আত্মহত্যা ও মানসিক স্বাস্থ্য !!

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৪:৫৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০২০

————————-
আত্মহত্যা মহাপাপ। আত্মহত্যা কোন সমাধান হতে পারে না।মানুষ জন্মলগ্ন থেকে বিভিন্ন সমস্যার চড়াই-উৎরাই পার করে টিকে থাকে।আর টিকে থাকাই মানুষ হিসাবে আমাদের সহজাত পরীক্ষা।
সমস্যা আর সমাধান একসূত্রে গাঁথা পরস্পর বিরোধী শব্দ। মানব জীবনে সমস্যার যেমন অন্ত নাই সমস্যা সমাধানের পথের অন্ত নেই।বর্তমান সময়ে আত্মহত্যার প্রবণতা ব্যাপক হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অহরহ আত্মহত্যার সংবাদ পাওয়া যায়,যার অধিকাংশই শিক্ষিত কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মেধাবী শিক্ষার্থী। আত্মহত্যার প্রাথমিক কারণ হিসাবে ধারণা করা হয় অভাবের তাড়না,প্রেমে ব্যর্থতা,সাংসারিক জটিলতা,বংশগত মানসিক সমস্যা,আশানুরূপ ফলাফলে ব্যর্থ হয়ে হতাশায় আত্মহত্যা। উদাহরণ স্বরুপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক সময়ের আত্মহত্যার অনুপাত দেখতে পারি।২০০৫ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রের আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ১৩, যা ২০১৭ ও ২০১৮ সালে বেড়ে দাড়িয়েছে ১৩ জনে।দেশের বাকী সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও আত্মহত্যা পরিমাণ বাড়ছে।

এটা খুব স্বাভাবিক ভাবে বলা যায় যে,আত্মহত্যাকারি জীবনে কোন কিছুতে প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির বিস্তর ফারাকের কারণে খুব বেশী হতাশায় ভুগে আত্মহত্যা সংগঠিত করে ফেলে।কোন বিষয় নিয়ে অত্যাধিক হতাশায় ভোগান্তির ফলে মানুষের মানুসিক স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়ে। আত্মহত্যার অন্যতম কারণ মানসিক স্বাস্থ্যের অসুস্থতা। মানসিক স্বাস্থ্য আমাদের আবেগ, মানসিক ও সামাজিক সুস্থতার সাথে যুক্ত।
মানসিক স্বাস্থ্য আমাদের চিন্তাভাবনা, অনুভূতি, ও কাজকর্মের উপর প্রভাব ফেলে ।সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্য যেমন নিজের আত্মশক্তি উপলব্ধি করতে শেখায়,
অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি থেকে দক্ষতার সহীত বের হতে শেখায়। অসুস্থ মানসিক স্বাস্থ্য তেমন আত্মহননের মতো পদক্ষেপে ঠেলে দেয়।মানুষকে ভালভাবে বেঁচে থাকার জন্য সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতারও প্রয়োজন।কিন্তু আমাদের জীবন ব্যবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্যকে আমরা খুব বেশি একটা গুরুত্ব দেই না।মানসিক সুস্থতার উপর শারীরিক সুস্থতা অধিকাংশ সময় নির্ভর করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে,”মানসিক অসুস্থতা বর্তমান সময়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক বোজা হয়ে দাড়িয়েছে।উন্নত বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষ মানসিক অসুস্থতায় ভুগছে এবং এসব দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ চিকিৎসার বাহিরে থেকে বেঁচে থাকে।

মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখায় সাধারণ কিছু অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে যেমন, ইতিবাচক জীবনযাপন করা,কোন বিষয় নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত চিন্তা পরিহার করা ইত্যাদি। তরুণ প্রজন্মকে আত্মহত্যার ধারণা থেকে বের করে আনতে হলে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে মানসিক সুস্থতার প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে।
তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের পরিপূর্ণ সুস্থতার নিশ্চয়তা আত্মহত্যার মাত্রা কমিয়ে আনতে কার্যকর ভুমিকা পালন করবে।

——————-
উমর আল কাশেম
সমাজকলয়াণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।