ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত:

received_1694596860563451.jpeg

তানভীর আহমেদ রনি:
ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত। এসেছে হৃদয় জাগানো ফাগুন। ফাগুনের মোহনায় আজ আগুন রঙে বসন্ত। প্রকৃতি আজ দক্ষিণা দুয়ার খুলে দিয়েছে। সে দুয়ারে বইছে ফাগুনের হাওয়া। বসন্তের আগমনে কোকিল গাইছে গান। ভ্রমরও করছে খেলা। গাছে গাছে পলাশ আর শিমুলের মেলা। আজ পহেলা ফাল্গুন।

শীতকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়েই বসন্ত বরণে চলবে ধুম আয়োজন। শীত চলে যায় রিক্ত হস্তে, আর বসন্ত আসে ফুলের ডালা সাজিয়ে। বাসন্তী ফুলের পরশ আর সৌরভে কেটে যাবে শীতের জরাজীর্ণতা।

ফাল্গুনের হাত ধরেই ঋতুরাজ বসন্তের আগমন। শীতের খোলসে ঢুকে থাকা কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, ডালিয়া এখন অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠেছে। লাল, হলুদ আর বাসন্তী রঙে প্রকৃতির সাথে নিজেদের সাজিয়ে আজ বসন্তের উচ্ছলতা ও উন্মাদনায় ভাসছে বাঙালি।

বসন্ত কেবল আনন্দের রং ছড়ায় না, আমাদের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহীদদের রক্তরঙিন স্মৃতির কথাও মনে করিয়ে দেয়। ১৯৫২ সালের আট ফাল্গুন বা একুশের রক্তমাখা দিনের সঙ্গে তারুণ্যের সাহসী উচ্ছ্বাস আর বাঁধভাঙা আবেগের জোয়ারও যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। তাই বসন্তের বন্দনা আছে কবিতা, গান, নৃত্য আর চিত্রকলায়। বসন্তের প্রথম দিনকে বাঙালি পালন করে ‘পহেলা ফাগুন-বসন্ত উৎসব’ হিসেবে। এ উৎসব এখন সব বাঙালির উৎসব।

দক্ষিণা হাওয়ায় জেগেছে আজ নতুন শিহরণ। নব উদ্যোম আর নব জাগরণে জেগে উঠছে সকল প্রেমিক মন। আগেকার দিনের মতো ফাল্গুনে আজ আর গাছের ডালে কোকিলের ডাক শোনা যায় না অনবরত। পলাশ, শিমুল ফুটলেও চলার পথে লাল গালিচা বিছিয়ে দেয় না আগের মতো। আমগাছেও কমে গেছে আমের মুকুল। আমের মুকুলের সোঁদা গন্ধ এখন আর তেমন ব্যকুল করে না মন। কিন্তু পরিবর্তন হয়নি প্রেমিক মনের। সবকিছু অনুপস্থিত থাকলেও বসন্ত বাঙালীর মনে জাগায় আলাদা এক অনুভুতি। আর তাইতো ফাল্গুন মাস শুরু হলেই মনে হয়, এই বুঝি এলো বসন্ত। বাসন্তি রঙ শাড়িতে বাঙালী নারীকে দেখায় অপরূপ। পিছিয়ে নেই পুরুষেরাও। বাসন্তি রঙ লাগে প্রতিটি বাঙালীর হৃদয়ে। তাইতো বাঙালী সব কিছু ভুলে গেলেও ভুলতে পারে না সুভাষ মুখোপাধ্যায় এর প্রকৃতিকে চ্যালেঞ্জ করা অমিয় বাণী, ‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক, আজ বসন্ত।

Top