আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাপান আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধাঞ্জলী

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৩:৫৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯

আশরাফুর রহমান রাহাত :
আজ ১৪ ডিসেম্বর। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারানোর দিন। এ জাতির সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিন। আজ থেকে ৪৫বছর আগে ১৯৭১ সালের এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের প্রাক্কালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বরেণ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিত্সক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের চোখ বেঁধে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।
এদিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে আজ ভোরে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানান। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আজ আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
ইতিহাস বলে, ১৯৭১ সালে টানা নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে যখন শত্রুদের হাত থেকে জাতি পরম মুক্তির প্রহর গুনছিলো, ঠিক তখনই পাক বাহিনী ও ঘাতকচক্রের হাতে প্রাণ হারান বাংলাদেশের মেধা ও মননের ধারক, প্রথিতযশা সাংবাদিক, সাহিত্যিক, চিকিত্সক, বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, দার্শনিক এবং শিক্ষাবিদরা। একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের অভ্যুদয়ের পূর্ব মুহূর্তে দেশকে মেধা, শিক্ষা, সংস্কৃতিকশূন্য করার হীনমানসিকতা থেকেই ৪৫ বছর আগে এমনি একদিনের নীলনকশা অনুযায়ী ঠাণ্ডামাথায় মানব সভ্যতার অন্যতম বর্বর ও কাপুরুষোচিত এ হত্যাকাণ্ড পরিচালিত হয়।
গা শিউরে ওঠা সেই দিনে অকল্পনীয় নিষ্ঠুর কায়দায় হত্যা করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক
এ এন এম মুনীর চৌধুরী, ড. জি সি দেব, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, আনোয়ার পাশা, ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, আবদুল মুকতাদির, এস এম রাশীদুল হাসান, ড. এন এম ফয়জুল মাহী, ফজলুর রহমান খান, এ এন এম মুনীরুজ্জামান, ড. সিরাজুল হক খান, ড. শাহাদাত আলী, ড. এম এ খায়ের, এ আর খান খাদিম, মো. সাদিক, শরাফত আলী, গিয়াস উদ্দীন আহমদ, আনন্দ পয়ান ভট্টাচার্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাইয়ুম, হাবীবুর রহমান, শ্রী সুখরঞ্জন সমাদ্দার, ড. আবুল কালাম আজাদ, সাবেক গণপরিষদ সদস্য মসিউর রহমান, আমজাদ হোসেন, আমিনুদ্দীন, নাজমুল হক সরকার, আবদুল হক, ডা. জিকরুল হক, সৈয়দ আনোয়ার আলী, এ কে সরদার, সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন, শহীদুল্লাহ কায়সার, খোন্দকার আবু তালেব, নিজামুদ্দীন আহমদ, আ ন ম গোলাম মোস্তফা, শহীদ সাবের, শেখ আবদুল মান্নান (লাডু), নাজমুল হক, এম আখতার, আবুল বাসার, চিশতী হেলালুর রহমান, শিবসদন চক্রবর্তী, সেলিনা আখতার, চিকিত্সাবিদ মোহাম্মদ ফজলে রাব্বী, আবদুল আলীম চৌধুরী, সামসুদ্দীন আহমদ, আজহারুল হক, হুমায়ুন কবীর, সোলায়মান খান, কায়সার উদ্দীন, মনসুর আলী, গোলাম মর্তুজা, হাফেজ উদ্দীন খান জাহাঙ্গীর, আবদুল জব্বার, এস কে লাল, হেমচন্দ্র বসাক, কাজী ওবায়দুল হক, মিসেস আয়েশা বেদৌরা চৌধুরী, আলহাজ মমতাজ উদ্দীন, হাসিময় হাজরা, নরেন ঘোষ, জিকরুল হক, সামসুল হক, এস রহমান, এ গফুর, মনসুর আলী, এস কে সেন, মফিজ উদ্দীন, অমূল্য কুমার চক্রবর্তী, আতিকুর রহমান, গোলাম সরওয়ার, আর সি দাশ, মিহির কুমার সেন, সালেহ আহমদ, অনীল কুমার সিংহ, সুশীল চন্দ্র শর্মা, এ কে এম গোলাম মোস্তফা, মকবুল আহমদ, এনামুল হক, মনসুর (কানু), আশরাফ আলী তালুকদার, সেনাবাহিনীর অফিসার লে. জিয়াউর রহমান, লে. ক. জাহাঙ্গীর, বদিউল আলম, লে. ক. হাই, মেজর রেজাউর রহমান, মেজর নাজমুল ইসলাম, আসাদুল হক, নাজির উদ্দীন, লে. নূরুল ইসলাম, কাজল ভদ্র, মনসুর উদ্দীন, সাহিত্যিক পূর্ণেন্দু দস্তিদার, ফেরদৌস দৌলা, ইন্দু সাহা, মেহরুন্নেসা, আলতাফ মাহমুদ, দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহ প্রমুখ।
একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে ঢাকার রায়ের বাজারসহ বিভিন্ন বধ্যভূমিতে অনেকের গলিত লাশ খুঁজে পাওয়া যায়। বাকিরা রয়ে যায় নিখোঁজ, অজ্ঞাত।
মানব ইতিহাসের অন্যতম ঘৃণ্য ও নৃশংস ওই হত্যাযজ্ঞের সূচনা হয়েছিল একাত্তরের ২৫ মার্চ, আর তা চূড়ান্ত রূপ পরিগ্রহ করেছিল ১৪ ডিসেম্বর। ‘বাংলাপিডিয়া’য় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একাত্তরের ২৫ মার্চ থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালে ৯৯১ জন শিক্ষাবিদ, ১৩ জন সাংবাদিক, ৪৯ জন চিকিত্সক, ৪২ জন আইনজীবী এবং ১৬ জন শিল্পী-সাহিত্যিককে হত্যা করা হয়েছিল।
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরের হত্যাকাণ্ড ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে এক জঘন্য বর্বর ঘটনা, যা বিশ্বব্যাপী শান্তিকামী মানুষকে স্তম্ভিত করেছিল।
ধীমান, অনন্য মনীষা সেসব ব্যক্তিত্বের প্রতি জাতির সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও তাদের স্মরণে প্রতি বছরই যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে।
সেই ক্ষণজন্মা ব্যক্তিদের স্মৃতি স্মরণে রাজধানীর মিরপুরে নির্মিত হয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ। এই স্মৃতিসৌধে শ্বেতপাথরে খোদিত রয়েছে তাদের অমরত্বের কথা- ‘উদয়ের পথে শুনি কার বাণী/ভয় নাই, ওরে ভয় নাই/ নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান, ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।’ কবিতার মতো করেই শহীদ বুদ্ধিজীবীরা বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকবেন। তবে তাদের হারানোর বেদনায় স্বজনসহ দেশবাসী আজও কাতর। তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ফুলেল ভালোবাসা জানাতে আজ ভোর থেকেই শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সমবেত হবেন দল-মত-বয়স নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ। জুলফিকার আলী জুয়েল তরফদার, সভাপতি, জাপান আওয়ামী লীগ।