ইসলাম ও ইসলামী সংষ্কৃতির একটাই ভার্সন

received_516298725400677.jpeg

অধ্যাপক জাকির হোছাইন:

‘বাংলাদেশে নারী ও পুরুষের শ্রম বাজার: বাধা, বিকল্প ও চ্যালেঞ্জসমূহ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সের(এলএসই) অধ্যাপক নায়লা কবির বলেন ‘গায়ে বোরকা, মাথায় হিজাব, হাতে পায়ে মোজা, এভাবে নারীকে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে’। বাংলাদেশে এখন সৌদি আরবের সংস্কৃতিতে ইসলাম ধর্ম পালন করা হচ্ছে। এই বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেছেন, একজন মহিলার গায়ে বোরকা, মাথায় হিজাব, হাতে পায়ে মোজা, চোখে সানগ্লাস-এটা সৌদি আরবের সংস্কৃতি। তিনি আরও বলেন ‘পর্দা মনের ভিতরে, কাপড়ে নয়’। বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতে এই বিষয়ের উপর গবেষণা করছেন তিনি।

অধ্যাপক লায়লা কবিরের এই বক্তব্যকে না করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন- তিনি অনেক গবেষণা করেছেন, কিন্তু আফসোস তাঁর এ বক্তব্য মোটেও গবেষণাপ্রসূত নয়। ইসলাম ও ইসলামী সংষ্কৃতির একটাই ভার্সন। আর তা হলো কেবলমাত্র মহান আল্লাহ-র ভার্সন যা রব তাঁর মনোনীত সংবাদবাহক নবী-রাসুলদের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে জানিয়েছেন। এর কোন সৌদি, আফ্রিকান, ইওরোপিয়ান, আমেরিকান বা এশিয়ান ভার্সন নেই। কেননা রবের ভার্সন সার্বজনীন। পশ্চিমাদের মতে মানুষ এক সময় বনে-জঙ্গলে বাস করতো তখন তারা প্রাক-সভ্যতার যুগে কাপড়-চোপড় পড়তো না কিংবা গাছ-গাছালির পাতা, ছাল-বাকল দিয়ে কোন মতে লজ্জাস্থান ঢেকে রাখতো। সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে মানুষ সংক্ষিপ্ত পোশাকের বদলে দেহ আবৃতকারী সুন্দর পোশাক পরিধান শুরু করে। আমরা যদি আবার সংক্ষিপ্ত পোশাকে ফিরে যাই তাহলে আমরা গ্রসর হলাম না প্রাক-সভ্যতা বা সভ্যতার আদি যুগে ফিরে গেলাম?

তিনি আরো বলেন- ‘পর্দা মনের ভিতরে, কাপড়ে নয়’ এটি হয় অজ্ঞতা অথবা ইসলামকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন। মহান আল্লাহ সূরা আ’রাফের ২৬ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেছেন, “হে বনী আদম! তোমাদের শরীরের লজ্জাস্থানগুলো ঢাকার এবং তোমাদের দেহের সংরক্ষণ ও সৌন্দর্য বিধানের উদ্দেশ্যে আমি তোমাদের জন্য পোশাক নাযিল করেছি ৷ আর তাকওয়ার পোশাকই সর্বোত্তম ৷ এটি আল্লাহর নিদর্শনগুলোর অন্যতম, সম্ভবত লোকেরা এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে”৷ একই সূরার ২৭ নং আয়াতে মহান রব বলেন,“হে বনী আদম! শয়তান যেন তোমাদের আবার ঠিক তেমনিভাবে বিভ্রান্তির মধ্যে নিক্ষেপ না করে যেমনভাবে সে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত থেকে বের করেছিল এবং তাদের লজ্জাস্থান পরস্পরের কাছে উন্মুক্ত করে দেবার জন্যে তাদেরকে বিবস্ত্র করেছিল ৷ সে ও তার সাথীরা তোমাদেরকে এমন জায়গা থেকে দেখে যেখান থেকে তোমরা তাদেরকে দেখতে পাও না৷ যারা ঈমান আনে না এ শয়তানদেরকে আমি তাদের অভিভাবক করে দিয়েছ”৷

পুরুষের পোশাক ও পর্দা সম্পর্কে মহান রব পবিত্র কুরআ’নে বলেন, “মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানসমূহ হেফাজত করে” (সূরা নূর, আয়াত ৩০)। কুরআ’নের বক্তব্য অনুযায়ি মহিলাদের পোশাকে মাথা, বক্ষ এবং গ্রীবা আবৃতকারী কাপড় থাকতে হবে, “আর হে নবী! মু’মিন মহিলাদের বলে দাও তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানগুলোর হেফাজত করে আর তাদের সাজসজ্জা না দেখায়, যা নিজে নিজে প্রকাশ হয়ে যায় তা ছাড়া৷ আর তারা যেন তাদের ওড়নার আঁচল দিয়ে তাদের বুক ঢেকে রাখে৷ তারা যেন তাদের সাজসজ্জা প্রকাশ না করে”। (সূরা নূর, আয়াত ৩১)।
রাসুল (সা.) কর্তৃক নির্দেশিত নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য পোশাকের আবশ্যিক বিধান হলো –
(১) পোশাক-পরিচ্ছদ টাইট বা আঁটসাঁট হওয়া চলবে না (২) এমন পাতলা বা ফিনফিনে কাপড় পড়া যাবে না যে কাপড় পরার পরও লজ্জাস্থান দেখা যায় (৩) নারী-পুরুষের এবং পুরুষ-নারীর পোশাক পরিধান করতে পারবে না (৪) পুরুষের রেশমি কাপড় পরিধান করা যাবে না (৫) বিজাতীয় পোশাক, অন্য ধর্মাবলম্বীদের নির্ধারিত পোশাক পরিধান করা যাবে না (৬) বেশি চাকচিক্যময় পোশাক পরিধান করা যাবে না, যাতে বিপরীত লিঙ্গকে আকৃষ্ট করে (৭) পুরুষের টাকনুর নিচে পোশাক পরিধান করা যাবে না।

পরিশেষে অধ্যাপক জাকির বলেন- অধ্যাপক নায়লা কবির অন্যান্য বিষয়ে আপনি বরেণ্য গবেষক হলেও পোশাক বিষয়ে আপনার আরও গবেষণা দরকার। আপনার বক্তব্য অনুযায়ি পর্দা যদি মনের ভিতরে হয়, কাপড়ে নয়, তাহলে কাপড় কেন পড়বো? কাপড় খুলে ফেললে অসুবিধা কি? অনেক অর্থের সাশ্রয় হবে বৈকি।
লেখক:
অধ্যাপক, আইন অনুষদ, চবি।
সংকলনে- আমিনুল, স্টাফ রিপোর্টার:

Top