একটাকা ফেরত দিতে পারল না দোকানি। ঈষৎ হাসলেন বড় ভাই মোস্তাক আহমদ।
রাস্তার দক্ষিণের ড্রেন দিয়ে পূর্বদিকে হাঁটছি দু’জন। হঠাৎ অপ্রসাঙ্গীক প্রশ্ন। “আজগর তোর কি মনে আছে, একটি মা ডাহুক পাখি তোর হাত থেকে কেড়ে নিয়ে তেঁতুলতলার জঙ্গলে ছেড়ে দিয়েছিলাম?”
আমি থমকে দাঁড়িয়ে বললাম, “মনে আছে বদ্দা। সেদিন প্রচুর গালি দিয়েছিলাম আপনাকে। ছোট ছিলাম, বুঝিনি- মা পাখিটা ধরে ফেললে বাচ্চাগুলো মরে যাবে।”
মোস্তাক বদ্দার জীবনটাই ছিল এ রকম। অতি শান্ত, শাদা মনের মানুষ। জীবনে কখনো অন্যায় করতে দেখিনি। ইবাদত বন্দেগীতে কাটিয়ে দিয়েছেন প্রায় সত্তর বছরের জীবন। হজ্ব করেছেন। তাবলীগে যেতেন। আনুষ্ঠানিকতা নয়, তাঁর পুরো জীবনকালটাই ছিল বিশুদ্ধ ধর্মচর্চা।

বেলা ১১টার দিকে তাঁর মৃত্যু সংবাদ শুনে ধক করে উঠল বুকটা। নতুন করে ভাবলাম, আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগের ডাহুক কাহিনি তাঁর স্মরণে আসার হেতু কী!! মানুষের জীবনের সবচেয়ে ভাল কাজগুলো কি মৃত্যু সন্নিকটে এলে অটোমেটিক স্মরণে আসে?? হয়ত হবে।মোস্তাক বদ্দার জীবনের সমস্ত ভাল কাজগুলো যেন উনার পরকালিন যাত্রার পাথেয় হয় এই কামনা করি, আমিন।

বাবা হারানোর ব্যথা বা বাবাহীন জীবনের কষ্ট ভয়ংকর।
আমার বাবা খুব সাধারণ দরিদ্র পরিবারের সন্তান, কালারমারছড়ার উত্তর নলবিলার হাজ্বী ইছাক মিয়ার ৩য় পুত্র।তার ৫ ছেলে ২ মেয়ে নিয়ে একটা সাজানো বাগান।আজ সেই বাগানে সব আছে শুধু বড় বৃক্ষের ছায়া নেই। বাবা ছোট কাল থেকে দিন- রাত অনেক কষ্ট করে আমাদের মানুষ করেছে।আমাদের সম্পদ বলতে কিছুই নেই শুধু মা-বাবা ছাড়া।আজ সেই সম্পর্ক হারিয়ে পেলেছি।
পরিশেষে কামনা করি, সবাই আমার বাবা জন্য দোয়া করবেন,আল্লাহ যেন বাবাকে জান্নাতের মেহমান হিসাবে কবুল করেন,আমিন।
পৃথিবীর সকল বাবা ভাল থাকুক,সুস্থ থাকুক সেই কামনা রইল।।
———-
ফারুক আজম
স্টাফ রিপোর্টার(চট্টগ্রাম)
নিউজ ভিশন

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
logo

নিউজ ভিশন বাংলাদেশের একটি পাঠক প্রিয় অনলাইন সংবাদপত্র। আমরা নিরপেক্ষ, পেশাদারিত্ব তথ্যনির্ভর, নৈতিক সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী।

সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম

ঢাকা অফিস: ইকুরিয়া বাজার,হাসনাবাদ,দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ,ঢাকা-১৩১০।

চট্টগ্রাম অফিস: একে টাওয়ার,শাহ আমানত সংযোগ সেতু রোড,বাকলিয়া,চট্টগ্রাম |

সিলেট অফিস: বরকতিয়া মার্কেট,আম্বরখানা,সিলেট | রংপুর অফিস : সাকিন ভিলা, শাপলা চত্ত্বর, রংপুর |

+8801789372328, +8801829934487 newsvision71@gmail.com, https://newsvisionbd.com
Copyright@ 2021 নিউজ ভিশন |
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ‌্য মন্ত্রণালয়ে আবেদিত ।