অবসরতা যেন বিপথগামী না

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১:০৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০

——————

সারা পৃথিবীতে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। অন্যান্য সচেতন রাষ্ট্রের মত বাংলাদেশেও এ কারণে সর্বপ্রকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠানকে বিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। এই কর্মবিরতি গণসচেতনতার জন্য বড়ই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এ বিরতির দীর্ঘ সময়টা আমরা শুয়ে বসেও পার করতে পারি, আবার ভালো কোন কাজেও ব্যয় করতে পারি। সর্বোপরি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বাড়িতে বসেই এ সময়ে আমরা নানা পুণ্যের কাজও করতে পারি প্রতিনিয়ত। এ জন্য প্রয়োজন সময়ের মূল্য সম্পর্কে আমাদের স্পষ্ট ধারণা।

স্কুলে ‘সময়ের মূল্য’ নিয়ে রচনা সকলে লিখলেও বাস্তবে কিন্তু সময়কে মূল্যায়ন আমরা খুব কমই করি। শুয়ে বসে, টিভি সিনেমা, ফেসবুক ইউটিউব, গেমস, চায়ের দোকান ও বন্ধুদের আড্ডায় হারিয়ে যায় আমাদের জীবনের বড় একটি অংশ। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো এটা নিয়ে আমাদের যেমন নেই কোন আফসোস অনুশোচনা, তেমনি নেই কোন পদক্ষেপ ও সচেতনতা।

ইসলামে সময়কে মূল্যায়ন করার বিষয়টি বাদ দিলেও যদি বৈশ্বিক অবস্থাটা পর্যালোচনা করি, তাহলে দেখব- বিদেশীরা আমাদের এই অলস সময় পার করা দেখে শুধু অবজ্ঞায় হাসেই না, বরং আফসোসও করে। আমরা এই অলস সময় পারের মাধ্যমে নিজেদের ভেতরে থাকা বিপুল সম্ভাবনাকে যেমন হত্যা করছি, তেমনি দেশ ও জাতিকে যা দেবার কথা ছিল আমরা তা থেকেও করছি বঞ্চিত।

আর বর্তমানে এই অবসর সময়ে অনেক শিক্ষার্থীরাই মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে হীনমন্যতায় ভুগছে। স্বপ্ন পূরণের পথে উদ্যমতা হারিয়ে থমকে উঠছে। কারণ অবসর সময়টা কাজের চেয়ে অলসতায় আর ভুল পথেই বেশি ব্যয় হয়। তবে কেউ যদি এই অবসর সময়কে কাজে লাগায়। সে জীবনে অনেক কিছুই অর্জন করতে পারবে। কারণ যারা জীবনে বড় কিছু হয়েছে। তারা জীবনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এই অবসর সময়কে অবশ্যই কাজে লাগিয়েছে। কথা হলো ক’জন আর তা কাজে লাগায়!

চরম বাস্তবতা হলো আমরা অবসরতাকে অলসতায় পরিণত করি। অলসতা মানে কর্মবিমুখতা, ঊদ্যমহীনতা, আলসেমি। আর এই অলসতাই নিজের ও সমাজের অবক্ষয় ডেকে আনে। মোট কথা, অলসতা একটি জাতির উন্নতির পথে হুমকি স্বরুপ।

অতএব, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক যদি এবিষয়ে পূর্ণ সচেতন হন যে, তার সন্তান ঠিকমত পড়াশোনা করছে কি না! না অবসর সময়ে অলসতায় গা ভাসিয়ে বিপথগামী হচ্ছে! (শিক্ষকগণও যদি শিক্ষার্থীদের মাঝে মধ্যে একটু খোঁজ খবর নেন।)
তাহলে আশা করা যায়,আমাদের শিক্ষার্থীরা অলসতা নামক এই বিপদজনক পথ থেকে বেচে থাকতে সক্ষম হবে এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তেও সক্ষম হবে।

মোঃ হুসাইন আহমদ
শিক্ষার্থী, কওমি মাদরাসা টাংগাইল।