নামাজের গুরুত্ব ও কাযা নামাজ আদায়ের নিয়ম

FB_IMG_1513797208907.jpg

হামিদ হোছাইন মাহাদী:
নামাজ বেহেশতের চাবি। এখান থেকে বোঝায় যাচ্ছে জান্নাত তালাবদ্ধ। এটা খুলতে হবে নামাজ নামক চাবি দিয়েই। আর যাদের নামাজের হিসাব সঠিক থাকবে তার অন্যান্য খারাপ আমলগুলো হালকা হয়ে যাবে। হাশরের ময়দানে প্রথম হিসাব গ্রহণ করা হবে নামাজ দিয়েই।

পবিত্র কোরানে নামাজের ব্যাপারে ৮২ বার উল্লেখ আছে। তাই, যে ইচ্ছাকৃত নামাজ ছেড়ে দিলো তার ব্যাপারে রাসূল (সঃ) বলেছেন, সে কুফরি করলো। আসরের নামাজের ব্যাপারে হাদিস শরীফে এসেছে,

আবূ মালীহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন, এক মেঘলা দিনে আমরা বুরাইদা (রাঃ) -এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি বললেন, শীঘ্র সালাত আদায় করে নাও। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলছেন, যে ব্যক্তি আসরের সালাত ছেড়ে দেয় তার সমস্ত আমাল বিনষ্ট হয়ে যায়। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৯৪)

হয়তো অবহেলায় এক ওয়াক্ত নামাজ ছেড়ে দেওয়া আপনার জাহান্নামের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। রাসূল (সঃ) আরো বলেন, মুসলিম ও অমুসলিমের মধ্যে পার্থক্য হলো সালাত বা নামাজ। কোনো নামযুক্ত মুসলিম স্ব-ইচ্ছায় নামাজ না পড়লে মুসলিম হিসেবে দাবি করার তার কোনো অধিকার নেই।

আমাদের সমাজে একটা ভুল মাসয়ালা প্রচলিত আছে। আমি এক বড় আলেমের মুখেও শুনেছি, যাদের একের অধিক নামাজ কাযা হবে তাদের নামাজগুলো ধীরে ধীরে মৃত্যুর আগ পর্যন্তই আদায় করে নিতে হবে।

তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কোন ব্যক্তি কোন সময় সালাত পড়তে ভুলে গিয়ে থাকলে যখন তার মনে পড়ে যায়। তখনই সালাত পড়ে নেয়া উচিত। এছাড়া এর আর কোন কাফফারা নেই। ” [বুখারীঃ ৫৭২ মুসলিমঃ ৬৮০, ৬৮৪]

অন্য হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ঘুমানোর কারণে কারও সালাত ছুটে গেলে অথবা সালাত আদায় করতে বেখবর হয়ে গেলে যখনই তা স্মরণ হয় তখনই তা আদায় করা উচিত; কেননা মহান আল্লাহ বলেন: “আর আমার স্মরনার্থে সালাত কায়েম করুন”। [মুসলিম: ৩১৬]

আমরা জানি, রাসূল (সঃ) ও তার সাহাবিদের খন্দকের দিন অজান্তে আসর নামাজ কাযা হয়ে যায়। রাসূল (সঃ) ও সাহাবিরা তখন জাগ্রত হয়েই নামাজ আদায় করে নেন। বুখারী শরীফে এ ব্যাপারে একটা হাদিস পাওয়া যায়।

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, খন্দকের দিন সূর্য অস্ত যাওয়ার পর ‘উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) এসে কুরাইশ গোত্রীয় কাফিরদের ভর্ৎসনা করতে লাগলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি এখনও আসরের সালাত আদায় করতে পারিনি, এমন কি সূর্য অস্ত যায় যায়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন আল্লাহর শপথ! আমিও তা আদায় করিনি। অতঃপর আমরা উঠে বুতহানের দিকে গেলাম। সেখানে তিনি সালাত জন্য উযু করলেন এবং আমরাও উযু করলাম; অতঃপর সূর্য ডুবে গেলে আসরের সালাত আদায় করেন, অতঃপর মাগরিবের সালাত আদায় করেন।
(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৯৬)

অন্য এক হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়, যদি আমরা সালাতের সময় ঘুমিয়ে থাকি তাহলে কি করবো? জবাবে তিনি বলেন, “ঘুমের মধ্যে কোন দোষ নেই। দোষের সম্পর্ক তো জেগে থাকা অবস্থার সাথে। কাজেই যখন তোমাদের মধ্যে কেউ ভুলে যাবে অথবা ঘুমিয়ে পড়বে তখন জেগে উঠলে বা মনে পড়লে তৎক্ষণাৎ সালাত পড়ে নেবে। ” [তিরমিযীঃ ১৭৭. আবু দাউদঃ ৪৪১]

অনেকেই বলে থাকেন, এক ওয়াক্ত নামাজ ছেড়ে দিলে ৮০ হাজার বছর দোযখে জ্বলতে হবে। এটা সম্পূর্ণ অমূলক কথা এবং জাল হাদিস। আমলে নাযাত, মকছুদুল মুমেনিন নামক বইদ্বয়ে এমনি পড়ছিলাম। তবে একের অধিক নামাজ কাযা হলে এর জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে, যেনো ভবিষ্যতে আর না হয়।

আসুন, আমরা সময়মত নামাজ নিজে আদায় করি এবং অন্যদের উৎসাহিত করি।

শিক্ষার্থী: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Top