সীমাহীন দর পতনের পরও লাভের মুখ দেখছে রামু রাবার বাগান;সাক্ষাৎকারে বাগান উপ-ব্যবস্থাপক

Ramu-Rubber-Bagan.jpg

দিদারুল আলম (জিসান) রামু, কক্সবাজার।

বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন সংস্থার অধীনে পরিচালনাধীন কক্সবাজারের রামু উপজেলায় ২৬৮২ একর জমির উপর গড়ে উঠা রাবার বাগান দিন দিন সফলতার মুখ দেখছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে রাবার শিল্পের দূর্দিন বিদ্যমান থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ রাবার শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের একান্ত আন্তরিকতা ও সহযোগিতামূলক মনোভাবের কারণে এই ধরনের রাবারের উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাজারজাত সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, রামু রাবার বাগানে ২০১৫ সালের জানুয়ারী মাসে উপ-ব্যবস্থাপক হিসেবে ওয়াহিদুল ইসলাম যোগদানের পর থেকে অনেকটা রাবার উৎপাদন ও বাজারজাতের ক্ষেত্রে সফলতা দেখতে শুরু করে রামু রাবার বাগান।
বর্তমানে উক্ত রাবার বাগান প্রতিবছর গড়ে ২০০ মেঃ টন রাবার উৎপাদন করে যাচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশে ১৯টিরও অধিক রাবার বাগান থাকলেও রামু রাবার বাগান আয়তন এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সফল। উপ-মহাব্যবস্থাপক ওয়াহিদুলের বরাত দিয়ে জানা যায়, ১৫-১৬ অর্থবছরে ১৮৭ মেঃ টন, ১৬-১৭ অর্থবছরে ২৫০ মেঃ টন লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ২৫২ মেঃ টন রাবার উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে এই প্রকল্পটি।
২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৬০ মেঃ টন উৎপাদনের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে রামু’র রাবার শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা। প্রতিদিনের উৎপাদিত রাবারগুলো ঢাকা মিরপুর সেইল সেন্টারে হস্তান্তর করা হয়। ফলে সরকার বিশাল অর্থ রামুর রাবার বাগান থেকে আয় করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে উক্ত রাবার বাগানে ৩০ জনের অধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী কাজ করলেও বিশাল রাবার বাগানের নিয়ন্ত্রন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে জনবলের অভাবে।
অনেক কর্মকর্তা জানান, জনবল সংকট কাটিয়ে উঠলে রাবারের উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে ১ বছরে কর্মচারী বাবদ ২ কোটি টাকার মত খরচ হলেও এর দ্বিগুণ অর্থ রাবার বিক্রি থেকে সরকারী কোষাগারে জমা পড়ে।
বিশাল বাগানের কিছু পথ হাটতে হাটতে প্রতিবেদককে রাবার বাগান উপ-মহাব্যবস্থাপক ওয়াহিদুল ইসলাম জানান বর্তমানে ২ লক্ষাধিক রাবার গাছ হতে বাগানে রাবার উৎপাদন হচ্ছে। এলাকাবাসী ও বাগান সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার কারণে গাছ চুরি ও রাবারের রস চুরি এবং বাগানের জমি জবর দখল নেই বললেই চলে।
রাবারের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বৃদ্ধি পেলে সরকারের বৃহত্তম একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হবে এই রাবার বাগান। প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বেশ ক’জন কর্মচারী জানান ওয়াহিদুল ইসলামের যোগদানের পর তার আন্তরিকতার কারণে রাবার বাগানটি দেশের মডেলে পরিণত করা সম্ভব হচ্ছে। রাবার বাগানকে ব্যবস্থাপনা ও উন্নতকরণে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ এবং ব্যাপক আর্থিক বিনিয়োগের দাবী বৃহত্তর রাবার বাগান এলাকার বাসিন্দাদের। পরিবেশবাদী এবং পর্যটন বিশেষজ্ঞরা রামুর রাবার বাগানকে উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা ছাড়াও পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখা ও পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার দাবী তুলেন।

Top