ঢাকামঙ্গলবার , ১৮ জুনe ২০২৪
  1. সর্বশেষ

দোয়ারাবাজারে পাতার বিড়ি সেবন আসক্তিতে শিশুরা

প্রতিবেদক
নিউজ এডিটর
১৮ নভেম্বর ২০১৯, ১০:২৭ অপরাহ্ণ

Link Copied!

এম এ মোতালিব ভুঁইয়া :

অবৈধ পন্থায় আসা ভারতীয় বিড়িতে সয়লাব দোয়ারাবাজারের হাঠ-বাজার। উপজেলার ছোট-বড় বাজার সহ গ্রামের দোকান গুলোতেও এই বিড়ি দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের সাধারণ ধুমপায়ীদের কাছে এটি ‘পাতার বিড়ি’ কিংবা ‘নাসির বিড়ি’ নামে অত্যধিক পরিচিত। নাসির বিড়ি অন্যান্য ধুমপানের চেয়ে ক্ষতিকর হলেও এই অঞ্চলের ধুমপাযীদের রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে। পাশাপাশি এই অঞ্চলের সংস্কৃতির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েছে। যার ফলে এই অঞ্চলের বিরাট জনগোষ্ঠি ধুমপানজনিত স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগছে। এলাকার ধুমপায়ীরা এই বিড়ি সেবন করে থাকেন।দোয়ারাবাজারের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত থেকে এই নাসির উদ্দিন বিড়ি অবৈধভাবে এদেশে আসছে। জানা গেছে প্রতিদিন সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে কয়েক লক্ষ টাকার নাসির উদ্দিন বিড়ি চোরাচালানের মাধ্যমে আসে। তবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঝে-মধ্যে বিড়ির চালান আটক করে তবে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি বলেই এটি বিক্রি কিংবা সেবন বন্ধ হচ্ছে না।

বড়দের দেখাদেখি ছোট বেলা থেকেই ‘পাতার বিড়ি’ সেবনে অভ্যস্থ মনা মিয়া নামের এক দিন মজুর বলেন-আমার বাবাও এই বিড়ি খেয়েছেন। মনা মিয়া প্রতিদিন তিন বান বিড়ি (তিন প্যাকেটে ৭৫ শলা) সেবন করার কথা উল্লেখ করে বলেন-এই বিড়ি সেবন না করলে আমার পেটে সমস্যা দেখা দেয় টয়লেট হয়না এবং রাতে ভাল করে ঘুম হয়ও না। গ্রামের দোকান গুলোতে ‘পাতার বিড়ি’ বিক্রি হওয়ায় বড়দের দেখাদেখি ছোট-ছোট শিশুদেরও বিড়ি সেবনের আসক্তি দেখা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ‘পাতার বিড়ি’ সেবনকারী সতের বছরের এক যুবক বলেন, আমার বাবা এই বিড়ি সেবন করেন, আমি বাবার কাছে থেকে দেখেই শিখেছি, মাঠে কাজ করার সময় বাবা এবং আমি একসাথে বসেই এই বিড়ি খাই। এতে লজ্জার কিছু নেই বলেও মন্তব্য এই যুবকের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে-দোয়ারাবাজার উপজেলার গ্রামাঞ্চলের ধুমপায়ীদের মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ ‘পাতার বিড়ি’ সেবনে অভ্যস্থ। বৃটিশ আমল থেকে বংশানুক্রমে এই এলাকার ধুমপায়ীরা এটি সেবন করে আসছেন। ফলে দেশীয় বিড়ি কোম্পানী গুলো প্রতিবছর ব্যবসায়ীক ক্ষতি সহ সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে।

পাতার বিড়ি সেবন করেন এমন কয়েকজনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে- এই বিড়ি সেবনের অভ্যাসটি তারা বংশ পরম্পরায় শিখে আসছেন। ফলে এটি ছাড়া ধুমপায়ীদের এক দিনও চলে না। এক কথায় এই বিড়ি সেবনের অভ্যাসটি সুনামগঞ্জ তথা দোয়ারাবাজারের ধুমপায়ীদের সংস্কৃতির সাথে মিশে গেছে। কিন্তু যুগ-যুগ ধরে অবৈধ পন্থায় এই বিড়ি বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও আর্থিক ফায়দার বিনিময়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপরতাহীন ভুমিকায় রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সীমান্তের চোরাকারবারী, পাইকারী বিক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে সাধারন ধুমপায়ীদের কাছে এটি সহজেই পৌছে দেয়া হয়। তাছাড়া পাতার বিড়ি চোরাই পথে আমদানী করতে সীমান্তে সৃষ্টি হয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। দু’দেশের সীমান্ত রক্ষিদের যোগসাজেসে এটি বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। মাঝে-মধ্যে সীমান্ত রক্ষিদের হাতে ধরা পড়ছে অবৈধ পথে আসা বিড়ির চালান। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দোয়ারাবাজারের মাঠগাও, বাগানবাড়ি, পেকপাড়া, ঝুমগাও,কলাউড়া, শ্রীপুরসহ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে এই বিড়ি আসে। এর সঙ্গে যুগযুগ ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সৃষ্টি হয়েছে।

তারা অধিকাংশরাই এখন লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক। এর সঙ্গে একটি শ্রমিক শ্রেণীও গড়ে উঠেছে। তারা ভারকাধে করে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে সীমান্ত থেকে এটা নির্দিষ্ট চোরাই সিন্ডিকেটর কাছে জমা দেয়। কখনও কখনও এই শ্রমিকরা আইন শৃংখলা বাহিনীর কাছে ধরা খেলেও সিন্ডিকেটের মূল হোতারা ধরা ছোয়ার বাইরেই রয়ে যায়।

এ ব্যাপারে দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মো:আবুল হাশেম বলেন-যে কোন অবৈধ পন্যের বিক্রি বন্ধের ব্যাপারে আমরা সোচ্ছার। তবে, চোরাকারবারীরা সীমান্ত রক্ষিদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাতার বিড়ির চালান নিয়ে আসে। বিড়ির চালানের সন্ধান পেলেই সাথে-সাথে আটক করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

234 Views

আরও পড়ুন

বাঁশখালীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসুচী পালিত

দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ‘তদন্তে মিলেনি সত্যতা’

লোহাগাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তিন দোকানিকে অর্থদণ্ড

ঘুমধুমে ইয়াবাসহ ২জন পাচারকারী আটক !!

ঈদুল আযহা : আত্মসমর্পণের এক জ্বলন্ত শিক্ষা

কাপাসিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার

মণিপুরী সমাজ কল্যাণ সমিতির নির্বাচন ১৪ জুন

নাটক নির্মাতা অমিকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর ও মেডিকেল কলেজের দাবিতে মানববন্ধন

আদমদীঘিতে আইন শৃংখলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

রেল সেবা আধুনিক হলেও কমছে না দালালদের দৌরাত্ম্য

আনোয়ারায় ড্রেনে মিলল অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ।