আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও জাতির ভবিষ্যৎ

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৩:৩৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২০

—————————

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। একটি শিক্ষিত জাতির উপড় ভর করেই রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়।একটি দেশ আগামী পঞ্চাশ বছর বা একশো বছরে কতটা এগিয়ে যাবে তা শিক্ষিত জাতি তৈরির উপরই নির্ভর করে।এখন প্রশ্ন হলো আমরা আসলে শিক্ষা বলতে কি বুঝি?শিক্ষার মাহাত্ম্য কি এক গাদা বই মুখস্থ করে একটি ফাস্ট ক্লাস চাকরি পাওয়া?আমাদের দেশ দিনদিন শিক্ষাকে সরকারি চাকুরির কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে।স্কুল, কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নেই গবেষণা। ছাত্রছাত্রীরা সৃজনশীল মেধা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করলেও গবেষণার কাজে এই মেধা প্রয়োগ করতে পারছেনা।

অবশেষে তারা দিশেহারা হয়ে প্রথম বর্ষ থেকেই একাডেমিক পড়াশোনা বাদ দিয়ে চাকুরির প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। নিজস্ব সেক্টরে তাদের মেধাকে কাজে না লাগিয়ে ঢালাওভাবে বিসিএস-এর দিকে ঝুকছে।প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজের ছাত্রছাত্রীরাও জেনারেল ক্যাডারে চাকুরির জন্য আবেদন করছে।এর প্রমাণ আমরা ৩৮ তম বিসিএসে দেখতে পাই।পুলিস,কাস্টমস ও প্রশাসনসহ জেনারেল ক্যাডারে তারা আধিপত্য বিস্তার করছে। ইঞ্জিনিয়ার,ডাক্তার হিসেবে নিজেদের টেকনিক্যাল জায়গা থেকে দেশের সেবা করার জন্য রাষ্ট্র কোটি কোটি টাকা তাদের পিছনে ব্যয় করছে, অথচ তারা পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে।রাষ্ট্র কেন তাদের নিজস্ব পেশায় ধরে রাখতে পারছেনা, এ দায় কার? এই দায় আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও নীতিনির্ধারকদেরই নিতে হবে।তাদের নিজস্ব টেকনিক্যাল পেশায় গবেষনার সীমাবদ্ধতা, ক্ষমতা, সম্মান ও চাকুরির নিশ্চয়তা না থাকার কারনেই বিসিএস- এর মাধ্যমে ফাস্ট ক্লাস চাকুরির দিকে ঝুকছে।ফলে একদিক দিয়ে যেমন টেকনিক্যাল পেশাগুলোতে সীমাবদ্ধতা তৈরী হচ্ছে,তেমনি পেশা পরিবর্তনের কারনে কর্মক্ষেত্রে যোগ্য লোক নিয়োগ পাচ্ছে না।

এভাবে যদি সবাই ফাস্ট ক্লাস চাকুরির নেশায় বিসিএস -এর পিছনে দৌড়াতে থাকে তাহলে জাতি একদিন মেধাশূন্য হয়ে যাবে।দেশে ডাক্তার,প্রকৌশলীর সংকঠ দেখা দিবে।তাই সরকারকে বিষয়টিকে খুব দ্রুত বিবেচনায় নিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত গবেষনার মাধ্যমে সৃজনশীল মেধাকে বিকশিত করার সুযোগ প্রদান করতে হবে।শিক্ষার্থীরা যেন শুধু সরকারি চাকুরির পিছনে সময় নষ্ট না করে নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারে সেদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে।একমাত্র উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমেই বেকার সমস্যা দূর করা যাবে এবং দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌচ্ছানো সম্ভব।
————————
মোঃ আল আমিন হোসেন
শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়