মুফতি বখতিয়ারের অস্ত্রোপাচার সফল, এখনো শংকামুক্ত নন

27331980_427210254378086_7841461268490670200_n.jpg

আনোয়ারা প্রতিনিধি :
অস্ত্রোপচার সফল, তবে এখনো সম্পুর্ন শংকামুক্ত নয় মওলানা বখতিয়ার উদ্দিন।

জামেয়া অাহমদিয়া সুন্নিয়া অালিয়া মাদ্রাসার মুফাসসির, বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, আনোয়ারার গর্ব, বরুমচড়ার সন্তান জনাব মাওলানা বখতিয়ার উদ্দীন অাল-কাদেরী রবিবার ভোরের দিকে মারাত্মক গাড়ি এক্সিডেন্টে আহত হন। কুমিল্লা থেকে একটি মাহফিল শেষে ফেরার পথে সীতাকুন্ডে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এসময় নিজস্ব গাড়িতে ড্রাইভার সহ পিছনের সীটে উনার আরো ৩ জন ছাত্র থাকলে ও উনি ছাড়া সবাই অক্ষত ছিলেন। চিকিৎসার জন্য উনাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল আনা হয়। প্রাথমিক অবস্থায় উনাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালের ২৮ নাম্বার ক্যাবিনে রাখা হলে ও প্রচুর রক্ত ক্ষরণে উনার অবস্থা আশংকাজনক হলে, উনাকে দ্রুত বেসরকারি হাসপাতাল ট্রিটমেন্ট এর ৭ম ফ্লোরের ক্রিটিক্যাল কেয়ার এরিয়াতে গভীর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার উনাকে দেখার পর জানান, উনার মাথার আঘাত প্রচণ্ড ভয়াবহ, অপারেশন করতে হবে তবে উনার প্রেসার লো এর কারনে তা এই মুহুর্তে সম্ভব নয়, কিছুটা স্বাভাবিক হলে অপারেশন করা হবে।

ইতিমধ্যে উনার এক্সিডেন্টের খবর এবং রক্তমাখা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যকে ছড়িয়ে পড়লে, হাজার হাজার আলেম ওলামা, উনার ছাত্র, সাধারণ মানুষ মেডিকেলে উনাকে দেখার জন্য ভীড় জমায়। সমগ্র আনোয়ারাবাসী চরম উৎকণ্ঠায় প্রতি মিনিট পর পর উনার খবর জানার অধির অপেক্ষায় থাকেন। বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

দুপরের দিকে আসে একটি হৃদয়বিদারক সংবাদ। তাহমিনা আকতার রিটু, উনার বড় বোন শহর থেকে বাঁশখালী যাওয়ার পথে সকালের দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। যদিও বিভিন্ন মিডিয়াতে ভুল প্রচার করা হয়, হুজুরকে দেখতে আসার সময় মারা যান। সত্য হল এই – উনার বোন যদি উনার এক্সিডেন্টের খবর আগে পেতেন, তাহলে উনি বাঁশখালী যেতেন না।

যা হোক এখবর ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয় স্বজনের কান্নায় মেডিকেল এবং আনোয়ারার বাতাস ভারী হয়ে যায়। এ যেন জীবনে চরম মর্মান্তিক এক ঘটনা, যা মেনে নেয়া বড়ই কঠিন।

দুপুরের দিকে বখতিয়ার হুজুরের অবস্থার পরিবর্তন না হলে, উনার আত্মীয় স্বজনরা উনাকে ঢাকায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন। উনার চাচাত ভাই ডাঃ এম এ হাসান এই সময় অন্যান্য ডাক্তারদের সাথে জরুরী বৈঠক বসেন। ঢাকা নেয়ার যে দীর্ঘ সময় তা রিস্ক না নিয়ে চট্টগ্রামেই উনার অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন ডাক্তারগন।

উনার অস্ত্রোপচারের আগে সন্ধ্যার দিকে নিজ এলাকায় এবং কিছু সামাজিক মাধ্যমে উনার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। উনার চাচাত কয়েকজন ভাই নিজেদের ফেসবুক আইডি থেকে স্ট্যাটাস দিয়ে, গুজবে কান না দেয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেন এবং উনার অপারেশনের জন্য দোয়া কামনা করেন।

রাত ৭.৪০ টা থেকে ৯.৫০ টা পর্যন্ত দীর্ঘ দুই ঘন্টা অস্ত্রোপচারের পর, প্রধান ডাক্তার প্রফেসর কামাল উদ্দিন, সফল অস্ত্রোপচারের কথা সবাইকে জানান। এসময় সবাই কিছুটা হলে ও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন।
পরে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে আরো জানা যায়, উনার অস্ত্রোপচার সফল হলে ও উনি সম্পুর্ন আশংকা মুক্ত নয় এবং এটি অনেক দীর্ঘ মেয়াদি একটি চিকিৎসা।

উনি বর্তমানেও ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। সকলকে উনার জন্য দোয়া করতে বলা হয়।

  • Top