পুরান ঢাকায় পালিত হল ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসব

received_891293527705452.png

টি,এম হুদা, ::
বাংলা মাসের হিসাব কয় জনেই মনে রাখে তবুও পৌষ মাসের শেষ দিন যেন পুরান ঢাকার মানুষের মনে কোন এক বিশেষ উৎসবের দোলা দিয়ে যায়।
পৌষ সংক্রান্তি বাঙালী সংস্কৃতিতে একটি বিশেষ উৎসবের দিন। বাংলা পৌষ মাসের শেষের দিনে এই উৎসব পালন করা হয়। এই দিন বাঙালীরা বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে । তার মধ্যে পিঠা খাওয়া, ঘুড়ি উড়ানো অন্যতম।
মুলত এই দিনটি সনাতন ধর্মাবলম্বিদের একটি ধর্মীয় উৎসব হলেও এখন এটি পরিচিত ঘুড়ি উৎসব নামে।
এই ঘুড়ি উৎসবের সঠিক ইতিহাস জানা না গেলেও কোন কোন সুত্র মতে,জানা যায় ১৭৪০ এর দশকে নায়েব-ই-নাযিম নওয়াজিন এই ঘুড়ি উড়ানো উৎসবকে একটা ঐতিহ্যে পরিনত করেন।
আগামিকাল অলি- গলির শহর পুরান ঢাকা ছিল উৎসবে মুখরিত । দেখা গেল,এই উৎসবকে নিযে গৃহীণিরা পিঠা তৈরি আর ছোট বড় ছেলেরামেয়েরা সুতা ,ঘুড়ি,নাটাই নিয়ে ব্যাস্ত। এই উৎসবে ছেলেরামেয়েরা নতুন রং বেরংয়ের পোশাকের সাজে সেজে একে অপরের বাসায় বেড়াতে যায় আর পিঠা-পুলির মাধ্যমে তাদের আপ্যায়ন করা হয়।
এই দিন যদিও তারা খোলা মেলা জায়গা পায় না তবুও বাড়ির ছাদকেই তারা জাযগা হিসাবে বেছে নেয়। আমরা একটি সাততলা বাড়িতে প্রবেশ করে সোজাসোজি ছাদে গিযে হাজির। দেখি ছাদে অনেক লোকের আয়োজন, সেখানে রং বেরংয়ের ছোট বড় ঘুড়ির মেলা। ছেলেদের মধ্যে চলছে ঘুড়ি উড়ানোর ও সুতা কাটার প্রতিযোগিতা,আর সুতা কাটা ঘুড়ি হল বিজয়ী দলের পুরস্কার, তারা নিজেদেরকে উৎসাহ উদ্দিপনার জন্য ছাদে গান বাজনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে ।

সন্ধায় অনুষ্ঠিত হয় এই উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষনীয় দিক পটকা ফুটানো ,নানা রকম পটকা বাজি, আতশবাজি, তারবাতি, আগুন নিয়ে খেলা আর ফানুস উড়ানোর।
ঐতিহ্যবাহী নানা উৎসব আর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি শেষ করেন পুরান ঢাকার মানুষেরা।

Top