রোহিঙ্গাদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষিজীবীরা

24898978_1180842365352668_1305353303_n.jpg

কায়সার হামিদ মানিক,উখিয়া:
কৃষি আর বনায়নের জমি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলে যাওয়ায় সবজি আর পানের বরজের উৎপাদন কমেছে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে। এছাড়া জমিতে মানব বর্জ্য চলে আসায় অনেক কৃষক গোলায় ধান তুলতে পারছেন না। যাদের কৃষি ঋণ আছে তাদের অবস্থা আরো করুণ। কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে জানানো হলেও নীরব প্রশাসন।
উখিয়ার শুরু থেকে মিয়ানমান সীমান্ত পর্যন্ত কৃষকদের গল্প একই।রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর আশেপাশের জমির ধান নষ্ট হয়েছে, হারিয়েছে উর্বরতা। বাড়ির পাশের পাহাড়টিতে যে ফলের বাগান ছিলো সেটিও কেটে ফেলেছে রোহিঙ্গারা। যারা কৃষি ঋণ নিয়েছিল এখন তাদের মাথায় হাত।
এসময় ভুক্তভোগীরা বলেন, ‘থানকুচির বাগান ছিল মাল্টার বাগান ছিল, সরকারি বাগান ছিল সবগুলো ওরা নষ্ট করে দিয়ে গেছে। দুইশো চারাগাছ ছিল এখন তার একটিও নেই। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছি, শোধ করতে পারব কিনা জানি না।’
শুধুমাত্র উখিয়া উপজেলায় কৃষক পরিবার রয়েছে ২৭ হাজার ৪শ ৬১টি। জমির ঘনত্বের পরিমান ১৯৭ শতাংশ। রোহিঙ্গাদের কারণে গত তিন মাসে জমির ধানের সাথে সাথে ১০ হেক্টর সবজি ও ২০ হেক্টর পানের বরজ উৎপাদন নষ্ট হয়েছে মাঠেই।
স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী আদিল চৌধুরী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য আমরা চিন্তা করছি তা খুবই ভালো কথা, কিন্তু আমরা যা স্থানীয় আমরা যে নিষ্পেষিত হয়ে যাচ্ছি তার দায় কে নেবে?’
এদিকে কৃষকদের সহায়তা করতে এখন পর্যন্ত কোন আশ্বাস নেই স্থানীয় কৃষিসম্প্রসারণ বিভাগের কাছে।
উখিয়ার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘যদি সরকার কোন সহযোগিতা দেয় তাহলে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে আমরা তাদের সাহায্য করতে পারব।’
তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলছেন, ধানের মৌসুম শেষ হলেও, শীতের মৌসুমেই বিনামূল্যে সবজীর বীজ এবং ফলের চারা পেলে হয়তো কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন তারা।

Top