ডিমলায় পরকিয়ার টানে গৃহবধূকে অমানবিক নির্যাতন

parokia-12.02.18.jpg

Exif_JPEG_420

নুর আলম,ডিমলা(নীলফামারী)ঃ
নীলফামারীর ডিমলায় বিয়ের ২২ বছর পর পরকিয়ার কারনে যৌতুকের দাবীতে এক গৃহবধূকে অমানবিক নির্যাতন করেছে পাষন্ড স্বামী। নির্যাতনের স্বীকার স্ত্রী ডিমলা হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের তিস্তা বাজার এলাকায় পারিবারিকভাবে ২২ বছর পুর্বে দক্ষিন খড়িবাড়ী গ্রামের মৃত শহর খানের কন্যা মোছাঃ সর বানু’র বিয়ে হয় একই এলাকার আঃ হালিমের পুত্র মকবুল হোসেনের।
বিয়ের পর তাদের কোল জুড়ে একটি পুত্র ও একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বর্তমানে তাদের বড়ছেলে মাহফুজুর রহমান আরিফ (২১) রংপুর কারমাইকেল কলেজের অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র ও কন্যা মরিয়ম (১৪) টেপাখড়িবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার ৯ম শ্রেনীর ছাত্রী। সোমবার ডিমলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সর বানু বলেন,২২ বৎসর সংসার ভালই চলাবস্থায় আমার স্বামী মকবুল হোসেন এক নারীর সাথে পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পরায় সন্তানদের পড়ালেখাড় খরচ ভরন পোষন প্রতিদিনের খাওয়া খরচ বন্ধ করে দেয় এবং আমার সাথে প্রায় সময় কারনে অকারনে কোন প্রকার দোষ ছাড়াই যৌতুকের দাবী তুলে আমাকে শারিরীক নির্যাতন চালায়। এবং গত ০৬ ফেব্রুয়ারী তারিখে হটাৎ যৌতুক বাবদ ১ লক্ষ টাকা দাবী করিলে আমি তাহার কথায় অপারগতা প্রকাশ করায় আমার স্বামী মকবুল হোসেন, ভাসুর ছানোয়ার হোসেন, দেলোয়ার হোসেন ও শাশুড়ি সুফিয়া খাতুন মিলে আমাকে লাঠি শোঠা দিয়ে শারিরীক নির্যাতন করে অচেতন অবস্থায় বাড়ীর বাহিরে ফেলে রাখে। অবশেষে পারা প্রতিবেশির সহযোগিতায় আমাকে বাড়ীর ভিতরে নিয়ে গেলে আমার স্বামী ভাসুর ও শাশুড়ি মিলে বাড়ী হতে বাহির করে দেয়। স্বওে জমিনে গিয়ে দেখাযায় বর্তমানে সর বানু ডিমলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এ বিষয়ে বিচার চেয়ে সর বানু ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। ডিমলা হাসপাতালের আরএমও ডাঃ রাশেদুজ্জামান বলেন, সর বানুর শারিরীক অবস্থা তেমন ভালনা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্নছিলো বর্তমানে সরবানু চিকিৎসাধীন রয়েছে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে সর বানু পুরোপুরি সুস্থ্য হতে কিছুদিন সময় লাগবে। সর বানুর স্বামী মকবুল হোসেন বলেন, বিয়ের সময় আমাকে যৌতুক বাবদ যে টাকা দেয়ার কথাছিলো সেই টাকার বিষয়ে স্বামী স্ত্রীর মাঝে সামান্য ঝগড়া বিবাদ বাধে এবং সর বানুকে শারিরীক নির্যাতনের বিষয় স্বীকার করেন। ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার বলেন, এ বিষয়ে সর বানু স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য ডিমলা থানা পুলিশকে নির্দেশ বলা হয়েছে।

Top