সুনামগঞ্জের পৌর মেয়র আয়ুব বখত জগলুলের মৃ্ত্যুতে সুনামগঞ্জে শোকের ছায়া

received_135260693950959.jpeg

এম এ মোতালিব ভুঁইয়া :
সুনামগঞ্জ পৌরসভার টানা দুই বারের নির্বাচিত জনপ্রিয় মেয়র ও আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য আয়ুব বখত জগলুল হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টায় মেয়রর সহকর্মীরা তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি ১৯৬৫ সালের ১৮ ফেব্রæয়ারী বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক মরহুম হোসেন বখতের ঘরে জন্মগৃহন করেন এবং হোসেন বখতের ১০ ছেলে ও ৪ মেয়ের মধ্যে মেয়র ষষ্ঠ সন্তানছিলেন। ভাষা আন্দোলনে তার বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল। তার পিতা মরহুম হোসেন বখত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধ সময়ে সুনামগঞ্জে মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। মরহুম আয়ুব বখত জগলুল ছাত্রলীগ রাজনীতির মধ্যে দিয়ে রাজনীতির শুরু করেন। তিনি অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিকাশে ও তার ভূমিকা ছিল অসাধারন । তিনি পৌর শহরের আরপিন নগর এলাকায় পরিবারের সদস্যদের সাথে ছোট থেকেই বড় হয়ে উঠেন। তিনি আরপিননগর কেবি মিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন শুরু করেন এবং ১৯৭৮ সালে সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হন। তিনি তখন থেকেই শেখ হাসিনার আদর্শে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং ১৯৮১ সালে সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রথমে জেনারেল সেক্রেটারী,পরে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৯৩ সালে জেলা যুবলীগের র্দূদিনে আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়েএকাধিকবার কারাবরণ করেন। তিনি ১৯৯৪ সালে জেলা আওয়ামীলীগে যোগদানের পরই সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং তিনবছরের মাথায় জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্বভার গ্রহন করে তা সততার সাথে পালন করেন।
সুনামগঞ্জের ইতিহাসে তিনি প্রথম ২০১১ সালের ১৮ জানুয়ারী পৌর নাগরিকদের প্রত্যক্ষ ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন এবং সর্বশেষ তিনি ২০৫১ সালের ৩০ ডিসেম্বর পূনরায় দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়ে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন রাস্তাঘাট,রিভার ভিউসহ অসংখ্য উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড করে সাধারন মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার শেষ স্বপ্নঁ ধিল আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৪(সদর ও বিশ^ম্ভরপুর) থেকে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করার এবং তিনি ইতিমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এই দুই উপজেলার গ্রামগঞ্জে গিয়ে উঠান বৈঠক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে যোগদান করেছেন।
গত ৩০ জানুয়ারী সিলেটে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা শেষে ঢাকায় চলে যান। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো জেলা জুড়ে। কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন পরিবারের লোকজন ও স্বজন সহপাঠি ও সহকর্মীগন। মেয়রের আকস্মিক মৃত্যুর খবর শুনার পর তার কার্যালয় ও শহরের আরপিন নগরস্থ বাসভবনে হাজারো শোকার্ত জনতার ঢল নেমেছে। সেখানে পরিবার ও স্বজনদের শান্তনা দিতে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ভীড় করছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় এয়ার এম্বোল্যান্সে করে তার মরদেহ জেলা শহরের স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে বলে জানা যায় এবং তাকে শেষ বারের মতো শ্রদ্ধা জানানোর জন্য শহরের বাসভবনে তার মরদেহ রাখা হবে। আগামীকাল শুক্রবার বাদজুম্মা স্টেডিয়াম মাঠে তার প জানাজা শেষে পারিাবরিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।
। পৌর কাউন্সিলর হোসেন আহমদ রাসেল বলেন মেয়রের আকস্মিক মৃত্যুতে তার কার্যালয় পৌরসভাসহ সুনামগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রয়াত নেতা মরহুম আয়ূব বখদ জগলুলের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ-৩ আসনের এমপি অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমস্ত্রী এম এ মান্নান,সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মহিবুর রহমান মানিক,সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্তা,সুনামগঞ্জ ১আসনের সংসদ সদস্য ইজ্ঞিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন,সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. পীর ফজলুল রহমান মিসবাহ,সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার আসনের সংরক্ষিত মহিলা এমপি ্এ্যাড. শামছুন্নাহার বেগম শাহানা রব্বাানী,জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ মতিউর রহমান,সাধারন সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবীর ইমন.জেলা প্রশাসক মোঃ সাবিরুল ইসলাম,পুলিশ ুসপার মোঃ বরকতুল্লাহ খান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ নুরুল হুদা মুকুট,দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আবুল কালাম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য এ্যাড. আলহাজ¦ ফজলুল হক আসপিয়া,জেলা বিএনপির সভাপতি কলিম উদ্দিন মিলন,সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুল,সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও পৌর কলেজের অধ্যক্ষ শেরগুল আহমদ,জেলা জাসদের সভাপতি আ ত ম সালেহ,মুক্তিযোদ্ধ মতিউর রহমান,সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও জেলা যুবলীগের আহবায়ক খায়রুল হুদা চপল,সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আসাদুজ্জামান সেন্টু,যুগ্ম আহবায়ক খন্দকার মঞ্জুর আহমদ,সুনামগঞ্জ পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও জেলা যুবলীগের সিনিয়র সদস্য নুরুল ইসলাম বজলু,সবুজ কান্তি দাস,সীতেশ তালুকদার মঞ্জু, আইন সতায়তা ফাউন্ডেশন(বাসক) সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মোঃ ফজলুল হক,দিরাই উপজেলার চরন্নারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রতন কুমার দাস তালুকদার,সুনামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মীর মোশারফ হোসেন,উপ সহকারী প্রকৌশলী কালীকৃষ্ণ পাল,প্যানেল মেয়র হোসেন আহমদ রাসেল,চঞ্চল কুমার লৌহ,আবাবিল নুর প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দরা বলেন,পৌরসভার মেয়র আয়ূব বখত জগলুল ছিলেন তৃণমূলের সাধারন মানুষের নেতা। তাই তার ডাকে শতশত মানুষ অধিকার আদায়ের সংগ্রামের রাজপথে নেমে আসতো। তার শূন্যতা পুরন হওয়ার মতো নয়। সুনামগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী কালীপদ রায় বলেন, আয়ুব বখত জগলুল সততার জ¦লন্ত উদাহরন। তিনি পৌরসভায় সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসেছে। পৌর কাউন্সিলর কলি তালুকদার আরতি বলেন, মেয়র তাকে বড় বোনের মতো করে দেখতেন। তিনি পৌর কাউন্সিলর ও পৌরসভার সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভাইবোনের মতো ¯েœহ করতেন। পৌর মেয়রের শৈশবের বন্ধু আতম মিছবাহ বলেন জগলুল সারা জীবন সৎ সততা ও নিষ্ঠার রাজনীতি করেছে। সে জগনগনের প্রকৃত কল্যাণের চিন্তাচেতনা করে রাজনীতি করেছেন। তার মৃত্যুতে সুনামগঞ্জবাসী একজন সৎ ও নির্ভিক রাজনীতিবিদকে হারালো। শহরের নুতনপাড়া এলাকার বাসিন্দা বিমান রায় বলেন, মেয়র জগলুল একজন অসাম্প্রদায়িক রাজীতিবিদ ছিলেন। তিনি সুনামগঞ্জ পৌরসভার আধুনিকায়ন করেছেন। পৌর নাগরিকদের সুযোগ সুবিধা বহুগুনে বৃদ্ধি করেছেন। কাউন্সিলর জাহানারা বেগম বলেন, তিনি শুধু একজন মেয়র ই ছিলেন না তিনি ছিলেন সুনামগঞ্জবাসীর একজন অভিবাবক। পৌর মেয়র হয়েও তিনি সুনামগঞ্জের তৃণমুল মানুষের কথা ভাবতেন তাদের কল্যানে কাজ করতেন। গত ৩০ জানুয়ারী সিলেটে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা শেষে ঢাকায় চলে যান। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো জেলা জুড়ে। কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন পরিবারের লোকজন ও স্বজন সহপাঠি ও সহকর্মীগন। মেয়রের আকস্মিক মৃত্যুর খবর শুনার পর তার কার্যালয় ও শহরের আরপিন নগরস্থ বাসভবনে হাজারো শোকার্ত জনতার ঢল নেমেছে। সেখানে পরিবার ও স্বজনদের শান্তনা দিতে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ভীড় করছেন। আজ তাকে শেষ বারের মতো শ্রদ্ধা জানানোর জন্য শহরের বাসভবনে তার মরদেহ রাখা হবে। মেয়রের ছোট ভাই রশিদ বখত নজরুল বলেন, আজ বিকেলে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে তার লাশ সুনামগঞ্জে আসবে শুক্রবার বেলা ২ টায় সুনামগঞ্জ স্টেডিয়ামে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হবে ৤

Top