নোয়াখালীতে প্রতিপক্ষের গুলিতে ছাত্রলীগ কর্মী নিহত; আগ্নেয়াস্ত্রসহ দুজন গ্রেফতার

283726_117.jpg

এ.এস.এম.নাসিম, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার দেওটি ইউনিয়নে প্রতিপক্ষের গুলিতে শাকিল আহমেদ (১৯) নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে দেওটি বাজারে গুলির ঘটনায় আহত অবস্থায় ঢাকায় নেয়ার পথে সাড়ে ৯টার দিকে চৌমুহনীতে তার মৃত্যু হয়।

শাকিল দেওটি ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামের আবুল হাশেম খোকার ছেলে। তিনি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের একজন সক্রীয় কর্মী ছিলেন বলে জানা যায়।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় জড়িত শীবপুর গ্রামের হেদায়েত উল্যাহ’র ছেলে সাইফুল ইসলাম রাশেদ (২০) ও আমিরাবাদ গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. মনির হোসেন আরমানকে (১৬) গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় পাইপগান, একটি দোনলা বন্দুক ও একটি বড় ছোরা জব্দ করা হয়।

দেওটি ইউপি সদস্য আবুল খায়ের জানান, এক সময় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা লিটন সদ্য ছাত্রলীগে যোগ দিয়েছেন। লিটনই তার সন্ত্রাসীদের দিয়ে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।

তিনি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে লিটন মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃত স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মী সাঈদের গায়ে ধাক্কা দিয়ে দেওটি বাজারে চলে যায়। পরে সাঈদ বাজারে গিয়ে লিটনকে এভাবে গাড়ি দিয়ে তাকে চাপা দেয়ার চেষ্টা কেন করেছে তা জিজ্ঞাসা করলে লিটন ও সাঈদের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার কিছুক্ষণ পর লিটনসহ সাত থেকে আটজন অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে বাজারে আসে এবং সাইদের উপর হামলা চালায়। এমন সময় শাকিল বিষয়টি শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে। এসময় হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকলে শাকিল গুলিবিদ্ধ হয়।

জানতে চাইলে সোনাইমুড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল মিঞা গুলিতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রাতেই অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিপক্ষের দুইজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি বড় ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার সকালের দিকে শাকিলের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনায় শাকিলের বাবা আবুল হাশেম বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করবেন। মামলার পস্তুতি চলছে বলেও জানান ওসি।

Top