পত্নীতলায় প্রায় ২০ বছর পর গ্রামীণ মৎস্য খামারটি পুনরায় ফিরে পেল মৎস্য অদিদপ্তর

Naogaon-News-Picture-Motsho-Hechari-Uddhar07-12-2017-1.jpg

আলহাজ্ব বুলবুল চৌধুরী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর পত্নীতলায় মৎস্য অধিদপ্তরের একমাত্র গ্রামীন মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারটি (মিনি হ্যাচারী) লিজ প্রথায় অন্যের দখলে থাকলেও পুনরায় প্রায় ২০ বছর পর বৃহস্পতিবার ফিরে পেল মৎস্য অধিদপ্তর।

উপজেলা মৎস্য অদিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, পত্নীতলায় উপজেলায় পুকুর ও দিঘীর সংখ্যা প্রায় ৮হাজার। যার পরিমান প্রায় ২হাজার হেক্টর। পত্নীতলায় প্রায় ৫ হাজার মেঃটন মাছের চাহিদা পূরন করে উদ্বৃত্ত প্রায় ৩/৪ হাজার মেঃটন মাছ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকে।

পত্নীতলা অত্রাঞ্চলের উদ্বৃত্ত মৎস্য এলাকা হলেও সুস্থ পোনা পাওয়ার কোন যায়গা না থাকায় নানা দিক বিবেচনা করে ১৯৮৬ সালে উপজেলা পরিষদের সন্নিকটে পাটিরা মৌজায় গ্রামীন মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার তৈরীর নিমিত্তে মৎস্য অধিদপ্তরের ৬.৫১ একর (প্রায় ২১ বিঘা) যায়গার উপর ৬টি পুকুর ও অফিস ভবন সহ একটি গ্রামীন মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার (মিনি হ্যাচারী) সরকার বহু টাকা ব্যয়ে তৈরী করে। যেখানে উপজেলার প্রায় ৮ হাজার পুকুরের মৎস্য পোনা সরবরাহের প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু একটি মহল কৌশলে উক্ত হ্যাচারীটি লিজের মাধ্যমে ১৯৯৮ সাল থেকে শুরু করে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর বিভিন্ন পন্থায় নিজ দখলে ধরে রাখে। এতে করে ব্যাপক ভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হয় এলাকার সাধারন মৎস্য চাষীরা।

লিজের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পূনরায় গত ১৮ আগষ্ট ২০১৫ সালে উক্ত মহলটি পরবর্তি লিজের মাধ্যম করলেও ২০১৭ সালের ১৮ আগষ্ট মৎস্য অধিদপ্তর হ্যাচারীটি নিজ দখলে নেয়ার জন্য প্রক্রিয়া চালায়। এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার মৎস্য অধিদপ্তর পত্নীতলা থানার সহযোগীতায় গ্রামীন মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারটি (মিনি হ্যাচারীটি)র দখল পুনরায় নেয় এবং সংরক্ষিত এলাকা হিসাবে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান, রাণীনগর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান, আত্রাই উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা আলী হোসেন শামীম, পত্নীতলা উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েশ, পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ মাজহারুল ইসলাম সহ অন্যান্য কর্মকর্তাগন প্রমূখ।

এব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েশ জানান, উক্ত গ্রামীন মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারটি (হ্যাচারীটি) মৎস্য অধিদপ্তরের আওতায় রেখে যদি মৎস্য চাষের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে উপজেলার চাহিদা ৫ হাজার মেঃটন মিটিয়ে উদ্বৃত্ত মৎস্য চাষের সহায়ক হবে।

Top