জৈন্তাপুরের লাল শাপলা বিল, প্রকৃতি প্রেমীদের আরেক নিদর্শণ

P_20171213_104239.jpg

Jpeg

এম,এম,রুহেল জৈন্তাপুর(সিলেট):
জৈন্তাপুর উপজেলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক আধার। দূরে খাসিয়া-জৈন্তা বিশাল সবুজ পাহাড়। সেই পাহাড় থেকে নেমে আসা অসংখ্য ঝর্ণা-ছবির মতো কথা বলে। অদূরেই প্রকৃতি কন্যা জাফলং। জৈন্তাপুর উপজেলা জুড়ে রয়েছে পাহাড় টিলা আচ্ছাদিত ঘন বন-বনানী, পান-সুপারীসহ নানা ফলফলাদির বাগান। ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ী, টুপিমটসহ রয়েছে অস্যংখ্য ঐতিহাসিক স্থাপনা। তার পাশেই রয়েছে জৈন্তা রাজ্যের রাজার সমাধী স্হল।এর পরতে পরতে সৌন্দর্যের হাতছানি। এখানের চারটি বিলের লাল শাপলা এলাকাটিকে আরো মোহনীয় করে রেখেছে। প্রাকৃতিক এই নয়ন কাড়া দৃশ্য অবলোকন করতে প্রকৃতি প্রেমিদের ভিড় জমে উঠে ভোরের রক্তিম আলো ফুটার আগেই। স্বচ্ছ জলের মাঝে লাল শাপলা ফুলের সৌন্দর্য দেখতে সন্ধ্যা পর্যন্ত নারী-পুরুষের ভিড় থাকে ।ভোর ৫ টা হতে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত মেলতে থাকে শাপলা আর শাপলা।

কিন্তু প্রাকৃতিক এমন দৃশ্য ধ্বংস করে দিতে একাটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট উঠে পড়ে লেগেছে। তাদের উদ্দেশ্য সরকারি খাস ভূমি দখল এবং সীমান্তের ওপারের চোরাচালানের পথ সুগম করা। এলাকাবাসী

বলেন ভূমি খেকো, মৎস শিকারী ও চোরাকারবারীদের অপতৎপরতা ঠেকিয়ে প্রকৃতিক সৌন্দর্যের এমন এক পর্যটন স্পট রক্ষা করা জরুরি ।

সিলেটে নগরী থেকে অন্তত ৪০ কিলোমিটার দূরে জৈন্তাপুর উপজেলার ডিবির হাওর। বিশাল এই হাওরে অন্য প্রান্ত গিয়ে ঠেকেছে ভারতের আসাম রাজ্যের পাহাড়ের পাদদেশে। হাওরে লাল শাপলা ফুলের যেন বিছানা। এর নিচে হরেক প্রজাতির মাছ। এই বিশাল শাপলার মেলাকে স্থানীয়ভাবে শাপলা রাজ্য বলা হয়। তবে নয়ন কাড়া এমন রাজ্যটি ধ্বংস করে দিয়েছে স্বার্থান্বেষী মহল। তারা চায় এলাকাটিকে জন মানব শূন্য করে সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাচালানের রুট সক্রিয় রাখতে। স্থানটি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠায় সব সময় লোক সমাগম ঘটে। তাই চোরাকারবারীসহ অপরাধ চক্রের সদস্যদের ব্যবসায় ভাটা পড়েছে। তারা কৌশলে লাল শাপলার মেলা ধ্বংসে মেতে উঠেছে। শুধু ডিবির হাওরই নয়। লাগুয়া ইয়াম বিল, হরফকাটা বিল, কেন্দ্রী বিল ও ডিবি বিল মিলে প্রায় ৯শ’ একর জায়গা জুড়ে প্রতি বছর এই মৌসুমে প্রকৃতিকভাবে লাল শাপলায় ভরে উঠে। এই অসাধু চক্রটি প্রতিদিন কোটি টাকার অবৈধ মালামাল প্রচার এর নিরাপদ রোড হিসাবে ব্যবহার করে এই পথ। তাই তার শাপলা ধবংসে মেতে উটেছে উক্ত বিলে।
এলাকা বাসীর দাবি যদি সরকার এই বিল গোলর রক্ষনা বেক্ষন করে তাহলে এই এরিয়া হতে পারে বাংলাদেশ এর একটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র।

Top