আত্মহত্যা ও এর ভয়াবহ পরিণতি !!

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৩:২৩ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০২০

======================
আত্মহত্যা সম্পর্কে বিভিন্ন ধর্মের মতামতঃ

আত্মহত্যা সম্পর্কে ইসলাম ধর্মেঃ
পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ঘোষিত হয়েছেঃ
১/ ‘তোমরা নিজেদের হত্যা কোরো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু এবং যে কেউ সীমা লঙ্ঘন করে অন্যায়ভাবে তা (আত্মহত্যা) করবে, তাকে অগ্নিতে দগ্ধ করব; এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৯-৩০)
২/ , ‘তোমরা নিজের হাতে নিজেদের জীবনকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ কোরো না।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৯৫)।

নবী করিম (সা.) আত্মহত্যার শাস্তি ঘোষণা করে হুঁশিয়ারি করেনঃ-

১/‘যে ব্যক্তি নিজেকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ওইভাবে লাফিয়ে পড়ে নিজেকে নিক্ষেপ করতে থাকবে। যে ব্যক্তি বিষ পান করে আত্মহত্যা করে, সে-ও জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ওইভাবে নিজ হাতে বিষ পান করতে থাকবে। আর যেকোনো ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করে, তার কাছে জাহান্নামে সেই ধারালো অস্ত্র থাকবে, যা দ্বারা সে সর্বদা নিজের পেট ফুঁড়তে থাকবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)
২/ ‘কোনো ব্যক্তি যেই জিনিস দ্বারা আত্মহত্যা করে, কেয়ামতের দিন তাকে সেই জিনিস দ্বারাই শাস্তি দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে, সে দোজখে অনুরূপভাবে নিজ হাতে ফাঁসির শাস্তি ভোগ করতে থাকবে। আর যে বর্শা ইত্যাদির আঘাত দ্বারা আত্মহত্যা করে, সে দোজখেও সেভাবে নিজেকে শাস্তি দেবে।’ (নাসাঈ, তিরমিজি)
৩/আত্মহত্যার প্রতিফল সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের এক ব্যক্তি আহত হয়ে সে ব্যথা সহ্য করতে পারেনি। সে একটি ছুরি দিয়ে নিজের হাত নিজেই কেটে ফেলে। এরপর রক্তক্ষরণে সে মারা যায়। এ ব্যক্তি সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘আমার বান্দা নিজেকে হত্যা করার ব্যাপারে বড় তাড়াহুড়া করে ফেলেছে। আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।’ (বুখারি ও মুসলিম)।
খ্রিষ্টান ধর্মেঃ
ক্যাথলিক মতবাদে আর্গুমেন্টটি “তুমি নিজেকে হত্যা করোনা” (ম্যাথু ১৯:১৮ যিশুর নতুন চুক্তির অধীন প্রযোজ্য),সেইসাথে ধারণা করা হয় যে জীবন ঈশ্বরের দ্বারা প্রদত্ত একটি উপহার, যা নষ্ট হওয়া নয় ।
ইহুদী ধর্মেঃ
ইহুদীবাদ এই জীবনকে মূল্যবান বলে মনে করে, এবং আত্মহত্যাকে ঈশ্বরের ধর্মকে অস্বীকার করার সমতুল্য বলে মনে করা হয়।
হিন্দুধর্মেঃ
হিন্দুধর্মে আত্মহত্যাকে ঘৃণা করা হয় এবং সমসাময়িক হিন্দু সমাজে আত্মহত্যাকে অন্যকে হত্যা করার সমান পাপ বলে মনে করা হয়।
আত্মহত্যাই কি সকল কিছুর সমাধান? কখনও না। সে শুধু তার নিজের ওপরই জুলুম করে না বরং এতে মা-বাবা,
ভাইবোনসহ আত্মীয়-পরিজন সবার উপরই জুলুম করল। কারও জীবন সমস্যার উর্ধ্বে নয়,তাই বলে কী সমস্যার কাছে হেরে যাওয়া!!! সৃষ্টিকর্তরা কাউকে তার সহ্যক্ষমতার বাইরে কখনও সমস্যা দেন না।কোন ধর্মেই এটাকে সাপোর্ট দেয় না।
অতীত নিয়ে চিন্তা না করে,অতীত থেকে শিক্ষা নেয়াই হবে জ্ঞানীর কাজ।
————-
মোঃনুর হাসান
মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাবি।