অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়া শিশু কিশোরদের গন্তব্য কারাগার নয়–এ.এম জিয়া হাবীব আহ্সান

download-2-2.jpg

====================
জুবিন্যাল জাস্টিস এর মূলমন্ত্র হচ্ছে ‘শিশুরা অপরাধ করে না, ভুল করে’ । তাদের গন্তব্য কারাগার নয়, শিশু আইন ২০১৩, আন্তর্জাতিক শিশু সনদ ও জাতীয় শিশুনীতি সম্পকে সংশ্লিষ্টদের্র অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়া শিশু কিশোর ও ভিকটিমদের নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় । মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস্ ফাউন্ডেশন-বিএইচআরএফ প্রতিষ্ঠার পর হতে সবসময়ই মানুষের অধিকার, বিশেষ করে নারী ও শিশুর অধিকার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষার জন্য বিশেষভাবে প্রনীত আইন সমূহ সম্পর্কে আইনজীবী, বিচারক, জনপ্রতিনিধি, মানবাধিকার কর্মী, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের সম্যক ধারণা থাকা প্রয়োজন। অন্যথায় নারী ও শিশু অধিকার রক্ষা করা সম্ভব হবে না। নির্যাতিত নারী শিশুদের অধিকার রক্ষার জন্য উচ্চ আদালত ও সরকারী নির্দেশনা থাকা স্বত্বেও আলাদা ভাবে শিশু কিশোরদের মামলা শিশু/কিশোর আদালতে স্থানান্তর করা হচ্ছে না, যদিও এ ব্যাপারে আলাদা শিশু/কিশোর আদালত রয়েছে। শিশু আদালতে বিচার না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে শিশু কিশোররা সামাজিক মানসিক বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। মামলার পুলিশ ফরোয়ার্ডিং এ গ্রেপ্তারকৃত শিশুর বয়স বাড়িয়ে দাগী আসামী সৃষ্টির প্রয়াস চলে। নিরাপত্তা হেফাজতের নামে চলে নারী ও শিশু ভিকটিমদের অমানবিক বন্দী জীবন । এক্ষেত্রে রাষ্ট্র, সরকার, জনগণ, জন প্রতিনিধি, বিচারক, পুলিশ, আইনজীবী, পাবলিক প্রসিকিউটর, সাংবাদিক, প্রবেশন কর্মকর্তা এবং এন.জি.ও কর্মীদের যুগপৎ ভূমিকা একান্ত প্রয়োজন । বাংলাদেশের প্রচলিত শিশু আইন ও দন্ডবিধিতে শিশুদের সম্পর্কে যে সমস্ত আইন সন্নিবেশিত হয়েছে সেগুলো জানা দরকার।
এর সার সংক্ষেপ – ১। ১৮ (আটারো) বছর বয়স পর্যন্ত সকল ব্যক্তিই বাংলাদেশের শিশু বলে গণ্য হবেন। (শিশু আইন ২০১৩, ধারা-৪), ২। ৯ (নয়) বছর বয়স পর্যন্ত শিশু যে অপরাধই করুক না কেন সে সম্পূর্ণরূপে নির্দোষ বলে গন্য হবে, ৩। ৯ (নয়) থেকে ১২ (বার) বছর বয়সী শিশু কোন অপরাধ করলে যদি দেখা যায় যে, যে অপরাধ শিশুটি করেছে সেটি বোঝার মত মানসিক পরিপক্কতা শিশুটির তখনো হয়নি, তাহলে শিশুটি সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে গন্য হবে। (দন্ডবিধি, ধারা-৮৩), ৪। শিশু আইনের ১৬ ধারা অনুযায়ী প্রতিটি শহরে বিজ্ঞ মহানগর দায়রা জজ এবং জেলার বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ শিশু আদালত হিসেব দায়িত্ব পালন বা দায়িত্ব নির্ধারণ করবেন যা শিশু আদালত হিসেবে গণ্য হবে ।
শিশু সংক্রান্ত যে কোন অপরাধের বিচারের এখতিয়ার একমাত্র শিশু আদালতে থাকবে । অবকাশকালীন আদালত ছুটির প্রক্কালে দায়রা জজ ভেকেশন কোর্ট-ই শিশু আদালতের দায়িত্ব পালন করবেন । ৫। শিশু আদালত প্রয়োজনে শিশুর বয়স নির্ধারণে প্রয়োজনীয় তথ্য, তলব, তদন্ত, অনুমান, পরীক্ষা বিবেচনা ও শুনানী পূর্বক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন । (ধারা ২১ শিশু আইন), ৬। বিচার প্রক্রিয়ায় শিশুর অভিভাবক, আইনজীবী, সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়োজিত প্রবেশন কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরী, ৭। প্রয়োজনে সুবিধা বঞ্চিত শিশুকে সরকারী আইনী সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে, ৮। কোন আমলযোগ্য অপরাধের অভিযোগে ১২-১৮ বছর বয়সী কোন শিশুকে গ্রেফতার করা হলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজেই তাকে জামিন দিতে পারেন। (শিশু আইন ধারা-৫২) কিন্তু সাধারণত তারা জামিন দিতে চান না। এমতাবস্থায় একজন প্রবেশন অফিসার যাচ্ছে ও মানবাধিকার কর্মীর উচিত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অনুপ্রানিত (মোটিভেট) করে শিশুটির জামিনের ব্যবস্থা করা। এ ব্যাপারে বিচারক, পুলিশ, পাবলিক প্রসিকিউটার, মানবাধিকার কর্মীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ একান্ত প্রয়োজন । ৯। শিশু আইনে ১৫ ধারা অনুযায়ী শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্ক অপরাধীর একত্রে চার্জশিট প্রদান করা যাবে না । বড়দের (১৮ বছরের চেয়ে বেশি বয়স্ক) সাথে শিশুদের বিচার করা যাবে না। শিশুদের আলাদা শিশু আদালতে বিচার করতে হবে। এমনকি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর অধীনেও যদি কোন শিশুর বিরুদ্ধে কোন অপরাধের অভিযোগ আনা হয়, সেক্ষেত্রেও শিশুটির বিচার শিশু আইনেই করতে হবে, ১০। থানায় কিংবা আদালতে দায়েরকৃত প্রত্যেকটি ফৌজদারী অভিযোগে বাদী/ ভিকটিম/ আসামীর/ প্রতিপক্ষের নামের সাথে বয়স উল্লেখ করতে হবে । এতে পিতার নামের সাথে মায়ের নাম উল্লেখ করলে ভালো হয়, ১১। ১৮ বছরের নীচের বয়স পর্যন্ত কোন শিশু গ্রেপ্তার হলে পুলিশ ফরোয়ার্ডিং এ সঠিক বয়স উল্লেখ পূর্বক লাল কালি দিয়ে নাম, বয়স চিহ্নিত করতে হবে। যাতে বিচারক বুঝতে পারেন যে অভিযুক্তকারী শিশু, ১২। শিশু আইনের ২৬ ধারা মতে অভিযুক্ত শিশু প্রয়োজনে সরকারী বা বেসরকারী নিরাপত্তা আবাসনে রাখা যাবে। তবে নিরাপত্তা হেফাজতের নামে তাদের কখনো সাধারণ কয়েদী/ হাজতী বা জেলাখানায় রাখা যাবে না, ১৩। বিচারকালে প্রয়োজনে শিশুর ভাষা বুঝার জন্য দোভাষী নিয়োগ দিতে হবে, ১৪। অপরাধটি জামিনযোগ্য হোক বা না হোক শিশু আইনের ২৯ ধারা মতে শিশু আদালত কর্তৃক আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত যে কোন শিশুকে জামিনে মুক্তি দিতে পারবেন, ১৫। ৩২ ধারা মতে শিশু আদালত ৩৬০ দিনের মধ্যে অপারগতায় আরো ৬০ (ষাট) দিন বৃদ্ধি করতঃ বিচারকার্য সমাপ্ত করেন । ১৭ ধারা মোতাবেক বিচারকার্য প্রত্যেক কার্য দিবসে বিরামহীন চলবে । ৩৩ ধারা মতে কোন শিশুকে মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা কারাদন্ড প্রদান করা যাবে না । কারেকশন সেন্টারে প্রেরণ বা প্রবেশনে মুক্তি দেয়া শ্রেয় । কারাগারে রাখতে হলে তাকে সাধারণ কয়েদীর সাথে রাখা যাবে না । প্রয়োজনে তাকে ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যায়িত কোন শেল্টার হোম বা প্রতিষ্ঠানে আটক রাখা যাবে । ৩৪ ধারা মোতাবেক দন্ডপ্রাপ্ত শিশুকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার নির্দেশ দিতে পারবেন, ১৬। শিশু আইনের ৫৪ ধারামত আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুর বিশেষ ব্যবস্থা ও সুরক্ষা দিতে হবে । এক্ষেত্রে শিশুর সামাজিক অবস্থান, বয়স, লিঙ্গ অবস্থান ইত্যাদি বিবেচনা করতে হবে । প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন রাখতে হবে । প্রয়োজনে ক্যামেরা ট্র্যায়েল এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বিচারকার্য পরিচালনা বা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে । ৫৮ ধারায় শিশুর নিরাপত্তা ও সুরক্ষামূলক পদক্ষেপের নির্দেশনা রয়েছে । ৮১ ধারার বিধান মতে প্রিন্ট মিডিয়া ও ইন্টারনেট এবং সংবাদ মাধ্যমে বিচারকার্যে শিশুর ছবি বা কোন গোপন তথ্য প্রকাশ করা যাবে না । এর জন্য ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা ১ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড বা উভয় দন্ড বা কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার সাজা দেয়া যাবে, ১৭। আদালত ৮৪ ধারায়, উক্ত আইনে পিতা-মাতার বিচ্ছেদ বা বিরোধের কারণে বিকল্প পরিচর্যার (অষঃবৎহধঃরাব ঈধৎব) নির্দেশ দিতে পারবেন, ১৮। ৮৫ ধারার বিধান মতে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যার জন্য সরকারী শিশু পরিবার, ছোটমনী নিবাস, দুঃস্থ শিশুদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, সরকারী আশ্রয় কেন্দ্র এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সমূহে পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে । ৮৯ ধারায় সুবিধা বঞ্চিত শিশু বর্ণনা দেয়া হয়েছে যেমন – আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবককহীন শিশু, যৌন নির্যাতন বা হয়রনীর শিকার শিশু, ভিক্ষাবৃত্তি বা শিশুর মঙ্গলের পরিপন্থি কোন কার্যে লিপ্ত শিশু ইত্যাদি । ১৯। ৫২ ধারার বিধানমতে গ্রেফতারকৃত শিশুকে দ্রুত আদালতের মাধ্যমে কিংবা আইনী পন্থায় জামিন প্রদান সম্ভবপর নাহলে সংশ্লিষ্ট ও.সি বা পুলিশ কর্মকর্তা অভিভাবক বা প্রবেশন কর্মকর্তার জিম্মায় শর্ত ও জামানত ব্যতীতও জামিনে মুক্তি দিতে পারবেন । ন্যায় বিচার ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে (প্রয়োজনীয় সময় ব্যতীত) আদালতে হাজির করবেন। শিশু আদালত তাকে জামিনে মুক্তি দিবেন অথবা নিরাপদ জামিনে মুক্তি দিবেন অথবা নিরাপদ স্থানে বা শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার আদেশ দিবেন । সমাজসেবা অধিদপ্তরের চট্টগ্রামে কর্মরত প্রবেশন কর্মকর্তার নাম পারুমা বেগম (মোবাইল নং- ০১৮১৯-০৮৯৯৪৮ ), ২০। থানা থেকে প্রেরিত শিশু, কিশোর ও কিশোরীদের আদালতে প্রেরণের পর কোর্ট হাজত থেকে আদালতে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থাপন করা অনেক সময় হয় না। অনেক সময় নথি উপস্থাপনের ফলে বিজ্ঞ আদালত নথিতে উল্লেখিত বয়স দেখেই তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করেন। যার কারণে অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়া শিশু ও কিশোর, কিশোরীদের প্রকৃত বয়স নির্ধারিত না হয়ে শুধুমাত্র এজাহার বা ফরোয়ার্ডিংয়ের ওপর ভিত্তি করে পুনরায় জেলখানায় প্রেরণ করা হয়, ২১। অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়া শিশু, কিশোর ও কিশোরীদের জেলখানায় প্রেরণের পর জেল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বয়স নির্ধারণের পর দেখা যায়, এজাহার ও পুলিশ ফরোয়ার্ডিংয়ে বয়সের সাথে জেল কর্তৃপক্ষের প্রদত্ত বয়সের যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে, ২২। আইনের জটিলতার কারণে অতিদ্রুত প্রকৃত বয়স নির্ধারণ করে কারাগার থেকে শিশু, কিশোর ও কিশোরীদের উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রেরণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হচ্ছে। যেহেতু শিশু আইন মোতাবেক অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়া কোন শিশু, কিশোর ও কিশোরী কারাগারে আটক থাকবে না। তাদেরকে জামিনে দিতে হবে অথবা উপযুক্ত সংশোধনাগার উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রেরণ করতে হবে। বয়সের তারতম্যের কারণে জেলখানায় আটক অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়া শিশু, কিশোর ও কিশোরীরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত এবং মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে, অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়া শিশু, কিশোর ও কিশোরীরা প্রকৃত আইনে সুবিচার না পেয়ে অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ডের সম্মুখীন হচ্ছে। তাই এক্ষেত্রে শিশু, কিশোর ও কিশোরীদের সংশোধনাগার উন্নয়ন কেন্দ্রে রেখে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তাদের প্রবেশন, প্রবেট, প্যারোলসহ গুডটাইম ‘ল এর সকল সুবিধা দিতে হবে। দয়া, ক্ষমতা, অনুকম্পা, সহানুভূতির দৃষ্টিতে তাদের জীবনমান উন্নয়নে সহযোগিতা দিতে হবে। অন্যথায় মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনসহ আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হবে। উপরোক্ত কারণগুলোর জন্য শিশু ও কিশোররা জেলখানায় সাধারণ অপরাধীদের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে কঠোরভাবে দৃষ্টি রেখে ব্যবস্থা নিতে হবে। সাথে সাথে এ ব্যাপারে বিজ্ঞ বিচারক, আইনজীবী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও সমাজ সচেতন নাগরিকদের যুগপৎ ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ করে ‘অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়া শিশু-কিশোর’দের যেন ‘‘কিশোর অপরাধী’’ বলে আখ্যায়িত করা না হয়। সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। আইনে ‘নিরাপত্তা হেফাজত’ নামে কোন জিনিস নেই।

সুতরাং নিরাপত্তা হেফাজতের নামে কোন নারী, শিশু কিংবা কিশোর কিশোরী যেন কারাগারে প্রেরিত না হয়। কেননা, এতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয় চরমভাবে। নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, মামলার এজাহারে বা ফরোয়াডিং এ ইচ্ছেকৃত বা অনিচ্ছাকৃত অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়া শিশু কিংবা ভিকটিমদের প্রকৃত বয়স উল্লেখ না করায় তারা হয়রানির শিকার হচ্ছে এবং শিশু আইনের সুবিধা পাচ্ছে না, তাদের প্রকৃত বয়স নির্ধারণে কোন আগ্রহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দেখা যায় না । জাতীয় শিশু নীতি ২০১১ তেও শিশুর অধিকার সংক্রান্ত নীতিমালা ঘোষিত হয়েছে। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ বাস্তবায়নে আমাদেরকে সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে । মনে রাখতে হবে অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়া কোন শিশু কিশোর কিংবা ঘটনার শিকার কোণ ভিকটিমকে যেন কারাগারের যেতে না হয় কিংবা কোন বিড়ম্বনার শিকার হতে না হয় ।

লেখকঃ কলামিষ্ট, আইনজীবী, মানবাধিকার ও সুশাসন কর্মী।

Top