সূর্যোদয়ের অজানা সৈনিক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী লন্ডনী

received_1392662434195804.jpeg

এম এ মোতালিব ভুঁইয়া:
শহীদ রহমত আলী লন্ডনী সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর ইউনিয়নের নৈনগাঁও গ্রামে ১৮জুন ১৯২২ সালে এক মুসলিম সম্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন উনার বাবার নাম জায়ফর উল্লাহ। শিক্ষা জীবন শেষ করে তিনি ২০ জুলাই ১৯৪২ সালে তৎকালিন ব্রিটিশ সেনা বাহিনীর নায়েক ৩৩০১০০ পদে যোগদান করেন। কিছুদিন চাকরি করার পর (১৮ জুন ১৯৪৭ সালে অব্যাহতি প্রাপ্ত এবং ১৯৩৯-৪৫ তারকা,বার্মা তারকা যুদ্ধ মেডাল প্রাপ্ত) তার পর কিছু দিন অবসর থাকার পর ২৭ জুলাই ১৯৬৩ সালে ইংলেন্ডে পাড়ি জমান। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে দেশমাতৃকার টানে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংগ্রহনের আগ্রহ নিয়ে ১৮ এপ্রিল ১৯৭১ সালে দেশে আসেন। দেশে এসে মুক্তিযোদ্ধাদের থাকা খাওয়ার জন্য নিজ বাড়িতে নির্মান করেছিলেন একটি বাংলাঘর সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়মিত থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করতেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহন করতে আগস্ট মাসে বাংলাবাজারে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে সত্তরের এম এন এ ও ৫ নং সেক্টরের উপদেষ্টা আব্দুল হক এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন কোম্পানি কমান্ডার অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। পরবর্তী সপ্তাহে যুদ্ধে যাওয়ার সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ন করে রওনা হলে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী রাজাকার-দালাল সহ হঠাৎ লঞ্চ যোগে নৈনগাঁও গ্রামে এসে পৌছেই বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়,মানুষকে বাড়ি থেকে ধরে এনে মসজিদ থেকে বের করে নিরস্ত্র নিরপরাদ ১৯ জন লোককে এক লাইনে দাড় করিয়ে গুলি চালিয়ে হত্যা করে পাকবাহিনী। ট্রেনিংপ্রাপ্ত বিটিশ সেনাকর্মকর্তা রহমত আলী লন্ডনীকে হত্যা করতে তিনটি গুলি চালাতে হয় পাকবাহিনী। শহীদ রহমত আলী লন্ডনী ইচ্ছে করলে ইংলেন্ডে গিয়ে নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারতেন। কিন্তু দেশ ও দেশের মানুষকে অনিশ্চিত অবস্তায় রেখে যেতে তার মন চায়নি। কিন্তু এত কিছুর পরও তিনি শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি, মহান বিজয়ের মাসে স্বজনেরা সরকারের কাছে দাবি জানান তার সাহসিকতা ও অবদানের জন্য তাকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার। দুঃখের বিষয় এই গ্রামে ১৯ জন শহীদদের স্মৃতি রক্ষার জন্য আজও কোন স্মৃতিফলক নির্মান করা হয়নি।

Top