আসুন, শুদ্ধ করে ফটিকছড়ি লিখি–মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন মানিক

24829294_2025610167717781_467487220_n.jpg

————————————–
বানান ভুল করা এখন যেন আমাদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারে পরিণত হয়েছে। জনজীবনের এমন কোনো পর্যায় নেই, যেখানে নির্লজ্জ বানান ভুল দেখা যায় না। রাস্তার সাইনবোর্ড, রাষ্ট্রের সংবিধান, বিচারপতির রায়, উকিলের ওকালতনামা, ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র, পত্রিকার সম্পাদকীয়, কবির কবিতা, পাঠ্যপুস্তকের পাতা, টেলিভিশনের স্ক্রল, ফেসবুকের নব্য মজিদদের মাজার থেকে শুরু করে সর্বংসহা বাংলাদেশের সর্বত্র ভুল বানানের খুলখাল্লাম খেমটা-নাচ!

এই ভুল থেকে বাদ পড়েনি দেশের বৃহত্তম উপজেলা ‘ফটিকছড়ি’ এর নাম। বাংলায় শুদ্ধ করে লিখতে পারলেও ইংরেজিতে ঘটে যত ঝামেলা। প্রচলিত কিছু বানান আছে, যেমন : ‘Fatickchari’, ‘Fatikchari’, ‘Fatikchhari’ এগুলোর মধ্যে যার যেটা ইচ্ছা সেটা ব্যবহার করে যাচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যে কোনটি শুদ্ধ, তা কেউ আঁচ করতে পারছে না। আরো আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ভুলভাবে শিখানো হচ্ছে এই নামটি। ফলে ভুল শেখানোতে পুরো প্রজন্ম ভুলের মধ্যে নিপতিত হচ্ছে।

ব্যক্তিত্ববিহীন অনেক ব্যক্তিরই দাবি- নামের বানানে ভুল নেই; অথচ নাম বিভিন্ন ভাষার শব্দভাণ্ডারেরই অংশ এবং প্রতিটি শব্দেরই একটি করে শুদ্ধ বানান আছে। ভুল বানানে নাম লিখে ‘নামের বানানে ভুল নেই’ বলে ঐ ভুলকে বৈধতা দেয়ার প্রয়াস নিজের নিরেট মূর্খতাকে ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা মাত্র।

ব্যাকরণবিদগণ শেষের বানানটিকে শুদ্ধ বলে মত দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় ভাবেও শেষোক্ত বানানটি ব্যবহৃত হচ্ছে। পাসপোর্ট-সার্টিফিকেট সহ যাবতীয় সরকারি ওয়েবসাইট ও নথিপত্রে শুদ্ধভাবে Fatikchhari (ফটিকছড়ি) লিখা হচ্ছে। তাই আসুন, আজ থেকে আমরা সকলে ‘ফটিকছড়ি’র ইংরেজি বানান শুদ্ধকরে (Fatikchhari) লিখি।

রূপচর্চার মতো বানানও একটি চর্চাবিশেষ। আমরা প্রতিদিন যেভাবে ত্বকের যত্ন নিই; যেদিন যে বানানগুলো নিয়ে সন্দেহ জাগে, সেদিন সেভাবে সে বানানগুলো বাংলা অ্যাকাডেমির অভিধান থেকে দেখে নিলে শেখাটা হয়ে যায়। শেখায় অগৌরব নেই, অগৌরব আছে ভুল বানানে নির্লজ্জভাবে লেখার ভেতরে। ভুল বানানে লিখলে কেউ মরে যায় না, শারীরিক কোনো ক্ষতি হয় না; ক্ষতিটা হয় অদৃশ্য মেরুদণ্ডের। ভুল বানানে লিখতে লিখতে মেরুদণ্ডটা ক্রমশ ক্ষয়ে যায়, হয়ে যেতে হয় কেঁচোর মতো অমেরুদণ্ডী।

লেখক:
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ ৤

Top