যুক্তরাজ্য বিএনপির আগামীকাল ফের কাউন্সিল; প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা ৫ প্রার্থীর

received_1712465402168075.jpeg

রশিদ আহমদ: যুক্তরাজ্য থেকে :::
______________

বিগত দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাজ্য বিএনপির কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত ছিলো রাজনীতির মাঠ। মাত্র এক সপ্তাহ সময় হাতে নিয়ে প্রথম কাউন্সিল ঘোষনা করেছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু কাউন্সিলের আগের দিন পর্যন্ত যুক্তরাজ্য বিএনপি অন্য কোন নেতা জানতেন না কোথায় কিভাবে কাউন্সিল অনুষ্টান হবে এবং কারা হবেন কাউন্সিলের ভোটার। শেষ পর্যন্ত নেতাকর্মীদের চাপ এবং প্রতিবাদের মুখে আগের দিন সন্ধ্যায় কাউন্সিল অনুষ্টান বাতিল ঘোষণা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক ঘোষিত কাউন্সিলে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা ছিল বলে স্বীকার করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন কাউন্সিল অনুষ্টান করার আশ্বাস প্রদান করেন। পরে ৫ই জানুয়ারি যুক্তরাজ্য বিএনপির এক অনুষ্টানে ১৫ জানুয়ারি কাউন্সিলের নতুন তারিখ ঘোষণা করেন মাহিদুর রহমান। মাত্র ৫ কর্মদিবস হাতে রেখে কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণাকে নির্বাচন কমিশনারের অপরিপক্ষতা বলে দাবি করে আসছিলেন কেউ কেউ। ৩ কর্মদিবস হাতে রেখে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। প্রার্থীরা সময় চেয়ে নির্বাচন কমিশনারের কাছে আবেদন করলে কেন্দ্রীয় বিএনপির অনড় সিদ্ধান্তের কথা সাফ জানিয়ে দেন মাহিদুর রহমান।

১৩ই জানুয়ারি বিকেল ৯টায় নির্বাচনে প্রার্থিতা জমা দেয়ার শেষ সময় ছিল। বিকেল ৯টা বাজার কিছুক্ষন আগে একে একে নির্বাচন কমিশনের অফিসে আসেন সভাপতি পদে প্রার্থী শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপন ও তাজ উদ্দিন। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী নাসিম আহমেদ চৌধুরী, দেওয়ান মোকাদ্দিম চৌধুরী নিয়াজ ও তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল। নির্বাচন কমিশনের সাথে রুদ্ধদ্বার বয়টকে বসেন তারা। দীর্ঘক্ষণ আলোচনা শেষে একে একেবেড়িয়ে আসেন তারা। উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান উনারা নির্বাচন বয়কট করেছেন। কেন বয়কট করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তারা সাংবাদিকদের বলেন আমরা নির্বাচন কমিশনারের কাছে কেন্দ্রীয় বিএনপির বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তবে এক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশন তাদের কোন দাবি আমলে নেন নি, উপরোন্ত অত্যন্ত তরিঘরি করে নির্বাচনের নামে প্রহসন, প্রচলিত দলীয় নির্বাচনের কোন নিয়মই মণ হয়নি। অস্বচ্ছ ভোটার তালিকা যা নির্বাচনের ১দিন আগেও প্রার্থীরা সকল ভোটার ফোন নাম্বার পায়নি। তাদের বক্তব্য এত অল্প সময়ে কিভাবে এত বড় যুক্তরাজ্যের আনাচে কানাচে ২৩৫ভোটারের কাছে তারা যেতে পারেন? এই প্রশ্নের কোন সদোত্তর ছিলোনা নির্বাচন কমিশনের কাছে।

দলীয় গঠনতন্ত্রের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক এমন অনেক অনিয়ম ছিল যুক্তরাজ্য বিএনপির কাউন্সিলে। তাদের দাবি ছিল যুক্তরাজ্য বিএনপির সদস্যদের ভোটাধিকার প্রদান করা। তাদের এসব দাবি আমলে না নেয়ায় এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তারা মনে করেন অনিয়মতান্ত্রিক ও অগঠনতান্ত্রিক একটা প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্টানিক রূপ দেয়া এবং নির্বাচনের নামে প্রহসনমূলক কোন কর্মকান্ড দলীয় গঠনতন্ত্র অনুমোদন করে না।

যুক্তরাজ্য বিএনপির নির্বাচনে বর্তমান কমিটির সভাপতি আলহাজ আব্দুল মালিক ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ ছাড়া আর কেহ নমিনেশন জমা দেন নাই।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাহিদুর রহমান বলেন আজ নমিনেশন জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল কিন্তু দুই জন ছাড়া আর কেহ নমিনেশন জমা দেননাই, সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মাহিদুর রহমান বলেন কালকে যখন নমিনেশন প্রত্যাহারের সময় শেষ বিধায় কাহারো ইচ্ছা থাকলে নিমিনেশন প্রত্যাহার করতে পারবেন।দুই জন ছাড়া যখন আর কোন প্রতিদ্ধন্দী নাই বিধায় আগামী ১৫ তারিখে ভোটারদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে তাদের মতামতের মাধ্যমে নির্বাচিত সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার।

তিনি আরো বলেন আমরা বিগত ৫ তারিখ থেকে স্বচ্ছ একটা নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছি। সাংবাদিকদের প্রশ্ন করেন যারা নমিনেশন দেয় নাই তারা নাকি কেন্দ্রীয় কমিটি বরাবরে অভিযোগ দিয়েছে ও নির্বাচন কমিশনারের কাছে অভিযোগ দিয়েছে। তিনি তাদের প্রশ্নের জবাবে বলেন তারা অভিযোগ দিয়েছে তবে এটা দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত হবে। তিনি আরো বলেন কেহ যদি নমিনেশন ফরম নিয়ে যদি জমা না দেয় তা হলে নির্বাচন কমিশনের কিছু করার নাই এটাতো তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত সাংবাদিকের বলেন নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু থেকে আপনারা যে ভাবে সহযোগিতা করে আসছেন আশা করি ১৫ তারিখ কাউন্সিল পর্যন্ত সহযোগিতা করবেন। এতে সহকারী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে রয়েছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুল হামিদ চৌধুরী।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায় ১০ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি ছিল নমিনেশন ফর্ম সংগ্রহের তারিখ। এতে সভাপতি পদে তিনজন যথাক্রমে এম এ মালিক, শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপন ও তাজ উদ্দিন ফর্ম সংগ্রহ করেন। সাধারণ সম্পাদক পদে ৪জন যথাক্রমে কয়ছর এম আহমদ, নাসিম আহমদ চৌধুরী, দেওয়ান মোকাদ্দেম চৌধুরী নিয়াজ ও এডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল।
১৩ জানুয়ারী সন্ধ্যা ৬ ঘটিকা থেকে ৯ঘটিকা পর্যন্ত ছিল নমিনেশন ফর্ম প্রদানের শেষ সময়। কিন্তু এই সময়ের ভিতরে বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য কোন প্রার্থী নমিনেশন ফর্ম প্রদান করেন নি। তবে অন্যান্য প্রার্থীরা যৌথভাবে বেশ কিছু অভিযোগ দায়ের করেন। এসময় তারা নির্বাচন কমিশনের সাথে রুদ্ধধার বৈঠক করলেও কোন মিডিয়াকর্মীদের নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন নি।
এদিকে নাম প্রকাশে এক প্রার্থী জানিয়েছেন যে প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হচ্ছে তাতে তারা স্বচ্ছ নির্বাচন হবে বলে মনে করেন না। তারা নির্বাচনে ক্যাম্পেইনের যে সময় থাকা প্রয়োজন ততটুকু পাননি বলে জানান। এছাড়া নির্বাচনে যাদের কাউন্সিলার করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও বেশ কিছু অভিযোগ আনেন।
নেতাকর্মীরা বলেন এই নির্বাচন স্থগিত করা উচিত ।

Top