টেকনাফে দূর্ধর্ষ হাকিম ডাকাতের বাড়ী ও আস্তানায় বিক্ষুদ্ধ জনতার ভাংচুর

teknaf-pic-12.02.2018-H2.jpg

টেকনাফ প্রতিনিধি:
টেকনাফে রোহিঙ্গা দূর্ধর্ষ ডাকাত আবদুল হাকিম ও তার সহযোগীদের ৭টি বসতবাড়ী-আস্তানায় ভাংচুর চালিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। ১২ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকাল ১১ টা দিকে টেকনাফ পৌরসভার পল্লান পাড়া এলাকার শত শত বিক্ষুদ্ধ জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বৈদ্দ ঘোনা এলাকায় ৪টি, মোনাফ ঘোনায় ১টি, মায়মুনা প্রাইমারি স্কুল ও স্থানীয় মোঃ হারেছ কাউন্সিলরের বাসা সংলগ্ন ২ টি বসতবাড়ী ভাংচুর করে।
গত শুক্রবার স্থানীয় এক যুবককে মুক্তিপনের দাবীতে অপহরনের ঘটনায় এলাকাবাসী বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে। অবশ্য পুলিশ ও জনতা রোববার গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে অপহৃত যুবককে উদ্ধার করে। এঘটনার পর থেকে স্থানীয় লোকজন হাকিম ডাকাতের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠে। দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা দূর্ধর্ষ ডাকাত আব্দুল হাকিম উপজেলা কমপ্লেক্স সংলগ্ন পাহাড়ী এলাকায় আস্তানা গেড়ে গুম, খুন, অপহরণ ও নির্যাতন চালিয়ে আসছিলো।
এব্যাপরে স্থানীয় পৌরকাউন্সিলর আবু হারেছ জানান, হাকিম ডাকাত ও সহযোগীদের আস্তানাসহ ৭টি বাড়ীতে ভাংচুর চালায় বিক্ষুদ্ধ লোকজন। ভাংচুরকৃত বাড়ীর লোকজন আগেই সরে পড়েছিল।
এব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাইন উদ্দিন খান সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী ডাকাত দলের বেশ কয়েকটি আস্তানা গুড়িয়ে দিয়েছে বলে শুনেছি।
এদিকে স্থানীয় লোকজন জানায়, হাকিম ডাকাত যে কোন সময় রাতের অন্ধকারে স্থানীয়দের উপর হামলা চালাতে পারে বলে আশংকা করছেন। হাকিম ডাকাত আটক না হওয়া পর্যন্ত এ আতংক কাটবেনা বলেও জানান স্থানীয় সচেতন মহল।
অপহৃত যুবকের পিতা জহির আহমদ জানান, ডাকাত হাকিম মোবাইলে ছেলের মুক্তির বিনিময়ে তার কাছে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা দাবী করেছিল। এঘটনায় তিনি আব্দুল হাকিমকে প্রধান আসামী করে গত শনিবার টেকনাফ থানায় মামলা (নং-১৫) দায়ের করেছেন।
এদিকে পুলিশ অপহৃতের ঘটনায় রোববার সকালে পৌরসভার জালিয়া পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের সহযোগী মোঃ সেলিম (৩০), আনজুমান আরা বেগম (৩২) ও রোমানা আক্তার কাজল (২২) নামে তিনজনকে আটক করেছে। আটককৃতদের সোমবার সকালে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য: গত ৩১ জানুয়ারী রাতে রোহিঙ্গা ডাকাত হাকিম ও তার সশস্ত্র লোকজন বাড়িতে ঢুকে নুরুল আবছার নামে এক কিশোরকে অপহরণ করে তার আস্তানায় নিয়ে যায়। এরপর ডাকাত দল তাকে তালা ও শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে। পরের দিন আস্থানা থেকে কৌশলে পালিয়ে আসে কিশোর নুরুল আবছার। তবে এ ঘটনায় কেউ বাদী হয়ে মামলা দায়েরে সাহস করেনি।গত এক বছর আগে নুরুল আবছারের বড় ভাই তোফাইলকেও অপহরণ করে নিয়ে গুম করে এই হাকিম ডাকাত। অদ্যবধি তার কোন খোঁজ নেই। এ সংক্রান্ত একটি মামলা কক্সবাজার আদালতে দায়ের করেছে পরিবার। এ মামলা তুলে নিতে এ পরিবারের স্বজনদের উপর একের পর এক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে হাকিম ডাকাত এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।তার বিরুদ্ধে প্রায় এক ডজনের বেশী মামলা রয়েছে। বছরখানেক আগে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের সদর ইউনিয়নের সভাপতি সিরাজুল ইসলামকে বাড়ীতে ঢুকে হত্যাসহ একাধিক হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। ইতিমধ্যে বিজিবি, র‌্যাবসহ আইনশৃংখলা বাহিনী হাকিম ডাকাতের আস্তানায় একাধিক অভিযান চালিয়ে কয়েকজন সহযোগীকে অস্ত্রসহ আটক করে কারাগারে পাঠালেও এ দূর্ধর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত আবদুল হাকিম এখনো অধরা রয়েছে।

Top