দোয়ারাবাজার সীমান্তে বিজিবি কর্তৃক গ্রেফতারকৃত যুবকের মুক্তির দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

received_1410464152415632.jpeg

এম এ মোতালিব ভুঁইয়া, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি::
দোয়ারাবাজার সীমান্ত ঝুমগাঁও নিবাসী সাবেক ইউপি সদস্য মনির মিয়ার পুত্র মিছির আলীকে বাঁশতলা বিওপি নায়েক খায়রুল ইসলাম অন্যায়ভাবে আটক করত: মদ ও ভারতীয় রুপিসহ চালানের প্রতিবাদ এবং মিথ্যা মামলাটি প্রত্যাহার করত: দ্রুত মুক্তির দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে এলাকাবাসী। শনিবার বিকাল ৩টায় পৌর বিপনীর দ্বিতীয় তলায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এলাকার মুরুব্বী বীরমুক্তিযোদ্ধা ও প্রাক্তন ইউপি সদস্য মো: মুক্তার আলী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মিছির আলীর পিতা মনির মিয়া, গণ্যমান্য হায়দার আলী, আবির হাসান ভূইয়া প্রমুখ। লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ৮ জানুয়ারী ২০১৮ বিকাল ৩টায় সীমান্ত এলাকায় গরু খুজঁতে গেলে মিছির আলী (২৩)কে অন্যায়ভাবে স্থানীয় বাশতলা বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক নম্বর ৫৫৫৭৫ খায়রুল ইসলাম আটক করত: ক্যাম্পে নিয়ে যায় এবং মোটা অংকের অর্থ দাবী মিঠাতে না পারায় তাকে বেদড়ক মারপিট করত: ভারতীয় অবৈধ ১০ বোতল মদ ও ইন্ডিয়ান ২শ রুপিসহ ঐ দিন রাত অনুমান সাড়ে বার ঘটিকায় দোয়ারাবাজার থানায় নিয়ে যায় এবং তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫(বি) এর উপধারা ১ এর ক এবং খ ধারা মোতাবেক মামলা রুজু করেন। বিজিবি’র নায়েক খায়রুল ইসলাম মাঠগাও বিওপি ক্যাম্পের এফএস আবুল বাশারের মাধ্যমে ১০ বোতল ভারতীয় মদ ও ২শ রুপি সংগ্রহ করে আলামত হিসেবে আদালতে চালান দেয়া হয় (যা অডিও রেকর্ড রয়েছে)। এ নিয়ে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী বিজিবি’র বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। যা স্থানীয় ও জাতীয় একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়াও বাশঁতলা বিওপি’র সদস্যদের চোরাচালানে সহযোগিতার তথ্য উপাত্ত সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবি কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল নাছির উদ্দিন আহমদের কাছে হস্তান্তর করায় বিজিবি আরও ক্ষুদ্ধ হয়ে তাকে গ্রেফতার করে। বাঁশতলা বিজিবি’র নায়েক খায়রুল ইসলাম অসংখ্য যুবককে এ ধরনের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। তার চোরাচালানী কাজে কেউ বাধাঁ দিলেও তাকেও গ্রেফতার করে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় জেল হাজতে প্রেরণ করেন। উল্লেখ্য কলোনী গ্রাম নিবাসী মৃত মফিজ মিয়ার পুত্র নুরু মিয়াকে এ ধরনের মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে বর্তমানে নুরু মিয়া জামিনে মুক্ত আছে। তিনি আরও জানান, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের পর ৬ গ্রামবাসীর প্রতিবাদী যুবকের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে বিজিবি’র জোয়ানরা। যে কোন সময় যে কোন ব্যক্তিকে এ ধরনের হয়রানীমুলক মামলায় জড়ানোর হুমকি দিচ্ছে নাযেক খায়রুল ইসলাম ও অন্যান্য বিজিবি’র জোয়ানরা। এলাকার মানুষ বিজিবি’র হুমকিতে আতংক গ্রস্থ ও এলাকা ছাড়া। আমরা নিরুপায় হয়ে আপনাদের মাধ্যমে বিজিবি’র মহাপরিচালকসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ন্যায় বিচার দাবী করছি এবং নিরীহ যুবক মিছির আলী’র উপর দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমুলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ দ্রুত মুক্তির দাবী জানাই। এ ছাড়াও বিগত ৪ জানুয়ারী মিছির আলী বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করায় মামলার বিবাদীরা স্থানীয় বিজিবি’র নায়েক খায়রুলকে মোটা অংকের অর্থ দিয়েই তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। যার বিবিধ মামলা নম্বর ০৩/২০১৮। এলাকার মানুষ বিজিবি’র হুমকিতে আতংক গ্রস্থ ও এলাকা ছাড়া। ন্যায় বিচারের স্বার্থে বিজিবির মহাপরিচালকসহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Top