কচ্ছপিয়াতে শাহীন বাহিনীর দুই শীর্ষ ডাকাত পুলিশের হাতে আটক

received_550814315268797.jpeg

শামীম ইকবাল চৌধুরী,নাইক্ষ্যংছড়ি(বান্দরবান)থেকে॥
রামু উপজেলার গর্জনিয়া ফাঁড়ী থানার পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শীবাতলী এলাকায় মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বার) ভোর রাতে রহমত উল্লাহর বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে আব্দু রহিম (৩২) ও আবু নয়ন ওরফে সোনা মিয়া(৩৪) নামে দুই ডাকাতকে আটক করেছে। এ সময় তার ওই বাড়ী হতে ২টি দেশীয় তৈরী অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এদিকে মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বার) বিকাল ৪ টায় গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) কাজী আরিফ উদ্দিন স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে ডাকাতের আস্তানায় অভিযান ও অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সোর্সের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে আমার নেতৃত্বে এ এস আই কাউসার এ এস আই জুয়েল, এস আই বদরুল আলমসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ডাকাতের আস্তানা অর্থাৎ রাহামত উল্লাহর বাড়ী ঘেরাও করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতদলের অন্যান্য সদস্যরা পালিয়ে গেলে রহিম ও সোনা মিয়া ডাকাতকে হাতে নাতে আটক করা হয়। এ সময় ওই আস্তানা হতে দেশীয় তৈরী ২টি বন্দুক উদ্ধার করা হয়। এদিকে ডাকাতের আস্তানায় পুলিশের অভিযান সফল হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ পরিলক্ষিত করা গেছে।
তিনি আরও জানান, এ ডাকাত দলের র্শীষ গডফাদারকে ধরতে ইতিমধ্যে তারা বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েছে। গত মঙ্গলবা ভোর রাতে অবশেষে ডাকাত, ও অপহরণ কারী এ সন্ত্রাসীদের আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আটককৃত দুই ডাকাতকে সংশ্লিষ্ট আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করে আদালতে প্রেরণ করা হবে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানাযায়, আটককৃত শীর্য ডাকাত আবদুর রহিম গর্জনিয়া ইউনিয়নের মাঝির কাটা মৃত, সুলতান আহাম্মদ ছেলে আর আবুনয়ন ওরফে সোনা মিয়া কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ঘিলাতলী এলাকার মোঃ ইসলামের ছেল। তারা এলাকার আলোচিত শাহীন বাহিনীর প্রধান শাহীন পুলিশের হাতে আটক হয়ে জেলে থাকায় ওই বাহিনীর প্রধানের ভূমিকায় পালন করেন রহিম ও সোনা মিয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফাঁড়ীর থানা পুলিশ গত মঙ্গলবার ভোর রতে রামুর কচ্ছপিয়া শীবাতলী এলাকার ডাকাতের আস্তানা রাহম উল্লাহর বাড়ী অভিযান পরিচালনা করে। এসময় উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শীবাতলী গ্রামের রাহামত উল্লাহর বাড়ীর আস্তানায় পুলিশ আব্দু রহিম ও সোনা মিয়া ডাকাতকে আটক করতে পারলেও ওই দলের বাকী সদস্যরা পালিয়ে যায়। তবে আস্তানা হতে ২টি দেশীয় তৈরী বন্দুক উদ্ধার করে। স্থানীয়রা আরও জানান, রামু পূর্ব অঞ্চলের আলোচিত ২ ডাকাতদের আটকের ঘটনায় পার্শ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি ও গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়ার হাজার হাজার মানুষ আনন্দ উল্লাস করতে দেখা যায়।

উল্লেখ্য, রামুর ঈদগড়-গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ির দৌছড়ি-বাইশারীসহ দুই উপজেলায় দীর্ঘ দিন ধরে পাহাড়ি এ জনপদে ত্রাস সৃষ্টি করে ডাকাতি, অপহরণ, চিনতাই, ধর্ষণ, চাঁদাবাজীসহ নানা অপকর্ম করে আসছিল দীর্ঘ দিন ধরে। এলাকার সচেতন মহলের দাবী রহিম ও সোনা মিয়া ঈদগড় বাইশারী ও দৌছড়িতে অপহরণ সংঘটিত ঘটনা গুলোর সাথেই জড়িত।

Top