সাতকানিয়ায় ছনখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটে পাঠদান ব্যাহত

download-1-6.jpg

মোঃ নাজিম উদ্দিন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে:
৭ বছর ধরেই শিক্ষক সংকট রয়েছে এওচিয়া ইউনিয়নের ছনখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শিক্ষক সংকটে মারাত্মকভাবে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এতে গ্রামের বাসিন্দারা সন্তানদের লেখা-পড়া নিয়ে উৎকণ্ঠে রয়েছেন।

গত মঙ্গলবার বিদ্যালয়টিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায় শিক্ষক না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয় শ্রেণি কক্ষের সামনে হৈ-ছৈ ও মাঠে খেলাধুলা করছে। ৩ শত ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে বর্তমানে দু’শ ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে এ স্কুলটিতে। ১২ বছর আগে ২০০৫ সালের ৫ অক্টোবর মো. রাশেদুল ইসলাম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পেয়ে যোগদান করেছিলেন। তিনি যোগদানের ১৪ মাসের মাথায় ট্রেনিং এ চলে যান। ট্রেনিং শেষে প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এর পর থেকেই শূণ্য রয়েছে পদটি। তাছাড়া সহকারী শিক্ষকের পদ রয়েছে ৫টি। গত ২৩ জানুয়ারী মনির আহমদ নামে অপর একজন সহকারী শিক্ষককে প্রেষনে দেওয়া হলেও মঙ্গলবার কর্মক্ষেত্রে তিনি অনুপস্থিত। দু’তলা ভবন পর্যাপ্ত চেয়ার-টেবিল, শৌচাগার, খেলার মাঠ, শিক্ষার মনোরম পরিবেশ থাকা সত্তেও শুধুমাত্র শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। অভিভাবক মনছুর আলী বলেন, ৬ জন শিক্ষকের স্থলে প্রেষণে দু’জন শিক্ষক দিয়েই পাঠদান করা হচ্ছে। তার মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল আউয়ালকে নিয়মিত অফিসের কাজে উপজেলা সদরে যেতে হয়। এতে কখনোই বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম রক্ষা করা সম্ভব নয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল হক বলেন, শিক্ষক সংকটে বিদ্যালয়ের অবস্থা খুবই করুণ। এই এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই দ্রুত শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানাচ্ছি।
অভিভাবক জসিম উদ্দীন জানান, আমাদের ছেলেমেয়েদের নিয়মিত স্কুলে পাঠালে তারা কয়েক ঘন্টা পরে বাড়িতে ফিরে এসে শিক্ষক না থাকায় ক্লাস হচ্ছে বলে জানায়। শিক্ষক না থাকায় আমাদের সন্তানদের লেখাপড়ার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। (প্রেষণে বদলী হয়ে আসা) বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল আউয়াল বলেন, শিক্ষক সংকটে স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। একই সাথে শিক্ষার মানও নেমে যাচ্ছে। এছাড়া নিয়মিত আমাকে অফিসের কাজে উপজেলা সদরে যেতে হয়। এতে কোনো ভাবে শ্রেণি কার্যক্রম রক্ষা করা সম্ভব নয়।

এওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম মানিক জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার করুণ অবস্থা দেখা দিয়েছে। এতে ছেলেমেয়েদের নিয়ে পরিচালনা কমিটি ও অভিভাবকরাও উদ্বিগ্ন। স্থানীয় সাংসদ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সবাইকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু কোনো ফল হচ্ছে না।

সাতকানিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ চিরান বলেন, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিদ্যালয়ে প্রেষণে দু’জন শিক্ষক রয়েছে। শিগগিরই আরও একজন শিক্ষককে প্রেষণে পাঠানো হবে। এছাড়া শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম চালু হলে, বিদ্যালয়টি শিক্ষক পদায়ন করা হবে।

Top