ঢাকাশুক্রবার , ২১ জুনe ২০২৪
  1. সর্বশেষ
  2. আন্তর্জাতিক

চীনে লাখ লাখ উইগার মুসলিমকে বন্দী করে মগজ ধোলাই এর তথ্য ফাঁস

প্রতিবেদক
নিউজ এডিটর
২৬ নভেম্বর ২০১৯, ৩:০২ অপরাহ্ণ

Link Copied!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

চীনে লাখ লাখ উইগার মুসলিমকে বন্দী করে মগজ ধোলাই এর তথ্য ফাঁস হয়েছে। কিন্তু চীনা সরকার বলছে, এগুলো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। সন্ত্রাসবাদ দমনে সেখানে মুসলিমদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
চীনে কয়েক লাখ উইগার মুসলিমকে গোপন বন্দীশালায় আটকে রেখে কিভাবে তাদের মগজ ধোলাই করা হচ্ছে তার কিছু দলিলপত্র সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে।

পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং প্রদেশে এ ধরনের গোপন বন্দীশালার কথা চীন বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে, এবং চীন বলে থাকে যে মুসলিমরা নিজেরাই স্বেচ্ছায় এখানে প্রশিক্ষণ নিতে এসেছে।

তাদের দাবি, এগুলো আসলে প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষা শিবির। কিন্তু অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিআইজে যেসব ফাঁস হওয়া গোপন দলিলপত্র হাতে পেয়েছে, তাতে দেখা যায় কীভাবে এই উইগার মুসলিমদের বন্দী করে মগজ ধোলাই করা হচ্ছে এবং শাস্তি দেয়া হচ্ছে।

সাংবাদিকদের এই দলে রয়েছে ১৭টি সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিক। ধারণা করা হয়, এসব শিবিরে দশ লাখেরও বেশি মুসলিমকে বিনা বিচারে আটক করে রাখা হয়েছে যাদের বেশিরভাগই উইগার সম্প্রদায়ের সদস্য।

শিনজিয়াং প্রদেশে একজন মুসলিম আজান দিচ্ছেন, ছবিটি ২০০৮ সালের।
এসব গোপন বন্দীশালার ছবি বিশ্ব এর আগেও দেখেছে। স্যাটেলাইট থেকে তোলা উঁচু প্রাচীর ঘেরা এসব বন্দী শিবিরের ছবি। দেখেছে শিবিরের ভেতর থেকে তোলা ছবি, যেগুলো গোপনে বাইরে পাচার করা হয়েছে।

বেইজিং দাবি করে যে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় গত তিন বছর ধরে এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে যেখানে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু এখন ফাঁস হওয়া দলিলপত্র থেকে পরিষ্কার এসব শিবিরের ভেতরে আসলে কী ঘটছে। শিনজিয়াং কমিউনিস্ট পার্টির ডেপুটি সেক্রেটারি ঝু হাইলুন ২০১৭ সালে নয় পৃষ্ঠার এই সরকারি দলিল পাঠিয়েছিলেন – যারা এসব শিবির পরিচালনা করেন তাদের কাছে।

এসব নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে এই শিবিরগুলো অত্যন্ত সুরক্ষিত জেলখানার মতো চালাতে হবে, বজায় রাখতে হবে কঠোর শৃঙ্খলা এবং কেউ যাতে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে না পারে সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।

একটি বন্দী শিবিরের প্রাচীর।
সরকারের এসব নির্দেশনার মধ্যে ছিল:

কখনোই পালানোর সুযোগ দিও না।
শৃঙ্খলা এবং শাস্তি বাড়াতে থাকো।
কেউ আচরণবিধি ভঙ্গ করলে তাকে কঠোর শাস্তি দাও।
স্বীকারোক্তি ও অনুতপ্ত হতে উৎসাহিত করো।
ম্যান্ডারিন ভাষা শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দাও।
পুরোপুরি বদলে যাওয়ার ব্যাপারে তাদেরকে অনুপ্রাণিত করো।
পুরো ভিডিও নজরদারি চালাও, কোন জায়গা যেন বাদ না থাকে।
এসব দলিলে দেখা গেছে শিবিরে বন্দী উইগারদের জীবনের ওপর কীভাবে নজর রাখা হচ্ছে ও কতোটা নিয়ন্ত্রণের ভেতরে তাদেরকে রাখা হয়েছে।

যেমন: “শিক্ষার্থীদের বিছানা কোথায় কীভাবে থাকবে, কে লাইনের কোথায় দাঁড়াবে, শ্রেণীকক্ষের কোথায় বসবে, কে কী শিখবে – সেগুলো সব নির্ধারিত থাকবে। এগুলো পরিবর্তন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।”

এসব নির্দেশনায় ঘুম থেকে ওঠা, রোল কল করা, কাপড় ধোওয়া, টয়লেটে যাওয়া, ঘর গুছিয়ে রাখা, খাওয়া দাওয়া, লেখাপড়া, ঘুমানো এমনকি দরজা বন্ধ করার বিষয়েও উল্লেখ করা হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের একজন মুখপাত্র সোফি রিচার্ডসন বলছেন, এসব দলিল আসলে এমন একটি প্রমাণ যার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া যায়।

“এটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রামাণিক দলিল। এই প্রমাণ এখন থাকা উচিৎ কোন বিচারিক তদন্ত কর্মকর্তার ফাইলে,” বলেন তিনি।

ব্রাসেলসে এক নারী উইগারদের বন্দী করে রাখার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
আরো পড়তে পারেন:
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বন্দীশিবিরে উইগুর মুসলিমরা। চীনে লক্ষ লক্ষ মুসলমান আটকে শঙ্কিত জাতিসংঘ।

যেসব নিষ্ঠুরতার কথা আছে এই দলিলে, তা সাবেক বন্দীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে ভালো করেই জানেন। এরকম একজন ইয়ো জান। তাকে রাতের বেলায় ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, এর পর তাকে এক বছর আটকে রাখা হয় বন্দী শিবিরে।

তিনি বলেন, “ওরা আমাকে উলঙ্গ করে পায়ে শেকল পরিয়ে দিল। খুবই ভীতিকর অভিজ্ঞতা। ওরা আমাদের মানুষ বলে গণ্য করতো না। সেখান থেকে জীবিত বেরিয়ে আসতে পারবো বলে ভাবিনি কখনো।”

ইয়ো জান তার যে অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন, সেটা বন্দী শিবিরে আটক আরও লাখ লাখ উইগার মুসলিমেরই কাহিনি।

চীনা সরকার বিদেশি সাংবাদিকদের অবশ্য এসব শিবির ঘুরিয়ে দেখিয়ে দাবি করেছে যে সন্ত্রাসবাদ দমনে সাহায্য করছে এসব শিবির। এখানে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা নতুন দক্ষতা অর্জন করছে।

কিন্তু আইসিআইজের অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা বলছেন, এখন ফাঁস হওয়া দলিলপত্রে বোঝা যায়, এসব শিবিরের আসল উদ্দেশ্য আসলে কী।

বিশ্ব উইগার কংগ্রেসের আইনি উপদেষ্টা বেন এমারসন বলেন, চীন এখন বিশ্বের এক বড় পরাশক্তি, কিন্তু তারা নিজের জনগণকে আটকে রাখছে, যতক্ষণ না তারা তাদের বিশ্বাস, ভাষা এবং নিজস্ব জীবনযাত্রা পুরোপুরি বদলে ফেলছে।

“এটাকে গণহারে মগজ ধোলাই ছাড়া অন্য কিছু ভাবা আসলেই কঠিন। একটি পুরো জাতিগোষ্ঠীকে টার্গেট করে এই কাজ চালানো হচ্ছে।”

সরকারি নির্দেশাবলীর একটি।
লন্ডনে চীনের রাষ্ট্রদূত লিও যাও মিং এসব বন্দী শিবিরের ব্যাপারে বিবিসির সরাসরি প্রশ্নের কোন জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। কিন্তু এর আগে গত সপ্তাহে তিনি হংকং-এর ব্যাপারে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিলেন।

62 Views

আরও পড়ুন

রূপগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন : সহিংসতার আশঙ্কায় স্থানীয়রা

কুতুবদিয়ায় ফরহাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

রামুতে স্বামী -স্ত্রীকে রাতের অন্ধকারে জবাই করে হত্যা।

সাজেকে পরিবহন শ্রমিক হত্যাকারীদের গ্রেফতারসহ ৩ দফা আল্টিমেটাম ঘোষণা

কোরবানির গরু নিয়ে বাড়ি ফেরা হলোনা সাংবাদিকের নাতি দোহার

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধ্বসে ৯ জনের মৃত্যু

কালীগন্জে নবনির্মিত ব্রীজ নিয়ে এলাকাবাসীর চরম দুর্ভোগ

কোরআনের আলোকে কোরবানির ১০ শিক্ষা

বাবা দিবসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনা

ছাত্রদলের ২৬০ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা

সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরগণের যথাযথ মূল্যায়ন ও পদায়ন জরুরি -জুবায়েদ মোস্তফা

দোয়ারাবাজারে ভারিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে একাধিক স্থানে বেড়িবাঁধ ভাঙ্গন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন : ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি