ইউএনও নাজেহালের সংবাদ প্রকাশের জের; রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালের টিম লিডার অপসারণ

51069_bandarban.jpg

শামীম ইকবাল চৌধুরী,নাইক্ষ্যংছড়ি(বান্দরবান)থেকে::
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম সরওয়ার কামাল উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামাকে লাঞ্ছিত করা ও প্রশাসনকে তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালের টিম লিডার নুরান হেনরীকে কে সাময়িক অপসারণ করা হয়েছে।
তথ্যমতে সূত্রে জানাযায়, গত ১৫ জানুয়ারি (সোমবার) সকালে জাতিসংঘ শরনার্থী বিষয়ক সহকারী সচিব (জাতিসংঘ ১) মোঃ শোয়েব আব্দুল্লাহ সাক্ষরিত এক নিদের্শনা পত্রের মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অসৌজন্য মুলক আচরন ও সরকারের প্রতিনিধিকে তথ্য গোপন রাখায় ক্যারী নুরান হেনরিকে বরখাস্তের কথা বলা হয় এবং তাকে একদিনের মধ্যে দেশত্যাগের নির্দেশ প্রদান করা হয়। এই অসধাচরণের জন্য আই,এফ,আর,সি কতৃক আন্তরিক ভাবে ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
আর এদিকে ইউএনওদের সাথে লাঞ্ছিত ও তথ্য গোপন রাখার দায়ে নুরান হেনরিকে বরখাস্ত ও বাংলাদেশ থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশের কথা স্বীকার করে ঘুমধুম রেডক্রিট হাসপাতালে বাংলাদেশি স্টাফদের জন্য দায়িত্বে নিয়োজিত কো-অর্ডিনেটর ডা. বেলাল হোসেন বলেন, বিদেশি ওই নাগরিক প্রশাসনের দুই কর্মকর্তাকে চিনতে পারেনি। তবে এই ঘটনার জন্য আমরাও দুঃখিত।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সরওয়ার কামাল জানান, রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালটি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সীমানায়। অগ্নিকাণ্ডে রোহিঙ্গার মৃত্যুর বিষয় জানতে গিয়ে দু’জন ইউএনওর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণকে লাঞ্ছনা হিসেবে মনে করছেন তারা।
নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ও ঘুমধূম ইউপি চেয়ারম্যান জানান, ”রাষ্ট্রের দুইজন ‘গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা’ এবং উপজেলা পর্যায়ে প্রজাতন্ত্রের প্রতিনিধিকে তথ্য ও আসাধাচরণকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর’ আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরিষদবর্গ এবং তড়িৎ গতিতে বিদেশী এই নাগরিককে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জাতিসংঘ শরনার্থী বিষয়ক সহকারী সচিব মহোদয়কে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

উল্লেখ্য, গত ১১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রাতে উখিয়ার কুতুপালং ট্রানজিট পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গা নাগরিক আবদুর রহিমের তাঁবুতে জ্বলন্ত মোম থেকে অগ্নিকাণ্ডে তার স্ত্রী ঘুমন্ত নূর সাবা (৩০), ছেলে আমিন শরীফ (৮), দিলশান বিবি (১২) ও আসমা বিবি (৫) পুড়ে আহত হয়। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী ঘুমধুম রেডক্রিসেন্টের অস্থায়ী হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই মারা যান তারা। কিন্তু এ ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট এলাকার কোনো প্রশাসনকে অবহিত না করে গোপনে লাশ দাফনে সহায়তা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শনিবার সকালে বিষয়টি যাচাই করতে হাসপাতালে যান নাইক্ষ্যংছড়ি ইউএনও এসএম সরওয়ার কামাল ও উখিয়া ইউএনও নিকারুজ্জামান। প্রথমে পকেট গেটের সামনে অবস্থানরত সিকিউরিটি গার্ড দুই ইউএনওকে সদর গেট অতিক্রম করতে দিলেও মাঝপথে নরওয়ের ডেলিগেট নুরান নামে এক বিদেশি নাগরিক দুই ইউএনও’র সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে গেট থেকে বের করে দেন। এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিকারুজ্জামান বলেন,অগ্নিকাণ্ডে রোহিঙ্গার মৃত্যুর বিষয়টি প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ইউএনও স্যারসহ রেডক্রিসেন্ট হাসপাতাল গেলে জনৈক অস্ট্রেলিয়ান এক নাগরিক (টিম লিডার) আমাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।’

Top