মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দেশের সামগ্রীক অর্থনীতির অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে-প্রধানমন্ত্রী

27583483_1571487162906773_1699887823_n.jpg

আবদুর রাজ্জাক :
কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়িতে ব্যয়ের দিক দিয়ে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এর ফলে স্থানীয় মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতির পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি আশা করছেন।
রবিবার(২৮ জানুয়ারী) দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ির ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজের উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং ভিত্তি স্থাপন করেন মাতারবাড়ির ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “আজ মহেশখালী দ্বীপে আমরা যে কাজগুলি করে যাচ্ছি, এর ফলে ওই এলাকার মানুষের যেমন আর্থ-সামাজিক উন্নতি হবে, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাবে, পাশাপাশি বাংলাদেশও লাভবান হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় যে বন্দর নির্মাণ করা হবে, পরে তাকে গভীর সমুদ্র বন্দরে রূপান্তরিত করা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বন্দরসহ এই প্রকল্পের বাস্তবায়নে খরচ হবে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। বিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের মহাপরিকল্পনায় দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর মাতারবাড়িকে ‘বিদ্যুৎ হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা রয়েছে। সরকার আশা করছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রে, এএনজি টার্মিনাল ও দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ হলে মাতারবাড়ি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে উঠবে। শেখ হাসিনা বলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সব সময় বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে আছে। জাপানের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র হবে বাংলাদেশের অন্যতম বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প।হলি আর্টিসানে আমাদের উন্নয়ন সহযোগীরা হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছিলেন, এ জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি কক্সবাজারের প্রশাসন, আমাদের দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানাবো, এই মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে যারা কাজ করছে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আপনারা খেয়াল রাখবেন। কারণ তারা আমাদের অতিথি, আমাদের উন্নয়ন সহযোগী।গণভবনে অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রকল্পে নিয়ে একটি ভিডিও প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বিদ্যুৎ সচিব আহমেদ কায়কাউস। জাইকার ভাইস প্রেসিডেন্ট, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতসহ জাপানি প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিতি ছিলেন। আর কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়িতে ছিলেন জাপানের রাষ্ট্রদূতসহ আরেকটি প্রতিনিধি দল। প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী এবং বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন।

Top