সেন্টমাটিন নৌ- রুটে ঝুঁকিপূর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ জাহাজে পর্যটক পরিবহন

TMPDOODLE1516737193304.jpg

ভিশন ডেক্স:
সেন্টমাটিন রুটে ঝুঁকিপূর্ণ ও মেয়াদ উত্তীর্ণ বেসরকারি জাহাজে পর্যটক পরিবহন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। সেই সঙ্গে সরকারি জাহাজে পর্যটক পরিবহনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। গতকাল সকালে রাজধানীর তোপখানা রোডে সিটিজেন ভয়েসের কার্যালয়ে সংগঠনটি আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানান।
সিটিজেন ভয়েসের সভাপতি শ্যামল কান্তি নাগের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মারুফ মোরশেদ রানা, অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাইফুল আলম, অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, রেজা মাহমুদ এবং রাজু আহমেদ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সেন্টমার্টিনের পর্যটকরা কম টাকায় এবং নিরাপদে সরকারি জাহাজ এমভি বাঙালি এবং এমভি মধুমতিতে ভ্রমণ করত। আইনি জটিলতায় এই পর্যটন মৌসুমে সরকারি জাহাজ দুটি বসিয়ে রাখায় এলসিটি কুতুবদিয়া, কেয়ারি সিনবাদ, এলসিটি কাজল এবং সুকান্ত বাবু নামের জাহাজগুলো সাগরে চলার অযোগ্য হওয়ার পরেও যাত্রী পরিবহন করছে। ফলে একদিকে পর্যটকদের ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। আইনি জটিলতা নিরসন করে যে কাউকে দিয়েই জাহাজ দুটি পর্যটক পরিবহনে চালু করলে পর্যটকদের ভ্রমণ আরও নিরাপদ হতো। বক্তারা আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী নির্মাণের পর জাহাজ সর্বোচ্চ ১৫ বছর সমুদ্রে এবং ৩০ বছর নদীপথে চলার যোগ্য থাকে। কিন্তু এই জাহাজগুলো অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরেই সমুদ্রে চলছে। অনেক আগেই জাহাজগুলো ভাঙ্গাড়ি হওয়ার কথা। অথচ বিআইডব্লিউটিসি এবং নৌ পরিবহন অধিদফতরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা মেয়াদ উত্তীর্ণ জাহাজগুলো বারবার অনুমতি দিয়েছে। এসময় তারা মধুমতি এবং বাঙালিকে পর্যটক পরিবহনে চালু করার আহ্বান জানান।
এদিকে সরকারি স্ক্র্যাপ (চলাচলের অযোগ্য ঘোষিত) জাহাজ এলসিটি কাজলকে ব্যক্তিনামে নিবন্ধন, ফিটনেস, বে-ক্রসিংয়ের (সমুদ্রউপকূল অতিক্রম) অনুমতি ও ভয়েস ডিক্লারেশন প্রদানের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি। গতকাল সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের কমরেড মণি সিংহ সড়কের মুক্তি ভবনে নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে কতিপয় সুপারিশ উত্থাপন অনুষ্ঠানে সংগঠনটির নেতারা এই দাবি জানান।
জাতীয় কমিটির সভাপতি হাজী মোহাম্মদ শহীদ মিয়ার সভাপতিত্বে সুপারিশমালা তুলে ধরেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কমিটির উপদেষ্টা ও বিআইডব্লিউটিএর সাবেক পরিচালক এমদাদুল হক বাদশা, কমিটির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি সঞ্জীব বিশ্বাস, অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাহাবুদ্দিন মিলন, জাতীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক পুষ্পেন রায়, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জসি সিকদার, জাতীয় পরিষদ সদস্য লিয়াকত আলী, আবদুস সাত্তার ও আখতার হোসেন বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, গত ১৫ জানুয়ারি বিকেলে দুটি ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় ২৫০ জন পর্যটকবাহী এলসিটি কাজল দীর্ঘ চার ঘণ্টা বঙ্গোপসাগরে ভেসে বেড়ায়। অন্য একটি জাহাজ ঘটনাস্থল থেকে যাত্রীদের উদ্ধার করে। অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) পরিত্যক্ত জাহাজটি নিলামে বিক্রি করা হয়। এরপর নৌবাণিজ্য অধ্যাদেশ (এমএসও) ১৯৮৩ লঙ্ঘন করে নৌবাণিজ্য দফতর ব্যক্তি নামে জাহাজটির পুনঃনিবন্ধন ও ফিটনেস এবং নৌপরিবহন অধিদফর বে-ক্রসিংয়ের অনুমতি ও সেন্টমার্টিন-টেকনাফ নৌপথে চলাচলের জন্য ভয়েস ডিক্লারেশন দেয় বলে বক্তারা অভিযোগ করেন। এছাড়া অভ্যন্তরীণ নৌযান চালকদের জন্য স্বতন্ত্র পরীক্ষা বোর্ড ও দুর্ঘটনা তদন্তে একটি জাতীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি তোলেন তারা

Top