তরুণ কবি সঞ্জয় আচার্যের কবিতা

download-21.jpg

মৃত্যুঞ্জয়ী
সঞ্জয় আচার্য
————-
ধন্য বিজয় নয়টি মাসের পরে
সপ্তকোটির নৌকা ভিড়ে মুক্তিসেনার হাত ধরে।
কৃষক প্রজা লাঞ্ছিতদের ত্যাগে
সোনার বাংলা স্বাধীন হল
বিজয় হাতের মুঠোয় এল
ভোরের সূর্য উঠল আবার নবীন অনুরাগে।
তিরিশ লাখ খুলি দিলাম
কুলাঙ্গনার মান
ষোল তারিখ বাংলা পেলাম নয়ত কারো দান
এ দেশ সবার— অসাম্প্রদায়িক, নন্দনকানন
ভক্তিবাদের আখড়া, উদার ইসলামী দর্শন
এখানে মিলিত সংযত ক’টি গোষ্ঠী
প্রাণ দিয়ে দেশ বাঁচিয়ে রাখা যুগ হতে যুগে কৃষ্টি
রক্ত-প্রাণ- সম্ভ্রম দিয়ে দেশ মুক্ত করল যারা
সবার ঊর্ধ্বে আসন তাদের লাল-সবুজে মোড়া।
————
মুক্তি
সঞ্জয় আচার্য
আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা কেবল ভৌগোলিক
মুক্ত হয়নি রাজনীতি, মুক্তি আসেনি সাংস্কৃতিক
মুক্ত হয়নি অর্থনীতি, নয় চিন্তা অনিরুদ্ধ
মুক্তির ডানা মেলতে যাওয়াই যেন সমাজবিরুদ্ধ
তেভাগা থেকে নানকার প্রদীপ্ত সব বীর
মিরাশদারীর মুখে কালি দিয়ে ভেঙেছে সব প্রাচীর
শত্রু হয়েছে আত্মীয় আজ, দূরে যুদ্ধের যূথচর
বুকে মেরে ছুরি, ঘর করে চুরি, ওরাই মান্যবর
হায়েনা চড়ায় ধর্মের বলি বীরের জাতি চুপ
স্বাধীন বাংলা হয়েছে যুক্তিবাদীর মৃত্যুকূপ
ভেতো বাঙালি, ভুখা বাঙালি, বীর বাঙালির দেশ
জন্ম থেকেই যুদ্ধ চলছে যুদ্ধের নেই শেষ
কাগজে কলমে সাজিয়ে রেখেছি স্মৃতিগাঁথা পরিপাটি
শোষিত বন্ধু কলম ধর হয়নি তো কারো ছুটি।
————
পৌরচন্দ্রিকা
সঞ্জয় আচার্য
বজ্রকণ্ঠে শ্রান্তিহীন গলাবাজি
সে কি নতুন আগামীর
নাকি লোকরঞ্জন করার
বিশ্বস্ত প্রয়াস।
মঞ্চ দোলে পদাঘাতে, নির্ভয়ে
ঝরছে আকাশ সারাবেলা
দু’একজন ঢুঁ মেরে দেয়
ব্যস্ততার নিত্য দৌড়
পাহাড়ি জল কিভাবে এড়ায়
সমতলের বাধা, গুনগুনিয়ে
গাইব না আজ সর্বহারার গান
বাঁধব ঘুঙুর পায়ে শুধু
শরীর থেকে গন্ধ ছাড়ে
হাড়ে জমানো ব্যাথা
রক্তে যেন বিদ্যুৎ খেলে
ঝঞ্ঝাদিনের ক্ষোভ, বঞ্চনার
অনেক দিনের ময়লা ধরা
ইটগুলি সব ধুয়ে, এগিয়ে গেছে
সংস্কার, সমাজ-সভ্যতা
চাপা পড়ে আধুনিকতার চাপে।

Top